চেনেন সাহাবী বৃক্ষ, এখনো সতেজ নবীজীর বিশ্রামের স্মৃতি

চেনেন সাহাবী বৃক্ষ, এখনো সতেজ নবীজীর বিশ্রামের স্মৃতি

চেনেন সাহাবী বৃক্ষ, এখনো সতেজ নবীজীর বিশ্রামের স্মৃতি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কোনো মানুষ বেঁচে নেই। তবে এই আকাশ, এই বাতাস, এই মাটি এখনো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। যারা আমাদের প্রিয় নবীজীকে দেখেছিল। অবাক হওয়ার কিছু নেই, এই মাটিতে এখনো দাঁড়িয়ে সাহাবা বৃক্ষ। যে গাছ আমাদের নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে। ছায়া দিয়েছে। তিনি এই বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম নিয়েছেন। কী মমতার ছায়া, কী জাদুকরি শক্তি এইগাছের। এখনো এ গাছ বড়ই সজিব, সতেজ। কোনো ক্লান্তি নেই গাছটির।

আমরা বলে থাকি, বৃক্ষ তোমার ফলে পরিচয়। কিন্তু এই সাহাবা বৃক্ষের আসল পরিচয় হলো এই গাছ নবীজীকে দেখেছে। নবীজীর দরশন লাভ করেছে। যার বয়স আনুমানিক দেড় হাজার বছর। ইসলামি ঐতিহ্যবাহী এই গাছটির নাম ‘সাহাবী বৃক্ষ’। ইংরেজিতে বলা হয় ‘দ্য ব্লেসড ট্রি’। অনেকের মতে, সম্ভবত পৃথিবীর সবথেকে প্রাচীনতম গাছ এটি। অর্থাৎ বর্তমান বিশ্বে এত বয়স্ক গাছ কোনও দেশে নেই। মহানবী সা.-এর স্মৃতিবিজড়িত এই গাছটি এখনও জীবিত রয়েছে জর্ডনের উত্তর দিকের মরুভূমিতে। আশ্চর্যের বিষয় হল, ধূ-ধূ মরুভূমি অঞ্চলে ১৫০০ বছর ধরে দণ্ডায়মান এই এর আশপাশের শতাধিক বর্গকিমি এলাকায় আর কোনও গাছ নেই। কথিত আছে, বাল্যকালে চাচা আবু তালিবের হাত ধরে জর্ডনের এই উত্তপ্ত বালুময় মরুপথ ধরেই মক্কা থেকে পদব্রজে সিরিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

প্রখর রোদে মরুভূমির বালি প্রচণ্ড গরম হয়ে যাওয়ায় ৮-১০ বছরের বালক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে একটানা হাঁটা সম্ভব ছিল না। তাই চাচা-ভাইপো এই শুকনো গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। তখনই আল্লাহর নির্দেশে শুকনো পাতাঝরা মৃতপ্রায় গাছটি এক লহমায় সবুজ হয়ে ওঠে। বইতে শুরু করে মৃদুমন্দ বাতাস। যাতে ঘাম শুকিয়ে খানিকটা পর আবার হাঁটা শুরু করেন দামাস্কাস অভিমুখে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর চাচা বৃক্ষতলে বসে থাকাকালে দূর থেকে এই মোযেজা প্রত্যক্ষ করেন এক খ্রিস্টান পাদ্রী। জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে ঘণ্টা দু’য়েকের পথ পেরোলে এই গাছ দেড় হাজার বছর ধরে পৃথিবীর বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী। কিন্তু শুকিয়ে যাওয়া গাছটির ডালপালা কীভাবে চোখের নিমিষে সবুজ পাতায় ঢেকে গেল, এ প্রশ্ন তাঁকে কৌতূহলী করে তোলে। পায়ে পায়ে এগিয়ে যান গাছতলায়। চাচা আবু তালিবকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, সঙ্গে থাকা শিশুটির নাম কী। তার পিতা-মাতার পরিচয় জানতে চান। জানার পর পাদ্রী জার্জিস বাহিরা বলেন, আমি নিশ্চিত যে এই বাচ্চাই সেই শেষ পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যাঁর বর্ণনা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলে আমি পড়েছি। আবু তালিবকে তিনি পরামর্শ দেন, ভবিষ্যতের নবী এই বালককে আগলে রাখবেন। ওকে কোনওদিন দুঃখ বা কষ্ট দেবেন না।

গাছটি দেখতে এখনও প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। তাই জর্ডান সরকার গাছটিকে দূর থেকে ধাতব বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। বিস্তীর্ণ মরুভূমির মাঝে যেন এই একটি মাত্র গাছ মরুদ্যান হয়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও গাছটির কোনও ক্ষতি করতে পারেনি। ইতিহাসের বিবরণ থেকে জানা যায়, মার্চ মাসের এক দুপুরে এখান দিয়ে যাচ্ছিলেন বালক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর চাচা। জানা যায়, এখান থেকে চলে যাওয়ার আগে গাছটির জন্য দোয়া করেছিলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *