মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ মাসুদ ● বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ইলমী মারকায দারুল উলূম দেওবন্দ। যার চিন্তা-চেতনার ফসল মহান মনীষী কাসেমুল উলূম ওয়াল খায়রাত, হুজ্জাতুল্লাহি ফিল আরদ, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত কাসেম নানুতুবি (রহ.)। শৈশবে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, কাবা শরিফের ছাদের উপর তিনি বসে আছেন, আর তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দুধের নহর । তার বুযুর্গ মামাকে স্বপ্নের কথা জানালেন হল। তিনি ব্যাখ্যা করলেন, তোমার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইলমে হাদিসকে বিস্তৃত করাবেন।
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার। হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত নানুতুবি (রহ.)-এর ইলম-আমল ও চেতনার উত্তরাধিকারী শায়খুল ইসলাম কুতবে আলম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) রওযায়ে আতহারের পাশে বসে দীর্ঘ আঠারো বছর ইলমে হাদিসের ফল্গুধারা ছড়িয়েছেন। ভারত-পাকিস্তানের উলামায়ে কেরাম সম্পর্কে আমার জানা নেই তবে বাংলাদেশে শায়খুল ইসলাম হযরত মাদানি (রহ.)-এর ইলম-আমল, রূহানী-আধ্যাত্মিকতা ও চেতনার উত্তরাধিকারী আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) রওযায়ে আতহারের ‘গম্বুজে খাদরা’কে সামনে রেখে হাদিসে মুসালসালাতের দরস দিয়েছেন। এই মহান গৌরবের উত্তরাধিকারী বাংলাদেশে একমাত্র তিনিই।
আশ্চর্য হলেও বাস্তব- হযরত নানুতুবি রহ. এর শাগরিদ শায়খুল হিন্দ হযরত মাহমুদ দেওবন্দি (রহ.), তার শাগরিদ কুতবে আলম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)। হযরত মাদানি (রহ.) চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে হযরত নানুতুবি (রহ.)-এর দৌহিত্র। ঠিক তদ্রুপ হযরত মাদানি (রহ.)-এর শাগরিদ হলেন হযরত মাওলানা শরিফুল হাসান (রহ.), ফখরুল মুহাদ্দিসীন হযরত সাইয়্যিদ ফখরুল হাসান মুরাদাবাদী, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আলি কুমিল্লায়ী, মুহাদ্দিসে আযীম মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ (রহ.)-এর শাগরিদ হলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। এক্ষেত্রে তিনি শায়খুল ইসলাম মাদানি রহ. এর দৌহিত্র।
হযরত শায়খুল ইসলাম যেমন দেওবন্দি ঘরানার একশ্রেণীর উলামা দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিলেন কিন্তু অটল ও অবিচল ছিলেন কাসেমী চিন্তা তথা দেওবন্দিয়্যাতের উপর দৃঢ়চিত্তে। ঠিক তেমনি তার চেতনার দৌহিত্র আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কথিত দেওবন্দিয়্যাতের দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত।
মুহাদ্দিসে আজীম মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ (রহ.) সাড়ে তিন বছর হযরত মাদানি (রহ.)-এর কাছে বুখারী শরিফ অধ্যয়ন করেছেন। তাইতো মাদানি চিন্তা-চেতনা তথা দেওবন্দিয়্যাতের অশ্বত্থ বৃক্ষ ছিলেন। দেওবন্দি চিন্তা-চেতনা থেকে বিন্দু পরিমাণ সরে যাওয়াকে তিনি মৃত্যুর চেয়েও কঠিন মনে করতেন। আর তার হাতেই গড়ে গেছেন তার প্রিয়তম শাগরিদ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে। যিনি শত বাঁধা-বিপত্তি, হাজারো জঞ্জালকে পেছনে ফেলে দেওবন্দের দ্যুতি ছড়াচ্ছেন আপন আলোয়।
হযরত শায়খুল ইসলাম যেমন দেওবন্দি ঘরানার একশ্রেণীর উলামা দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিলেন কিন্তু অটল ও অবিচল ছিলেন কাসেমী চিন্তা তথা দেওবন্দিয়্যাতের উপর দৃঢ়চিত্তে। ঠিক তেমনি তার চেতনার দৌহিত্র আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কথিত দেওবন্দিয়্যাতের দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত। কিন্তু তিনি স্বজাতি-গোত্র এবং আলেমদের জন্য ‘ইন্নি লাকুম নাসিহুন আমিন’ আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত কল্যাণকামী হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন একের পর এক। কচুরিপানার মত উচ্ছিষ্টকে পায়ে ফেলে দুর্বার এগিয়ে চলেছেন দেওবন্দিয়্যাতের প্রচারে।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, তিনি রওযায়ে আতহারের সম্মুখে হাদিসের দরস দিয়েছেন। পরে মালয়েশিয়ায় হাদিসের দরস দিয়েছেন। বর্তমানে তার নিজহাতে গড়া জামিআ ইকরা বাংলাদেশে বিশ্বব্যাপী দেওবন্দিয়্যাতের আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে আয়োজন করেছেন আন্তর্জাতিক হাদিস কনফারেন্স। যেখানে শরিক হয়েছেন পবিত্র ভূমি, মদিনাতুন্নবি (সা.)-এর মুহাদ্দিসে কেরাম। এছাড়া ইরাক, লেবানন, মিসর, সিরিয়া, বৈরুত, ইউ কে, ফ্রান্স, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সোমালিয়া, আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মুহাদ্দিসীনে কেরাম। যারা আল্লামা ফরীদ উদ্দীনের মাধ্যমে দেওবন্দি ধারার হাদিসের সনদের সাথে যুক্ত হয়ে গর্বিত হবেন।
বিশ্বখ্যাত সুনানে তিরমিযীর শায়খ ড. হাসান হায়দার। যিনি সুনানে তিরমিযীর সনদ ও মতনের হাফিজ। পৃথিবীব্যাপী রয়েছে তার হাজার হাজার শাগরিদ। তিনিও আল্লামা ফরীদ উদ্দীনের মাধ্যমে যুক্ত হবেন এই দেওবন্দি সনদের সাথে। শিষ্যত্ব গ্রহণ করবেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদের।
আঁধারচারী পেচক সূর্যের রশ্মিকে না দেখলে তাতে সূর্যের কী যায় আসে! সূর্য তার আপন আলোয় আলোকিত রাখে গোটা পৃথিবীকে। এ আঁধারচারী পেচকেরা যতই বাঁধা-বিপত্তি জঞ্জালের স্তুপ জমিয়ে রাখুক, নিরবধি সুর্যের সকল কিছু ছাপিয়ে আলোকমালায় নিকষ কালোকে উজ্জল করে তোলার মত করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বিশ্বব্যাপী ফেতনার অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজের কোষে-কোষে, রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ছড়িয়ে যাবেন দেওবন্দিয়্যাতের শুভ্র-সমুজ্জল দ্যুতিমালা।
উস্তাযে মুহতারাম মুহাদ্দিসে আজীম আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ (রহ.) তার জন্য যে শতায়ুর দুআ করেছিলেন আল্লাহ সে দুআ কবুল ও মঞ্জুর করুন। আমিন।
লেখক : দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা


