সত্যকথন। মাসউদুল কাদির
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল : তাওবাই মুক্তির পথ
ভয় আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল খুব কাছে এসে কড়া নাড়ছে। সমূহ বিপদের দ্বারপ্রান্তে দেশ। উপকূল এলাকায় ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এই বিপদে আমাদের করণীয় কী? মহান আল্লাহই একমাত্র ভরসা। আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ছাড়া বাস্তবে বান্দার আর কোনো উপায় নেই। পৃথিবীর তাবৎ মানুষই আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। দুর্ভাগ্য হলো, আমরা কখনোই শিক্ষা লাভ করি না। যুগে যুগে বছরে বছরে এমন ঘূর্ণিঝড় তো কম আসেনি। এমন ভূকম্পন তো কম হয়নি, এমন সুনামী তো আমরা আরও অনেক দেখেছি। কিন্তু আমাদের হৃদয়ের পরিবর্তন কতটুকু হয়েছে? হৃদয়কে বদলানো দরকার। দিনবদলের আগেই হৃদয়ের পরিবর্তন সত্যিকার অর্থেই জরুরি।
ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায় যে, ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৫৪ কিলোমিটার-এর বেশি গতিসম্পন্ন ১৭৪টি ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তার মধ্যে জানুয়ারিতে ১টি, ফেব্রুয়ারিতে ১টি, মার্চে ১টি, এপ্রিলে ৯টি, মে মাসে ৩২টি, জুনে ৬টি, জুলাই মাসে ৮টি, আগস্টে ৪টি, সেপ্টেম্বরে ১৪টি, অক্টোবরে ৩১টি, নভেম্বরে ৪৭টি এবং ডিসেম্বর মাসে ২০টি ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা ঘটে। এ তথ্য থেকে বোঝা যায় মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়গুলো প্রধানত প্রাক-বর্ষা মৌসুম (এপ্রিল-মে) এবং বর্ষা-উত্তর সময়ে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) বেশি ঘটেছে এবং এগুলোই ছিল সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক। তবে ঘূর্ণিঝড়গুলোর সবকটি বাংলাদেশে আঘাত হানেনি।
এবার কিন্তু বাংলাদেশও আঘাতের লক্ষ্যস্থল। বুলবুল নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। আবার প্রবল শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানতে পারে। সবাইকে সহযোগিতার মানসিকতা পোষণ করা উচিত।
পৃথিবীর যে মানুষটিই আঘাতপ্রাপ্ত হোক না কেন সেই আমার ভাই। ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দেয়। এভাবে বুলবুলিতে ধান খেয়ে যাবে কিন্তু আমরা কোনো শিক্ষা নেবো না তা হয় না। আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে আমাদের দায়িত্বটুকু বুঝে নেয়া উচিত। যে হারে দুর্নীতি আমাদের গ্রাস করছে, তাতে আল্লাহর গজব থেকে যে আমরা বেঁচে আছি তা-ই বড় একটা অনুদান। অনেক বড় কৃপা মহান মাবূদের। অন্তত এই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর আক্রমণের প্রাক্কালে আমরা কড়জোরে মহান প্রভুর কাছে ফিরে আসি। ফাফিররু ইলাল্লাহ। আল্লাহ তাআলা সবসময় বান্দাকে ডাকেন। উদউ ইলা সাবিলিক।
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ তায়ালার হুকুম ব্যতীত কোনো বিপদই আসে না। (অর্থাৎ সকল বালা-মুসিবত বিপদাপদ একমাত্র সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার আদেশানুযায়ী এসে থাকে) এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে সে তার অন্তরকে পথ প্রদর্শন করে, আর আল্লাহ সব বিষয়ে মহাজ্ঞানী। [ সূরা তাগাবুন : ১১]
আমরা মানুষ। আল্লাহর দেখানো পথে কতটুকু চলতে পারি, তা সব্বাই ভালো করেই জানি। অনেক ক্ষেত্রে এই মানুষই বলে থাকেন, পাপ বালিগ হয়ে গেলে আল্লাহর গজব আসে। সাধারণ জনগণও ওই সমাজ নেতাকে চায় না, যে দুর্নীতি করে, জুলুম করে। তার পরিবর্তন চায়। আমাদের সমাজ প্রকৃত অর্থেই প্রচণ্ডতর অমানুষদের দৌরাত্ম্যে ছেয়ে গেছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্যই আমাদের তাওবা করা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা সৎ কাজ কর তবে তা তোমাদেরই উপকারার্থে, এর ফল তোমরাই ভোগ করবে। পক্ষান্তরে যদি তোমরা অন্যায় কাজে লিপ্ত হও তবে তার শাস্তিও তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে।’ [বনি ইসরাইল : ৭]
তাওবার বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর হানা থেকে বাঁচান। তিনি ছাড়া আর কেউ বাঁচাতে পারবে না। যতই সাইক্লোন শেল্টার থাকুক না কেন। অনেকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতও আছেন। কিন্তু এরা জানেই না, আল্লাহর গজব এলে কেউ্র বাঁচতে পারে না। তার কাছেই ক্ষমা চাইতে হয়। এটা মোকাবিলার বিষয় নয় বরং অন্যের সেবায় নিয়োজিত থাকার বিষয়। যাতে মহান আল্লাহর সাহায্য রয়েছে। যারা পরের সেবায় এগিয়ে যান তাদের আল্লাহও পছন্দ করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের রহম করুন। আমীন।
লেখক : সাংবাদিক


