ঘরে বসেই শবে বরাত পালনের আহ্বান বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র শবে বরাতে ঘরে বসে ইবাদত করতে মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জমিয়ত চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে আল্লামা মাসঊদ বলেন, প্রিয় দেশবাসী। শবে বরাতের ইবাদত-বন্দেগি ঘরে বসেই করুন। এরাতে বিশেষ গুরুত্ব আছে। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল নামাজ ও দুআ করে ইসালে সওয়াবের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এসব ইবাদত ঘরে থেকেই উত্তমভাবে করা যায়। আর কবরস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের মতামত হচ্ছে, প্রত্যেক শবে বরাতে কবরস্থানে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা শরিয়তের দৃষ্টিতে আবশ্যক নয়।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে বসে ইবাদত করে শবে বরাত পালনে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য ইবাদতে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ঘোরাঘুরি করা, শোরগোল করা শরীয়ত ও আইন বিরোধী।
অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী এই ভাইরাস একে অপরের কাছে মুসাফাহা করা, এমনকি কোন জিনিস স্পর্শ করা ও সেই বস্তুকে অন্যের স্পর্শের কারণে ছড়াতে পারে। যেখানে মানুষের জমায়েত হয়, সেখানে আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকা আছে। এমন পরিস্থিতিতে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে ইবাদত ও মানব জীবনের হেফাজতের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা।
১। শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছুতেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, বরং ঘরে থেকেই নিজকে ইবাদত ও জিকির-আজকারে মশগুল রাখা।
২। গাড়িতে চড়ে সড়কে ঘুরাঘুরি করবে না আতশবাজির মত শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।
৩। কবরস্থানে না গিয়ে নিজের মৃত আত্মীয়স্বজনের জন্য ঘরে বসেই ঈসালে ছওয়াবের প্রতি মনোনিবেশে গুরুত্বারোপ করবে।
৪। ফরজ নামাজের জন্য মসজিদে যাবে না, বরং ঘরে বসেই ফরজসহ সকল নফল নামাজ আদায় করবে।
৫। প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে তওবা ইস্তিগফারের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখবে। এই সময়টাকে অহেতুক অশ্লীল কাজে ব্যয় না করে সৎকাজে আত্মনিয়োগ করবে।
৬। দান-সদকার ব্যাপারে খুব খেয়াল দিবে। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা অভাবী, দিন আনে দিন খায়, তাদের সাহায্যের এগিয়ে আসবে।
৭। তাহাজ্জুদের প্রতি যত্নবান হবে। আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে মাফ চাইবে। দেশ ও জাতীর কল্যাণে এই প্রাণঘাতি ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দুআ করবে।
৮। মসজিদের মুয়াজ্জিন-ইমাম সাহেবগণ, এলাকার জিম্মাদার ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার স্থানীয় দায়িত্বশীলদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দা, বিশেষ করে যুবকদের ঘরে থাকার ব্যাপারে উদ্ভুদ্ধ করবেন। তারা যেন রাস্তায় ঘোরাঘুরি না করে ঘরে থাকে।
৯। প্রতিদিন দুইবার সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত ও দুইবার সালাতু তাসবিহ আদায় করার চেষ্টা করবে।


