জমিয়তুল উলামার সাফল্য ও কীর্তি যেখানে
যেখানে পথিকৃৎ কুমিল্লা
মুহাঃ সারোয়ার আলম ভুইয়া : জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার একটি ডিজিটাল ব্যানার চোখে পড়ল।দাঁড়িয়ে পড়তে শুরু করলাম।বাদ আছরের পড়ন্ত বিকেল।কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিশাল মনোমুগ্ধকর সাজানো গুছানো ক্যাম্পাস।বাহারী বৃক্ষরাজীর বিশাল সমারোহ।বিকেলে অনেকেই হাঁটতে আসে এখানে।ছাত্রছাত্রী ছাড়াও শিশু কিশোর আবাল বৃদ্ধ বণিতার অভাব নেই।অলস ভঙ্গিতে হাঁটার মধ্যে থমকে দাঁড়ানো।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ বিতর্ক পরিষদ আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা। জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ একটি কলেজ হলেও আয়োজন করছে ‘আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা’। প্রায় ৩২টি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা এখানে অংশগ্রহণ করছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান একটি মফস্বল শহরের কলেজের অঙ্গসংগঠন মাত্র! কি এক বিশাল উৎসবের আয়োজন করলো! একেই বলে পথিকৃৎ কুমিল্লা। কুমিল্লা পথ প্রদর্শক। অন্যান্য জেলা যে কাজ পারে না, কুমিল্লা তা পারে।
উপরোক্ত কথাগুলো আমার মূল বক্তব্য নয়; বক্তব্য হলো, জঙ্গিবাদ, মাদকবিরোধী কর্মসূচি নিয়ে “বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা” সারা দেশব্যাপী সভা-সমিতি -সেমিনার-ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ও মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে দেশ ও জাতিকে সচেতন করার জন্য, বিশ্বব্যাপী শান্তির দূত আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দাঃবাঃ দেশব্যাপী যে সফর করেছিলেন আমিও হযরতের সফরসঙ্গী ছিলাম।প্রায় ২০টি জেলায় এ কর্মসূচি নিয়ে সফর করেছিলেন, শোলাকিয়া ঈদ গাহের এই গ্রান্ড ইমাম।
জঙ্গিবাদবিরোধী যে ফতোয়া লক্ষাধিক আলেম উলামার স্বাক্ষর সম্বলিত পুস্তিকাটি তিনি সে সফরে বিলি করেছিলেন সে ফতোয়ার ফল আজ দেশবাসী ভোগ করছে।সেই বইয়ের উদ্বৃতি দিয়ে বক্তব্য রাখছেন কুমিল্লার এস পি মহোদয়।কলেজ অডিটরিয়ামে ‘জঙ্গিবাদ ও মাদক’ বিরোধী উৎসবের উদ্বোধনী বক্তব্যে তাঁর বহির্প্রকাশ ঘটে।জমিয়ত ও আল্লামা মাসঊদ এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমান সময়ে যদিও জঙ্গিপনা অনেকটা কমে এসেছে।আমার বিশ্বাস এক সময় জঙ্গিপনার বিষবৃক্ষের কোনোন শিকড় খোঁজে পাওয়া যাবে না এই বাংলাদেশে।
লেখক : আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা কুমিল্লা জেলা


