তরুণদের ভাবনায় শ্রীলঙ্কায় হামলা একটি ভয়াবহ বর্বরতা

তরুণদের ভাবনায় শ্রীলঙ্কায় হামলা একটি ভয়াবহ বর্বরতা

তরুণদের ভাবনায় শ্রীলঙ্কায় হামলা একটি ভয়াবহ বর্বরতা

পাথেয় রিপোর্ট : নিউজিল্যান্ডের ক্লাইস্টচার্চের হামলার পর শ্রীলঙ্কার বোমা হামলা বিশ্বে একটি বড়ধরনের ভয়াবহ হামলা। এটি বিশ্বাসেরও বাইরে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ সবধর্মের মানুষেই মারা গেছে। মারা গেছে ছোট্ট জায়ানও। প্রধানমন্ত্রীর ফুপাত ভাই শেখ সেলিমের নাতি। ফুটফুটে চেহারার এই বাতিটি নিভে যাওয়ায় বাংলাদেশেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এসব কারা করছে। কেন এ ধরনের হাত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। বিচারবহির্ভূত এসব হত্যায় কারা উল্লসিত হচ্ছে। এ নিয়েই আজকের প্রতিবেদন। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন তরুণ অনেকে। নিচে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো—

শ্রীলঙ্কার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওআইসিকে এগিয়ে আসা উচিত

ওআইসির উচিত শ্রীলঙ্কা সরকারের সাথে মিলে তদন্ত করা ও দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তি দেয়া । কারণ এরাই ইসলামের বড় শক্র।বিশেষ করে বলবো, বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে উলামা প্রতিনিধি দল শ্রীলঙ্কার শোকার্ত মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানানো প্রয়োজন ।এটা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হবে বলে আমি মনে করি।

মাওলানা ইউসুফ নূর

কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব

অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধ

অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধ। নিঃসন্দেহে এই হত্যাকারীর ঠিকানা জাহান্নাম। ইসলামে বিচার বহির্ভুত হত্যাকে সমর্থন করে না।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। কোন মানুষকে হত্যা করা দুরে থাক, কাউকে নখের আঁচড় দেওয়াটা ইসলাম চায় না।

হাদীসে পাকে রাসুল ( সাঃ) ইরশাদ করেছেন, ” আল মুসলিমু মান ছালিমাল মুসলিমুনা মিল লিছানিহি ওয়া দিহি” ” প্রকৃত মুসলমান সেই, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদে থাকে।( বুখারী, মুসলিম)

কাউকে কোন প্রকার কষ্ট দেওয়া ইসলামে চায় না। একজন মানুষকে হত্যা করার প্রশ্নই আসেনা।

এমনি ভাবে অন্য হাদীসে আছে, প্রকৃত মুসলমান সেই, যার হাতের দ্বারা মুখের দ্বারা প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে।( বুখারী)

এজন্য ইসলাম এমন এক ধর্ম, যার কাছে সবাই নিরাপদ। সে যে ধর্মের হোক না কেন, ইসলামের কাছে সে নিরাপদ। আজ পর্যন্ত যত কান্ট্রি মুসলমানগন শাসন করেছে, সকল জায়গায় বিধর্মীরা নিরাপদ ছিল।

বর্তমানে বিভিন্ন দেশে উপসনালয় গুলোতে আক্রমণ চলছে। কদিন আগে নিউজ ল্যান্ডে মসজিদে বিশাল হত্যা কান্ড ঘটে গেল। আবার সেদিন ঘটল শ্রীলংকার গির্জায়। খুবই দুঃখজনক। অন্যায় ভাবে নিরপরাধ মানুষকে মারা চরম অপরাধ। এর দ্বারা বিশ্বব্যাপি অশান্তি সৃষ্টি হবে।

আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এই ঘটনার।

মাওলানা আমিনুল ইসলাম

শিক্ষক, ফরিদপুর

জনমত জরুরি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোক্রমেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না! বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে হবে! এর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সোচ্চার হতে হবে! সর্বপ্রকার সন্ত্রাস ও অপরাধকে ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত না করে অপরাধ ও সন্ত্রাস পরিচয়ে পরিচিত করতে হবে! অপরাধ ও সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নেই, এই সত্য আমাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে ও স্বীকৃতি দিতে হবে! বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ সর্বপ্রকার অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিলোপ কামনা করি!

আবদুল কাইয়ুম শেখ

শিক্ষক, ঢাকা

বোমা হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মুসলমান

শ্রীলঙ্কায় ঘটে যাওয়া সিরিজ বোমা হামলার ফলাফল সুদূর প্রসারী। এ অজুহাতে হয়তো একদিন সেখানকার মুসলিমদেরকে রোহিংগা বা আসামের মত সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।আল্লাহ হেফাজত করুন! আমীন ইয়া রাব্বাল আামীন।

শোয়াইব রশিদ

আলেম ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম

অমানুষেরাই হত্যাকাণ্ড ঘটায়

মানুষকে মানুষ হত্যা করতে পারে না। অমানুষেরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। অমানুষের আবাসস্থল পৃথিবী নয় নরক। এসব মানুষরাই পৃথিবীতে অশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আমিনুল হক সাদি

সাংবাদিক, কিশোরগঞ্জ

শ্রীলঙ্কার ঘটনায় আমরা সংক্ষুব্ধ

বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড দেশ, জাতি ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। এতে অপরাধীরা অপরাধ করতে সাহস পায়। অন্যায়, অবিচার, জুলুম, শোষন, খুন, ধর্ষন, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, গুপ্ত হত্যাসহ নানা অপকর্মে অপরাধীরা শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়। অপরদিকে, অপরাধীদের যদি আইনের আওতায় এনে যথাযথ ভাবে জনসম্মুখে সঠিক বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়। তাহলে, এক অপরাধীর শাস্তি দেখে অনান্য অপরাধীরা অপরাধ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। তাই, জাতিসংঘ সহ বিশ্বের প্রতিটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি উদাত্ব আহবান জানাচ্ছি যে অপরাধীরা যত শক্তিশালী হোক তাদেরকে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হোক। এতে বিশ্বের প্রতিটি অঙ্গনে শান্তি, শৃংখলা বিরাজ করবে। শ্রীলঙ্কার ঘটনায় আমরা স্তব্ধ।সংক্ষুব্ধ।

উমর ফারুক শাবুল

শিক্ষক ও সাংবাদিক

বানিয়াচং, হবিগঞ্জ

উদ্যমী তরুণরাই পারে শান্তি ফিরিয়ে আনতে

সোচ্চার হলেও পিনপতন নিস্তব্ধতা ঝেঁকে বসতে অপেক্ষাও করতে হয় না। আসলে চেতনা জাগ্রত করা দরকার, বোধ জন্মানো প্রয়োজন, দরদে নবুওত হৃদয়ে লালন করা জরুরি।

এজন্য কোন হাল্লা-চিৎকার চাই না।

চাই শীতল মস্তিষ্কে সুদূর প্রসারী কর্মকৌশল। যা হবে সংকট উত্তরণের স্কোপার।

বিশ্বাসনন্দিত উলামায়ে কেরামের দিকনির্দেশনায় উদ্যমী তরুণ আলেমদের এগিয়ে আসার কোন বিকল্প দেখছি না। এমনকি শুরুটাও করতে হবে তারুণ্যের দিয়ে।

মাওলানা হোসাইন আহমদ বাহুবলী

শিক্ষক, মৌলভীবাজার

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *