দিন দিন কমছে ভালো মাদ্রাসার সংখ্যা : আল্লামা মাসঊদ

দিন দিন কমছে ভালো মাদ্রাসার সংখ্যা : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে দিন দিন ভালো মাদ্রাসার সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, একটা ভালো মাদ্রাসা সেটাই যার তালিমে, যেহনিয়্যাত ও আখলাকের মান উচ্চাঙ্গের। কোন মাদ্রাসাতে এসবের পরিপূর্ণ সম্মিলন হলে সেটা একটা ভালো মাদ্রাসা বলে গণ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব কিছু ক্রমশ অধপতনের দিকে যাচ্ছে। তালিমের মানে অধঃপতন। যেহনিয়্যাত কাকে বলে সেটাই ভুলতে বসেছি। যেহনিয়্যাত সম্বন্ধে কারও কোন আলোচনাই নেই। আর আখলাক হয়ে গেছে জাহেলের আখলাক থেকেও করুণ দীর্ণ ও বদতর।

শনিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দারুল উলুম রামপুরা বনশ্রীর মিলনায়তনে জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৫ম কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

বেফাকুল মাদারিসিদ্দিনীয়্যাহ বাংলাদেশের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে এ সময় আল্লামা মাসঊদ জানান, আমাদের লক্ষ্য দেওবন্দের শুরুর হালতে প্রত্যাবর্তন করা। মোল্লা মাহমুদ এবং মাহমুদ হাসান দেওবন্দির মত উস্তাদ ছাত্র তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য। যাদের হাতে পরবর্তিতে গড়ে উঠবে শায়খুল ইসলাম শায়খুল আরব ওয়াল আজম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী, হযরত আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী, হযরত শাব্বির আহমদ উসমানী এবং তাদের মত হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ লোক।

বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার কয়েকটা ক্ষেত্রে মানকে উন্নত করতে হবে।

প্রথমত, তালিম তথা শিক্ষার মান। দ্বিতীয়ত, যেহনিয়্যাতের মান। তৃতীয়ত, আখলাকের মান। একজন আলেমের জন্য ইলমে পরিপূর্ণতা, যেহনিয়্যাতে স্বচ্ছ চিন্তাধারা ও নিজের মধ্যে রাসূল সা. এর আখলাকের নমুনা থাকা অত্যাবশ্যকীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসময় দারুল উলুম দেওবন্দে বাংলাদেশি তলাবাদের গমন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশি তলাবাদের দারুল উলুম দেওবন্দে যাওয়া নিয়ে কাজ চলছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহ. এ ব্যাপারে অনেক পরিশ্রম করেছেন। তার ইন্তেকালের পরে মাহমুদ মাদানী সাহেব কাজের অগ্রগতি করলে পাকিস্তানের মুফতি মাহমুদ সাহেবের সাহেবযাদা ফজলুল হক সাহেব এবং আমিসহ এই তিনজনকে দাওয়াত করেছিলেন তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ সাহেব। সেই বৈঠকে ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল, পরেরবার কংগ্রেস ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় দেওবন্দে ছাত্ররা যেতে পারবে। প্রথমবারে ৫০ জন ছাত্র স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দে যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের আগ্রহের পরীক্ষা নিলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এল না আর বিষয়টা কার্যকরও হল না।

তিনি বলেন, তবে অগ্রগতি থেমে নেই। আমরা এটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা যখন দেশে রাষ্ট্রদূত হয়ে এলেন তার সাথে বিষয়টা নিয়ে আমি আলোচনা করলে তিনি বলেন, ‘আমি তো এটা জানি। সালমান খুরশিদ সাহেব তখন এর অগ্রগতির দায়িত্ব আমাকেই দিয়েছিলেন।’ তিনি বদলি হয়ে গেলে রিভা গাঙুলি দাস আসলে তার সাথেও বিশেষ গুরুত্ব সহকারে এই বিষয় নিয়ে আমি আলোচনা করেছি। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে প্রচন্ড চাপের মধ্যে রয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দ। ফলে আমাদের কাজ কিছুটা থমকে আছে, তবে আমার থেমে নেই। আমাদের এই বোর্ড থেকে এ বিষয়ে একটা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অচিরেই ইনশাল্লাহ বিষয়টি সফলতার মুখ দেখবে।

ইলমের প্রতি আযমতে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রভাবের কোন তুলনা নেই জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দের তাছিরে দিলে যে ইলমে হাদিস ও দ্বীনে ইলমের প্রতি যে আযমত তৈরি হয় পৃথিবীর অন্য কোথাও সেটা পাওয়া যাবে না। দেওবন্দের ভেতরে থাকা সবচেয়ে ছোট মানুষটারও অন্য জায়গার যেকোন বড় আলেমের চেয়ে ইলমের প্রতি আযমত বেশি। এটা দারুল উলুম দেওবন্দের তাছির ও প্রভাব।

হাইয়াতুল উলয়া অনুমোদন না আনলে বেফাকুল মাদারিসদ্দীনিয়্যাই তা এনে দেবে

কওমি মাদ্রাসা স্বীকৃতির কার্যকরিতা প্রসঙ্গে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, স্বীকৃতি আনা হয়েছে, কিন্তু এর কার্যকরিতার জন্য একটা অনুমোদন বাকি আছে শুধু। অনুমোদন দিতে রাজিও আছে সরকার। কিছু অসঙ্গতির কারণে অনুমোদনটা নিয়ে আসা হচ্ছে না। এই অসঙ্গতিগুলো দূর করে যদি হাইয়াতুল উলয়া অনুমোদন না আনে, তাহলে যেভাবে অন্যান্যদের পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও বেফাকুল মাদারিসিদ্দিনীয়্যাহ গঠন করে স্বীকৃতিকে ছিনিয়ে আনা হয়েছে, সেভাবে অনুমোদনকেও ছিনিয়ে আনবে বেফাকুল মাদারিসিদ্দিনীয়্যাহ বাংলাদেশ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আগত প্রতিনিধিদের দেওয়া পরামর্শকে মূল্যায়ন করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান আল্লামা মাসঊদ। প্রত্যেকের এই সুচিন্তিত ও সৃজনশীল পরামর্শের মূল্যায়নে আগামী একমাসের মধ্যে বোর্ডের তরফ থেকে নতুন গৃহীত সিদ্ধান্তবলী সকলের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বোর্ডের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বেফাকুল মাদারিসিদ্দিনীয়্যাহ বাংলাদেশের আয়োজিত এ প্রতিনিধি সম্মেলেনে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় ২৫০ জন মাদ্রাসার মুহতামিম।

/এএ/জেএস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *