খুলনা-মোংলা রেলসেতু : দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনীতির প্রাণ সঞ্চার

খুলনা-মোংলা রেলসেতু : দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনীতির প্রাণ সঞ্চার

খুলনা-মোংলা রেলসেতু : দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনীতির প্রাণ সঞ্চার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খুলনা থেকে মোংলা রেলসেতু নিশ্চিতরূপেই একটি মাইলফলক। পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে দেশ কীভাবে, কতটুকু অগ্রসর হবে তা নিয়ে ইতোমধ্যেই অনেক হিসাব নিকাশ কিন্তু হয়েছে এবং হচ্ছে। খুলনা-মোংলা রেলসেতুর কারণেও এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে তা কোনো চিন্তা ছাড়াই বলা যায়।

একসময় খুলনাকে বলা হতো শিল্পনগরী। কিন্তু কালের আবর্তে একে একে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুলনা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে গেছে। খুলনা ছেড়ে মানুষ ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় কাজের খোঁজে গেছে। সবাই আশা করছেন পদ্মা সেতুর কারণে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পদ্মা সেতু হলে সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। করোনাকালীন স্থবিরতা কাটিয়ে পুরোদমে শুরু হয়েছে খুলনা-মোংলা রেলসেতু নির্মাণকাজ। বর্তমানে রূপসা নদীতে সেতুর ৭২ ও ৭৪ নম্বর পিলারের পাইলিং কাজ চলমান। দুই মাসের মধ্যে সেতুর সর্বশেষ ৭৩ নম্বর পিলারের কাজ শুরু হবে। এরপর নদীর মধ্যে নির্মিত পিলারের ওপর গার্ডার বসানো হবে। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে রেলসেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। এর সঙ্গে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ এবং পদ্মা সেতুতে যান চলা শুরু হলে দক্ষিণাঞ্চল হবে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল। মোংলা বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল রূপসা রেলসেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার রেলসেতুর মধ্যে রূপসার খুলনা প্রান্তে স্থলভাগের অংশের ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর স্থলভাগে মোংলা প্রান্তে শুরুর অংশে পাইলক্যাপের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেতুর মোট ১৩৪টি পিলারের মধ্যে স্থলভাগে ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নদী অংশে চারটি পিলারের মধ্যে শেষ হয়েছে ৭১ নম্বরটির কাজ।

রেলসেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে চলতি বছরের মধ্যে মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মোংলা বন্দর পুরোপুরি সচল হবে। শিল্পনগরী খুলনা ফিরে পাবে হারানো ঐতিহ্য। খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস বলেন, খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির জানান, পদ্মা সেতু নির্মাণের পাশাপাশি খুলনা-মোংলা রেলপথ তৈরি হলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণসঞ্চার হবে।

খুলনা-মোংলা রেলপথ, পদ্মা সেতু, মোংলা বন্দর, ভৌত অবকাঠামো সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থার সৃষ্টি হবে। শিল্পনগরী খুলনা ফিরে পাবে হারানো ঐতিহ্য। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণ সঞ্চার হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *