ছেলেবেলার স্মৃতি আর ফিরে আসে না

ছেলেবেলার স্মৃতি আর ফিরে আসে না

ছেলেবেলার স্মৃতি আর ফিরে আসে না

মুস্তাফা জামান আব্বাসী : আমার কত কিছু লিখতে ইচ্ছে করে। এটাই আমার আরাম। এটাই আমার জীবনকে প্রবহমান রেখেছে। আমি কারও কাছে কিছু চাই না। কারও কাছে আমার ধার নেই। একটি পয়সাও নেই। আমি অনেকের কাছে টাকা পাব। সে টাকা খুব একটা কম নয়। চার-পাঁচটা বাড়ি বানান যায়। আমাকে অনেকে ফোন করে। জমি কিনব কি না। আমি আর জমি কিনব না। আমার শেষ জমিটা আমি কিনে রাখব না। এর প্রয়োজন নেই। আমার শেষ বিশ্রামের জায়গা যদি নদীতীরে হত, খুব ভাল হত। আমি পাহাড়ে যেতে ভালবাসি।

সবসময় আমাকে পাহাড় হাতছানি দিয়ে ডাকে। বিশেষ করে দার্জিলিংয়ের পাহাড়। আমি ঘুমুবার আগে সেখানে বেড়াতে যাই। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমার সঙ্গে খেলা করে। ওদের সঙ্গে আমি তিন রাউন্ড ম্যাল ঘুরে আসি। ক্লান্ত হই না। আমি খানিকক্ষণ বসে থাকি। ঐ বেঞ্চে অনেক বছর আগে আমার আব্বা বসে ছিলেন। তার সঙ্গে নজরুল। এ ছাড়া ডোমার রেল ষ্টেশন মাষ্টার আবুল হোসেন।

ম্যাল থেকে সোজা ঘোরান সিঁড়ি বেয়ে নিচে মার্কেটে যাওয়া যায়। সেখানে পাওয়া যায় মটরশুঁটি, স্কোয়াশ, আপেল, নাসপতি ও পাহাড়ি পেয়ারা। এখনও আমার মন সেই মার্কেটে চারদিকে ঘোরাফেরা করছে। এর চেয়ে ইন্টারেষ্টিং মার্কেট আর হয় না। এখান থেকে আমার আব্বা চারটি কোট কিনে ছিলেন বা বানাতে দিয়েছিলেন একই কালারের একই ডিজাইন। একটি আমার, একটি আব্বার, একটি বড় ভাইয়ের, একটি মন্টু ভাইয়ের [কবি গোলাম মোস্তাফার ছেলে], একটি ডোমারের ষ্টেশন মাষ্টার আবুল হোসেনের। একই কোট। বেশ গরম।

এরপরেও সে মার্কেটে গিয়েছি। আর তেমন লাগে নি। ছেলেবেলার স্মৃতি আর ফিরে আসে না। দার্জিলিংয়ের সবগুলো দর্শনীয় জায়গা আমার নখদর্পণে। সেখানে আমি এখনই যেতে পারি। কুচবিহারের মহারাজার বাড়িটি সবচে’ দর্শনীয়। টাইগার ফলস থেকে সুন্দর দেখা যায়। একদিন আব্বাকে বললাম, আব্বা, আমরা তো ইচ্ছা করলে মহারাজার বাড়িতে থাকতে পারি। আমরা কুচবিহারের লোক। আব্বা বললেন, নিশ্চয়ই বড় হলে থাকবে। মহারাজা আমাকে খুব ভালবাসেন। দেখ না ওনার ক্লাবের পেছনেই আমাদের কত বড় বাড়ি। মহারাজা রোজ আমাদের বাড়ি দেখতেন। একদিন দাওয়াত দিয়েছিলেন। আমরা সবাই গান গেয়েছিলাম। মহারাজা আমাকে আদর করেছিলেন। পোলো খেলতে গিয়ে মহারাজা ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু।

কলকাতায় যখন যাই ক্যালকাটা ক্লাবে আমার যাতায়াত। এ ছাড়া রোটারি তো আছেই। আমাকে অনেকে প্রিন্স অফ কুচবিহার বলে সম্বোধন করত। তা তো নয়। আমি ছিলাম সত্যিকার কুচবিহারের ছেলে।

মু. জা. আ.
২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *