খেলাফত মজলিসের আমির হাবিবুর রহমানের ইন্তেকাল

খেলাফত মজলিসের আমির হাবিবুর রহমানের ইন্তেকাল

 সৈয়দ আবিদ : কয়েকমাস আগে উলামায়ে কেরাম ও কওমি শিক্ষার্থীদের এক মজলিসে মাওলানা হাবিবুর রহমান রহ.এর সাথে দেখা হয়। ওই মজলিসে হজরতকে বলতে শুনেছি- কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের আরো বেশি যোগ্য হওয়া উচিৎ! তিনি বলেছিলেন, বর্তমানে ক্বাহতুর রিজাল চলছে৷ কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সব দিক থেকে যোগ্য হয়ে উঠলে আমরা কবরে আরামে ঘুমাতে পারবো। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঠিকই তিনি প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে আরামে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছেন।

বিশিষ্ট এই ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোফাসসিরে কুরআন, ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য নিজের রক্তকে পানি করেছিলেন যিনি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান (৬৯) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। শুক্রবার বিকেল ৩:৩০ মিনিটে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে মাওলানা হাবিবুর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস ও হাই প্রেশারসহ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৭ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে অনেকটা সুস্থ হয়ে তিনি গত মঙ্গলবার দেশে ফেরেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তিনি মাদরাসায়ও যান।

বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত নগরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়। ১৯৯৪ সালে দেশের নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারাদেশে আলোচিত হন প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান। তার সংগঠন সাহাবা সৈনিক পরিষদের ব্যানারে সিলেটে অসংখ্য সভা-সমাবেশ করেন। তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন।

এছাড়াও দেশের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনের কারণেও তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি পান। ১৯৭৪ সালের জুনে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদরাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদরাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ জাগতিক বিষয় যুক্ত করে নতুন ধারার সূচনা করেন। অবিভক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ খেলাফত মসজিলের আমির নির্বাচিত হন প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান। ২০১২ সালে ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক মৃত্যুবরণ বরণ করার পরে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে দলের আমির নিযুক্ত হন মাওলানা হাবিবুর রহমান।

১৯৪৯ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ঘনশ্যাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা হাবিবুর রহমান। কওমি মাদরাসার প্রধানের পরিচয় মুহতামিম হলেও তিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন প্রিন্সিপাল হিসেবে। তিনি কওমি মাদরাসায় পড়ালেখার পাশাপাশি দেশের প্রাচীনতম আলিয়া গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি মাদরাসায় ফাজিল পর্যন্ত পড়েন। পরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করেন। হজরতের হাতেগড়া হাজার হাজার ছাত্র এখন পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে৷ হজরত আপনি আরামে ঘুমান৷ দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন৷

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *