দ্রুত বিচার নিশ্চিত হোক ধর্ষকের

দ্রুত বিচার নিশ্চিত হোক ধর্ষকের

দ্রুত বিচার নিশ্চিত হোক ধর্ষকের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বিপর্যয়কর একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ছোট্ট সায়মা থেকে শুরু করে নৈতিকতার বালাই নেই কোনোখানে। একের পর এক জঘন্য ধর্ষণের মতো ঘটনায় আদালত, মিডিয়াসহ সবখানের দায়িত্বশীলগণ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? সমাজকে সহসাই মূল জায়গায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

তবে দ্রুত বিচারের নিশ্চিতের মাধ্যমে একটা সুরাহা পাওয়া যাবে বলে সবাই বলছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের শিশু সায়মা প্রতিদিনের মতো খেলতে গিয়েছিল। সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, শিশুটিকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল।

শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। নারায়ণঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড হাই স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে আশরাফুল আরিফ নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। ওই শিক্ষককে মদদ দেওয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষককেও আটক করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জেই ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক বাক্প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পার্বতীপুর পৌর মেয়রসহ ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার সব আসামির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছে। সারাদেশ ইতোমধ্যেই ফুঁসে ওঠেছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে।

আমরা জানি, ধর্ষণ এক জঘন্য অপরাধ। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীদের সারাটি জীবন অন্তহীন মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়েও নতুন করে নির্যাতিত হতে হয়। যেমন ঘটেছিল নুসরাত জাহান রাফির ক্ষেত্রে। তেমন ঘটনারই পুনরাবৃত্তি যেন ঘটল কুষ্টিয়ার খোকসায়। সেখানে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চার দিন পর গ্রাম্য সালিসে কয়েক শ লোকের সামনে মেয়েটির কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনা হয়েছে। এ সময় তাকে নানা প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়।

একটি মহল সালিসের ভিডিও করে এলাকায় মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেয়। এ কোন সমাজ আমাদের? প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ মামলায় অপরাধীর সাজা হয়। আমরা চাই ধর্ষণের সব মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে করা হোক। তাহলেই স্বস্তি আসবে দেশে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *