জিহাদের ক্ষেত্রে দুই বিশ্ববরেণ্য আলেমের একই চিন্তা
মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী :: বর্তমান ইসলামী বিশ্বের মুখপাত্র জাষ্টিস তকি উসমানী , পাকিস্তান। আরেকজন হলেন, ইসলামী বিশ্বের পরিচিত মুখ, দারুল উলূম দেওবন্দের সূর্য সন্তান আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ।
এই মহারথিদ্বয়ের চিন্তা- চেতনার বড্ড মিল পাওয়া গেল। সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ আর জিহাদ সম্পর্কে উভয় আলেমের বক্তব্য একই। কোন পার্থক্য নেই দুজনের কথার।
জিহাদের সাথে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদকে গুলিয়ে ফেলেছে এক শ্রেণির অপরিপক্ক লোক। ওরা জঙ্গিবাদকে জিহাদ বলে চালিয়ে দিতে চায়।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ কয়েক বছর ধরে এই খেলা চলছে।বিভিন্ন দেশে এক ধরনের বিপথগামী লোকেরা জিহাদের সাথে সন্ত্রাসকে মিলিয়ে দিয়ে জিহাদের মত পুতঃ পবিত্র জিনিসকে কলুষিত করেছে। জিহাদকে বিতর্কিত করে ফেলেছে। অথচ জিহাদ ভিন্ন জিনিস আর জঙ্গিবাদ- সন্ত্রাসবাদ ভিন্ন। জিহাদের সাথে জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক নেই।
এই বিষয়টি নিয়ে এ দেশে সর্ব প্রথম মুখ খুলেছিলেন, বর্তমান বিশ্বের এক খ্যাতনামা আলেম, উলামায়ে কেরামের অহংকার, আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ সাহেব। তিনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক লক্ষ আলেমের ফতোয়া সংগ্রহ করেছিলেন। যে ফতোয়া দারুল উলূম দেওবন্দ, মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীসহ বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম স্বাক্ষর করেছিলেন।
এই ফতোয়াকে কেন্দ্র করে আল্লামা মাসউদ সাহেবের উপরে কিছু লোক ঝড় তুলে দিয়েছিল। সমালোচনায় জর্জরিত করেছিল। অনেকে নানান ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
অবশ্য আল্লামা মাসউদের সেই এক লক্ষ আলেমের ফতোয়া বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্বব্যাপি সমাদৃত হয়েছে। যদিও আল্লামা মাসঊদ সাহেব কিছু আনপড় লোকের চোখের কাঁটা হলেও, সেই ফতোয়া দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে যথেষ্ট।
বাকি ছিলেন পাকিস্তানের আল্লামা তকি উসমানী। যিনি ইসলামী বিশ্বের একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। অনেকে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তিনি কি বক্তব্য দেন। অবশেষে আল্লামা তকি উসমানী সাহেব তিনিও আল্লামা মাসঊদ সাহেবের মত অনুরূপ বক্তব্য দিলেন।
জিহাদের সাথে সন্ত্রাস – জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক নেই। বর্তমানে এক শ্রেণির বিপথগামী লোক যে তরিকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করছেন, সেটা কোন জিহাদ নয়। জিহাদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর যে নির্দেশনা ছিল, তার কোন কিছু এই সব লোকের মধ্যে নেই।
এরা সুস্হ সমাজকে বিনষ্ট করছে। এরা নারী শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্হ ব্যক্তিদের উপর হামলা করছে। অথচ শরীয়াতে এসব মানুষের উপর হামলা করার অনুমতি নেই।
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে কতিপয় বিপদগামী লোক। কেননা তাদের কার্যক্রমগুলো মার্জিত নয়। বিভিন্ন স্হাপনা ধ্বংস, নিরীহ মানুষের ওপর চড়াও হওয়া, এরকম বহু অপকর্মের সাথে তারা জড়িত। আর এটাকে জিহাদ বলে চালিয়ে দিতে চায়।
অবশ্য যারা সমঝদার আলেম, তাদের সমর্থন কখনো তারা পায়নি। ওরা সমাজের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কোন আলেম কিন্তু তাদের বক্তব্য সাপোর্ট করেননি।
তবে কেন যেন আলেম সমাজ সরাসরি তাদের কে ফেরানোর ব্যাপারে কড়া ভাবে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব একজন বিচক্ষণ আলেম। তাঁর জ্ঞান- গরিমা ঈর্ষনীয় পর্যায়ের। তিনিই সর্ব প্রথম জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক লক্ষ আলেমের ফতোয়া সংগ্রহ করে দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন।
এখন আল্লামা তকি উসমানী সাহেবের জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্যে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের ফতোয়া আরো শক্তিশালী হলো। আর আমাদের যে সব ওলামায়ে কেরামের মাঝে এখনো পর্যন্ত সন্দেহ এর দানা বেঁধেছিল, আশাকরি তারা সেই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।
এখন বাকি থাকল বিপথগামী লোক গুলোর কথা, যারা আল্লামা তকি উসমানীর শাগরেদ দাবি করেন। মনে প্রাণে তকি উসমানীকে অনুসরণ করেন। এখন কি উনাদের ভুল ভাঙবে? নাকি স্বভাবের পরিবর্তন হবে না?
আমাদের দেশে বেশ কয়েকজন ঐ বিপথগামী মানুষ রয়েছে। যাদেরকে বিভিন্ন নিউজে “কওমীর বিষ ফোঁড়া” আখ্যা দিয়ে নিউজ ছাপা হয়েছিল। তারা সত্যি ফিরে আসবেন? নাকি আগের মত তাদের মিশন অব্যাহত রাখবেন?
উনারা সব সময় হক্কানী আলেম এবং পীর মাশায়েখদের সম্পর্কে বিষোদগার করেন। যদি কেউ তাদের মতের খেলাফ করেন, তাকে বড় দুশমন মনে করেন তারা। তবে এবার তকি উসমানী কি তাদের দুশমন হবে?
আল্লাহ রহম করুন সকলের ওপর। তাদের সহী সমঝ এর জন্য দুআ করি। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে হেদায়েত করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


