জলবায়ু নয়, পাপবায়ুতে শেষ হবে পৃথিবী

জলবায়ু নয়, পাপবায়ুতে শেষ হবে পৃথিবী

জলবায়ু নয়, পাপবায়ুতে শেষ হবে পৃথিবী

মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো পৃথিবী। একটার পর একটা দুঃসংবাদে আতঙ্কিত মানবকুল। দেশের পর দেশ, মহাদেশ থেকে মহাদেশ প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস নামক গজব। গুটিকয়েক রাষ্ট্র ছাড়া ধীরে ধীরে গিলে ফেলছে গোটা দুনিয়া। আজকের ও ভবিষ্যতের বিপর্যয়ের জন্য অনেকে দোষারোপ করছে জলবায়ুর পরিবর্তনকে। গ্রেটা থুনবার্গ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যখন বিশ্বের তাবড়-তাবড় প্রেসিডেন্টদের সামনে জালবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলা না করার ক্ষতি তুলে ধরছে। তারও কয়েক বছর আগ থেকে স্বজাতির সামনে নিজেদের গুনাহের ভয়াবহতা তুলে ধরছিলেন বাংলাদেশের প্রবীন, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন আলেমেদ্বীন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ [দা.বা.]। সারা বাংলাদেশ সফর করে জাতিকে বুঝাচ্ছিলেন এখনও বুঝাচ্ছেন আমাদের পাপের কারণে আজকে পৃথিবীর বাতাস ভারী হয়ে গেছে। সুতরাং তওবা, ইস্তিগফার আর জিকিরের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর বাতাসকে ভারী করতে হবে। আমাদের এক ও নেক হতে হবে।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে আজকের করোনা আমাদের হাতের কামাই। মুসলমান মাত্রই একথা সহজে বুঝতে শুরু করেছে। তারপরও এখনও আমাদের আচরণ, চাল-চলন বরাবর ফজু দাদার মত। চোখের সামনে আজাব দেখেও আমরা সতর্ক হচ্ছি না। আল্লাহমুখী হচ্ছি না।

প্রিয় পাঠক! ফজু দাদার গল্পটা কি, জানতে মন চায় না?

নিশ্চয়! নিশ্চয়ই!! আসুন তাহলে জানি।

: ফজু দাদা তোমার বয়স কত?
: ৬৫ বছর।

: এই মরার বয়সেও তুমি যে নারীকূলের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাক শরম করে না?

: পাভেল, এতে শরমের কি আছে দাদু? আল্লাহ চোখ দিছেন দেখার জন্য, না দেখলে চোখের যে অবমাননা হয়।

শোন, আমি বুড়া হতে পারি আমার মন, চেতনা, দৃষ্টির গভীরতা সেই আগের মতই সবুজ সতেজ আছে। তাইতো চৌদ্দগ্রামের কোন বুড়ী, মহিলা, মেয়ে আমার চোখের চাহনি থেকে নিস্তার পায় নাই। পাভেল, তুই কি আমার দুঃখের কাহিনীগুলো শুনবি?

: তোমার আবার কিসের দুঃখের কাহিনী! তুমি তো সদা সর্বদা সতেজ, সজীব, তাজা!!

: আছে আছে, অনেক কষ্টের কাহিনী আছে। সতেজ, সজীব তো হলাম সেদিন যেদিন ইন্ডিয়ান টিভি সিরিয়াল, বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতার মত ধামাকা অফার দেশে শুরু হল।

তার আগে পালিয়ে পালিয়ে দেখতাম বেড়ার ফাক দিয়ে, টিনের ফুটো দিয়ে, শীতের দিন কাথা মুড়ি দিয়ে আরো কত পদ্ধতিতে, আর এখন তো তোরা সোনালী যুগে আছিস।

: ছি ছি দাদু তোমার দেখি মরনের কোন ভয়ই নাই!

: মরনের ভয় নাই একথা ভুল বলছিস আছে। তবে তা ক্ষীণ, পঞ্চাশ বছরের পাপের নিচে ঢাকা পড়ে আছে।

: এখনো তওবার সময় আছে তওবা কর নইলে কিন্তু পস্তাতে হবে।

: এই জীবনে কত হাজারবার যে তওবা করেছি তার শেষ নেই, যখনই ইমাম সাহেবের বয়ান তখনই ঝটপট তওবা, বয়ান শেষ ফজুর বেলুনের হাওয়া ও শেষ, তা ছাড়া নিত্য নতুন পোশাকের বর্ণিল সাজে অনটাইম তওবা টেকে দাদু তুই বল?

: ফেরেশতারা কিন্তু চোখে অনটাইম সিসা ঢালাই দিবনা ফুলটাইম দিব তখন তোমার বর্ণিল সাজ কোথায় যে যাবে খুঁজেও পাবে না।

: আচ্ছা দাদা পাভেল, তওবা আর পর্দাকি শুধু তোর ফজু দাদার জন্য মহিলাদের জন্য কি পর্দা নাই, ওরা তো বোরকার ভেতর দিয়ে দেখে হা! হা!! হা!

: পর্দা সকল মুসলিম নর নারীর জন্য, যে লঙ্ঘন করবে তাকেই তওবা করে পাপ মোচন করতে হবে। আর মহিলারা বোরকার ভেতর দিয়ে পুরুষ দেখে এটা তুমি কিভাবে বললে, সবাই তোমার মত না বুঝলে দাদা?

: দাদা পাভেল, আমার এই দীর্ঘ জীবনে কয়েক জেনারেশন আমি পাইছি, কিন্তু কেউ তোর মত ফাইভজি স্পিডের পাই নাই। দেখি লংটাইমের একটা তওবা করতে হবে, বয়স তো আর কম হল না।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *