তাড়াইলের বাতাসে ইসলাহী সুর
মুফতী আবদুস সালাম : বাতাস ভালো-মন্দের প্রভাব গ্রহণ করে। মানুষ যখন ভালো কাজ করে, আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে, মালিকের ইবাদতে মগ্ন হয়, গুণাহ নাফরমানী করা থেকে বিরত থাকে, তখন বাতাসে এসব নেক কাজের সুঘ্রাণ ছড়ায়। আর ফেরেশতারা এই সুঘ্রাণ পেয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করে বলে- ‘হে আল্লাহ, তোমার বান্দারা আমাদের শান্তি দিয়েছে। তুমি তাদেরকে ক্ষমা করো, রহমতের চাদরে তাদেরকে আবৃত করো।
তাই বাতাসে ভালো করতে, বাতাসকে ‘আল্লাহ আল্লাহ” আওয়াজে ভারী করে তুলে এবং মানুষকে এক আল্লাহর পথে আসার আহবান ও রাসূলের মতাদর্শ অনুযায়ী জীবনকে পরিচালনা করার পাশাপাশি মানুষের নৈতিক উন্নয়নের দাওয়াত নিয়ে বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও আওলাদে রাসূল হযরত ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্রান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের আহ্বানে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শুরু হচ্ছে ইসলাহী ইজতেমা। আগামী ৭, ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি ইসলাহী ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চারপাশে দিগন্ত বিস্তৃত হাওর, মধ্যখানে সবুজের মাখামাখিতে গড়ে উঠা শান্ত নিবিড় একটি গ্রাম; বেলঙ্কা। নামটিই বলে দিচ্ছে কোন এক সময় সনাতনী ধর্মের খুব প্রভাব ছিলো এই অজপাড়া গাঁয়ে।
হ্যাঁ, দেড় যুগ আগেও এখানকার মানুষ ছিলো হিন্দুয়ানী নানান কুসংস্কারে জর্জরিত। ধর্মকর্মের বালাই ছিলো না এদের মাঝে। হাওরের মাঝে এক চিলতে ধান খেতের সাথেই কেটো যেতো তাদের সকাল সন্ধ্যা।
দেড়যুগ পরে এসে সেই মানুষগুলোর মাঝে আজ ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ধর্মের প্রতি জন্মেছে অগাধ টান। এই হাওরের কূল ঘেঁষেই আজ গড়ে উঠেছে একটি দাওরা হাদীস মাদরাসা; ক্রমশ বেড়ে চলেছে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত। দশ বছর যাবৎ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসলাহী ইজতেমা। যার বদৌলতে অন্ধকারের যুগ পেরিয়ে সেই গ্রামটি এখন আলোর পথের যাত্রী।
প্রতি মাঘ ফাল্গুনে এই গাঁয়েরই সন্তান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা. বা. এর ডাকে দশগ্রামের মানুষ ছুটে আসে এই ইসলাহী ইজতেমায়। চারদিন ব্যাপি ইজতেমায় পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় এক স্বর্গীয় আবেশ। জিকির- আজকার, তাসবিহ-তাহলীল, তালিম- তারবিয়াতের মধ্য দিয়ে কেটে যায় তাদের রাত্রি দিন। ইরি ধান ক্ষেতের মায়া ভুলে থেকে “আল্লাহ” নিয়ে পরে থাকা এই চারটি দিনই গাঁয়ের লোকজনের সারা বছরের চালিকাশক্তি।
এই ইজতেমার ওছিলায় এখানে দেশ বিদেশ থেকে আগমন করেন হক্কানী রব্বানী ওলামায়ে কেরাম। মুফতি সালমান মানসুরপুরী দা.বা. এর আগমনের কথা রয়েছে এবার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে গাঁয়ের মানুষগুলো দেখবে একজন ‘নবী দৌহিত্র’কে।
এর আগে তাশরীফ নিয়ে এসেছিলেন কুতবে আলম শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ. এর দৌহিত্র কায়েদে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ আল্লামা মাহমুদ আস’আদ মাদানী দা.বা., এসেছিলেন মাদানী রহ. এর আরেক দৌহিত্র মাওলানা মওদূদ মাদানী দা.বা., আরো এসেছিলেন প্রয়াত ইসলামী নাশীদ শিল্পী জুনায়েদ জামশেদ রহ., এই তো গতবার এসে গেলেন আল খায়ের ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমাম কাসেম রাশিদ আহমাদ। এছাড়া দেশের বরেণ্য পীর মাশায়েখ ও বরেণ্য ওলামায়ে কেরামদের পদছোঁয়ায় ধন্য হয়েছে বেলঙ্কার মাটি।
বছর ঘুরে আবারো বেলঙ্কা ইজতেমার সময় এসে গেলো, আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে শুক্র,শনি, রবি চার দিন চলবে এই ইজতেমা৷
জামি’আ ইকরার ছাত্রদের জন্য এই ইজতেমা একটু ভিন্ন স্বাদের। ইসলাহী মেহনতের পাশাপাশি শিক্ষা সফরের আনন্দটুকুও উসুল করে নেয় এখান থেকে।
বৃহস্পতিবার কাকডাকা ভোরে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ, তাড়াইলের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সবাই আগের রাত্রেই ইকরায় এসে যাবেন ইনশাআল্লাহ। দু’আ প্রত্যাশী।’
লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক


