ফেদায়ে মিল্লাতের যোগ্য উত্তরসূরী মাহমুদ মাদানী
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী ( রহ.) এবং ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী( রহ.) এর যোগ্য উত্তরসুরী হলেন, সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানী দামাত বারাকাতুহুম।
শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী ছিলেন, বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী। যার হুঙ্কারে বৃটিশ সাম্রাজ্যে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। পুরো ভারত উপমহাদেশ যখন বৃটিশ শাসনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। ঠিক সেই সময়ে গর্জে উঠেছিলেন তিনি। বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে ছিলেন। যিনি সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। বহু জেল জুলুমের শিকার হয়ে ছিলেন সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী। সে সব কোরবানীর বদৌলতে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল। বৃটিশ শাসনের অবসান ঘটেছিল আমাদের এই দেশ থেকে।
শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানীর বড় সাহেবজাদা হলেন ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহ.। যিনি মুসলিম মিল্লাতের জন্য নিজেকে ফেদা করে দিয়েছিলেন। সারাটা জীবন কাটিয়েছেন মুসলিম উম্মাহের ফিকিরে। বছরের সব সময় সফর করতেন সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী। পুরো মুসলিম বিশ্বের মাঝে অত্যন্ত দরদ নিয়ে ছুটে যেতেন। মুসলিমদের বিপদ- আপদে পাশে দাঁড়াতেন তিনি।
বর্তমানে শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী এর পোতা ছেলে এবং ফেদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানীর সাহেবজাদা হলেন মাহমুদ মাদানী। যিনি পুরোপুরি বাপ-দাদার রাস্তায় পা ফেলছেন। একদম বাপ-দাদার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন।
হযরত মাহমুদ মাদানী তিনিও পুরোপুরি তাঁর বাপ- দাদাদের মত। মুসলিম মিল্লাতের বিপদ- আপদে সব সময় পাশে। কোন একটা সময় বসে থাকেন না তিনি।
দুই বছর আগে দেখে ছিলাম, ভারতে সর্বস্তরের মুসলিম নেতাদের এক মঞ্চে উঠায়ে ছিলেন। যিনি যে মতবাদের হোন না কেন, এক প্লাট-ফরমে নিয়ে আসার বড় মিশন নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। সর্ব প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মুসলিম উম্মাহ একত্রকরণের মিশন তাঁর বড় প্রশংসনীয়।
বছর খানেক দেখেছিলাম মাহমুদ মাদানীকে মাজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানের পাশে। অসহায় রোহিঙ্গাদের খেদমতে নিজেকে সঁপে দিয়ে ছিলেন।
এভাবে বছরের সব সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে থাকেন। মুসলিম মিল্লাতের বিপদ- আপদে বন্ধু হয়ে যান তিনি।
সস্প্রতি ভারতে মুসলিম নির্যাতন চলছে সীমাহীন। গোঁড়া এবং উশৃংখল কিছু হিন্দু, তারা নিরীহ মুসলিমদের উপর বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে। বহু মুসলিমকে শহীদ করেছে তারা। কোথাও মুসলিমদেরকে জোরপুর্বক “জয় শ্রীরাম” বলতে বাধ্য করছে হিন্দুরা। মানে মুসলমানগণ সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
এমনই এক সঙ্গীন মুহূর্তে বাপ- দাদার মত গর্জে উঠলেন মাহমুদ মাদানী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুসলিমদের। যেখানে মুসলমানগণ আক্রান্ত হবেন, আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
হযরত মাহমুদ মাদানীর সাহসী উচ্চারণ। একদম সময়োপযোগী আহ্বান। আশাকরি মুসলিম ভাইয়েরা আত্মরক্ষায় এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হবে।
ধন্যবাদ মাহমুদ মাদানী। আল্লাহ আপনার হিম্মত বাড়িয়ে দিন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


