ক্রীড়া ডেস্ক : এ যেন শাসরুদ্ধকর এক ম্যাচ। পুরো ম্যাচে বেশ ক’বার জেতার পাল্লটা এদিক ওদিক গিয়ে শেষবধি ধরা দিল রংপুরের ভাগ্যেই। দারুণ একটা ম্যাচ দেখলেন মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসা দর্শকেরা। বিপিএল ঢাকা ডায়নামাইটস আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মধ্যকার ম্যাচটি যে জমবে, এটা অনুমিতই ছিল। রং বদলানোর এই ম্যাচটা কুমিল্লা শেষ পর্যন্ত জিতে নিয়েছে ৭ রানে।
থিসেরা পেরেরার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৭ রানের জয় পেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলের জয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন পেরেরা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৩ ওভারে ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন কুমিল্লার এই শ্রীলংকান অলরাউন্ডার। অবশ্য তার আগে ব্যাট হাতে ৩৫ বলে ৪৮ রান করেন শামসুর রহমান শুভ।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট অর্জন করল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বাধীন কুমিল্লা। তবে হেরে গেলেও আট ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা।
১৫৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব কঠিন ছিল না ঢাকা ডায়নামাইটসের জন্য। বিশেষ করে দলটিতে যখন সাকিব আল হাসান আর আন্দ্রে রাসেলদের মতো তারকারা আছেন। লক্ষ্য তাড়া করে ব্যাটিংয়ে নেমেই ৫০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপি হয়েছিল তারা। কিন্তু সাকিব আর রাসেলের একটা জুটিতেই ম্যাচের মোড় পুরোপুরিই নিজেদের দিকে টেনে নেয় ঢাকা। দল যখন জয়ের পথে ঠিক তখনই ৬ রানের ব্যবধানে প্রথমে সাকিব আর রাসেল আউট হয়ে গেলে ম্যাচটা চলে যায় কুমিল্লার দিকে।
এই মোড় ঘোরানোর দুই নায়ক শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা ও আফ্রিদি। তারা সাকিব, রাসেলের উইকেট দুটি তুলে নেন একেবারে ঠিক সময়ে। সাকিব ১৯ বলে ২০ করেন। রাসেলের উইকেটটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ২ চার ও ৫ ছক্কায় ২৪ বলে ৪৬ রান তুলে ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন।
ইনিংসের ১৫তম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এসেই ৮ রান দিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাসেলের উইকেট তুলে নেন থিসেরা পেরেরা। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে দৃষ্টিনন্দন ৫টি ছক্কায় ৪৬ রান করেন রাসেল। ঠিক পরের ওভারের শেষ বলে সাকিবকে ফেরান শহীদ আফ্রিদি।
১৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ৫ রান দিয়ে শুভাগত হোম ও নুরুল হাসান সোহানের উইকেট তুলে নেন পেরেরা। মাত্র দুই ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে কুমিল্লার জয় প্রায় নিশ্চিত করেন পেরেরা। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। সেই আনুষ্ঠানিকতা সারেন সাইফউদ্দিন।
কুমিল্লা ঢাকার বোলারদের নিখুঁত বোলিংয়ে ১৫৩ রানের বেশি যেতে পারেনি। কিন্তু কুমিল্লার বোলাররা ছাপিয়ে গেছেন ঢাকার বোলারদেরও। সাইফউদ্দিন কিছুটা খরচে হলেও একটি উইকেট পেয়েছেন। পেরেরা, আফ্রিদি, ওয়াহাবরা তো ছিলেন দুর্দান্ত। লঙ্কান তারকা পেরেরা ৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাটিংয়ে ধার হারালেও আফ্রিদির লেগব্রেক যে আজও টি-টোয়েন্টির জন্য দারুণ, সেটি আজ প্রমাণ করেছেন। ৪ ওভারের কোটায় পাকিস্তানি তারকা ১৮ রান খরচ করে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন। বাঁ হাতি ফাস্ট মিডিয়াম, আরেক পাকিস্তানি ওয়াহাব ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১৫৩/৮ (শামসুর ৪৮, তামিম ৩৪, পেরেরা ২৬; সাকিব ৩/২৪)।
ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৪৬/৯ (রাসেল ৪৬, সাকিব ২০, নারিন ২০; পেরেরা ৩/১৪, আফ্রিদি ২/১৮)।
ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৭ রানে জয়ী।


