ঘরের মাঠে উড়ে গেল রিয়াল

ঘরের মাঠে উড়ে গেল রিয়াল

ক্রীড়া ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বুধবারের রাতটা অঘটনের রাতই বলা চলে। রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কোনভাবেই তা সুখকর ছিলো না। শুরু থেকে শেষ…খেলায় ফিরতেই পারল না রিয়াল! পুরো ম্যাচেই যেন তাদের কোথাও সেই দুর্দম নেই। গোল মিসের পসরা সাজিয়ে বসে শেষ পর্যন্ত খেসারত দিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। আগেই নকআউট নিশ্চিত হয়েছে রিয়ালের। তাই বলে সিএসকেএ মস্কোর মতো দলের কাছে ৩-০ গোলের হার! এই রাতেই ধরাশয়ী হয়েছে আরেক জায়ান্ট। ইয়াং বয়েজের মাঠে গিয়ে হেরেছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জুভেন্তাস। আর রিয়ালের কথা তো বলাই হলো। কি রকম ছন্নছাড়া ছিলো দলটি। ঘরের মাঠেই উড়ে গেছে রোনালদোরই সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে এর আগে ৩৩ ম্যাচের একটিতে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেনি সোলারির শিষ্যরা। ওই ম্যাচটি এই মস্কোর বিপক্ষেই। চলতি মৌসুমেই ম্যাচটি রিয়াল হেরেছিল ১-০ গোলের ব্যবধানে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে নেমেছিল সান্তিয়াগো সোলারির দল। কিন্তু রাশান এই ক্লাবটি কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে মাঠ ছাড়ে সার্জিও রামোসরা। অবশ্য এই হারের পরও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নক আউট পর্বে গিয়েছে তারা। নক আউট পর্বে তাদের সঙ্গী রোমা।

শেষবার ২০০৮-০৯ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্বে জুভেন্টাসের কাছে দুই লেগে হেরেছিল রিয়াল। দশ বছর পর এবার জুভেন্টাসের হয়ে কাজটি করল সিএসকেএ। রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে হারের পর নিজেদের মাঠে আরও বেহাল দশা রিয়ালের। রীতিমতো টালমাটাল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নেরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠলেও লা লিগায় আগের ম্যাচে হুয়েস্কার বিপক্ষে ‘ঘাম ঝরানো’ জয়ের পরে, মস্কোর মতো দলের কাছে দুই লেগেই এভাবে ধরাশায়ী! ঝড়ের পূর্বাভাস নয় তো?

এদিন অবশ্য তরুণ খেলোয়াড়দের দিয়ে রক্ষণ সাজিয়েছিলেন সোলারি। বেঞ্চে ছিলেন লুকা মদ্রিচ ও গ্যারেথ বেলরাও। তবে পুরো ম্যাচেই আধিপত্য নিয়ে খেলেছে রিয়ালই। ম্যাচের ৬৯ ভাগ সময়ই বল দখলে ছিল স্বাগতিকদের। গোল মুখের শটেও এগিয়ে ছিল বিস্তর। পুরো ম্যাচে মস্কোর গোলমুখে ১৯টি শট নেয় রিয়াল। যার মধ্যে ৬টি ছিল টার্গেটে। কিন্তু একটিও অতিথিদের জালের দেখা পায়নি।

খেলার ২৪তম মিনিটে গোলের প্রথম সুযোগ পায় রিয়াল। দুইবারের চেষ্টাতেও সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি অ্যাসেনসিও-ভিনিসিউস জুনিয়র। ভিনিসিউস জুনিয়রের শট আটকে দেন মস্কোর গোলরক্ষক। ফিরতি বলে শট করেন মার্কো অ্যাসেনসিও। তাও গোলবারে লেগে ফিরে আসে। মিনিট দু-এক পর ফের গোলের সুযোগ নষ্ট করেন অ্যাসেনসিও। এবার তাঁর সঙ্গী বেনজেমা।

রিয়াল খেলোয়াড়দের গোল মিসের ‘উৎসবে’ অতিথিরা অপেক্ষায় শুধু একটা ভালো মুহূর্তের। রিয়ালের গোলমুখে মস্কোর নেওয়া ১৩ শটের মধ্যে ৫টিই ছিল টার্গেটে। যার মধ্যে ৩টি গিয়ে পৌঁছেছে রিয়ালের জালে। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে এগিয়ে যায় মস্কো। মিডফিল্ডার আর্নর সিগুর্দসনের বাড়ানো বল ডি-বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড ফিওদোর শেলভ। প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগে আরও একবার বার্নাব্যুতে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। এবার রিয়াল সমর্থকদের বুকে ছুরি চালান শেচেনিকভ। প্রথম চেষ্টায় চালোভের শট আটকালেও ফিরতি বলে শেচেনিকভের নেওয়া শটে কিছু করার ছিল না রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের নামিয়েও ব্যবধান কমাতে পারেনি সোলারির শিষ্যরা। ৭৩ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে বসে। শিগার্ডসনের আড়াআড়ি শটে রিয়ালের পরাজয় নিশ্চিত হয়। ততক্ষণে খালি হতে শুরু করে গ্যালারিও। এ জয়ে অবশ্য সিএসকেএ মস্কোর কোনো লাভ হয়নি। গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হচ্ছে রাশিয়ার ক্লাবটিকে। ‘জি’ গ্রুপ থেকে রিয়ালের আরেক সঙ্গী ইতালিয়ান জায়ান্ট রোমা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *