পাথেয় রিপোর্ট : আল জামিয়াতুল উসমানিয়া দারুল উলুম, সাতাইশ, টঙ্গি মাদরাসা থেকে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) পরীক্ষার অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ‘মাওলানা’ ডিগ্রি পেলেন শিবির সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন।
সূত্রে জানা যায়, কওমি মাদরাসার নিয়মিত ছাত্র না হয়েও দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষায় অত্যন্ত গোপনে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ফলাফল প্রকাশের পর এটা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। দাবি উঠেছে, দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য শুধু মেশকাত ক্লাসের সনদ বাধ্যতামূলক নয়, বরং সব স্তরের সনদ ও কওমি মাদরাসার নিয়মতান্ত্রিক ছাত্রত্ব থাকতে হবে।
এ বিষয়ে বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ পাথেয় টোয়েন্টিফোর’কে বলেন, আমার কিছুতেই বুঝে আসছে না যে, দেওবন্দী মাদরাসায় মওদুদীর চরম ভ্রান্ত আক্বীদা লালনকারীরা কীভাবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। আর এটা চরম লজ্জার বিষয় যে, কট্টরপন্থী মওদুদীবাদী শিবিরের দায়িত্বরত সভাপতিকে ভর্তি সুযোগ কীভাবে দিলো? যে মাদরাসা থেকে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে নিশ্চয়ই সে মাদরাসা মওদুদীর অনুসারী বা জামায়াতে কমী রয়েছে। তা না হলে সে কীভাবে ভর্তি হওেয়ার সুযোগ পেলো। তাই মাদরাসা দায়িত্বশীলদের বিরোদ্ধে হাইয়াতুল উলইয়ার আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা উচিত। এবং সাথে সাথে সেই মাদরাসার ইলহাক বাতিল করা হউক।
আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’কে দোষারূপ করা যাবে না উল্লেখ করে বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান বলেন, এখানে হাইয়াতুল উলইয়াকে দোষারূপ করা যাবে না, কেননা কতৃপক্ষ তো মাদরাসা ওয়ালাদের উপর দীর্ঘদিন যাবত বিশ্বাস রেখেই পথ চরছে। এখন যদি কোন মাদরাসা ওয়ালারা বিশ্বাস নষ্ট করে বা জামায়াতী ইন্ধনে অছাত্র, দেওবন্দী আক্বিদা বিরোধীদের সুযোগ দেয় তাহলে তো হাইয়াতুল উলইয়ার উচিত তাদের বিরোদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। এভাবে যাতে অছাত্ররা সরাসরি দাওরা মেশকাতে ভর্তি না হতে পারে সে ব্যাপারে মাদরাসাগুলো দায়িত্বশীলদের কঠোর হওয়া এবং চোখ কান খোলা রাখতে হাইয়াতুল উলইয়ার পক্স থেকে নির্দেশনা পাঠানো। যাতে এরকম ঘটনা দ্বিতীয় বার না ঘটে।
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ পাথেয় টোয়েন্টিফোর’কে বলেন, আর জামায়াত বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে মার খেয়েছে তাই তাদের সাংগঠনিক মজবুতির জন্য আন্ডাগ্রাউন্ডে বিভিন্ন ফন্দি আকছেঁ। আর এর পাশাপাশি তারা এদেশের কওমী মাদরাসাগুলোকে নষ্ট করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা জ্ঞান অর্জনের জন্য নয় বরং মাদরাসা নষ্ট করার জন্য কওমীতে ভর্তি হয়।
এর আগে বুধবার (৩ জুলাই) আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়ার কেন্দ্রীয় দফতর থেকে দাওরায়ে হাদিসের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফল ঘোষণা করেন সংস্থাটির কো চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী। ফল ঘোষণার আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা মুহাম্মাদ ইসমাইল ফলাফলের ফাইল কো-চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন। পরীক্ষার গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। ছাত্রদের পাশের হার ৭৭ দশমিক ১৮ আর ছাত্রীদের পাশের হার ৬৫ দশমিক ২৬।
এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৬,৭৮৮ জন, মোট উত্তীর্ণ হয়েছে ১৯,০৭৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৩,৮৬৯ জন এবং ছাত্রী ৫,২১০ জন। পাসের হার ছাত্র ৭৭.১৮, ছাত্রী ৬৫.২৬। মুমতাজ (স্টার মার্ক) পেয়েছে ছাত্র ৯৫৯ জন এবং ছাত্রী ৯২ জন। জায়্যিদ জিদ্দান (১ম) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৪,১২৪ জন, ছাত্রী ১,০৭৬ জন। জায়্যিদ (২য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৫,৬৩৪ জন, ছাত্রী ২,৩৫১ জন এবং মাকবূল (৩য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৩,১৫২ জন, ছাত্রী ১,৬৯১ জন।


