‘নফল ইবাদত ঘরে উত্তম, ঘরে থেকেই শবে বরাতের আমল করুন’
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র শবে বরাতে ঘরে বসে ইবাদত করতে মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, জাতীয় শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, সহিহ হাদিস দ্বারা শবে বরাতের ফজিলত প্রমাণিত। হাদিস শরিফে শবে বরাত শব্দের ব্যবহার নেই। হাদিসের ভাষায় তা মধ্য শাবানের রজনী। হাদিসে মধ্য শাবানের রজনীতে বিভিন্ন নফল ইবাদতের কথা বলা হয়েছে। তবে আমলগুলো ব্যক্তিগত, সামগ্রিক নয়। সুতরাং তা পালন করার জন্য মসজিদে যাওয়া বা সমবেত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজ ঘরে থেকেই শবে বরাতের আমল করুন। কারণ নফল ইবাদত ঘরে করা উত্তম।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিজ বাসভবন থেকে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, শবে বরাতে আমাদের দেশের মানুষ মসজিদে সমবেত হয়ে ইবাদত করেন। কিন্তু ইবাদত ব্যক্তিগত বিষয়, সম্মিলিত নয়। তারাবির নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নফল নামাজের জন্য মানুষকে ডাকাডাকি করে মসজিদে উপস্থিত করা—শরিয়ত অনুমোদিত নয়। তাছাড়া করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে বসে ইবাদত করে শবে বরাত পালনে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য ইবাদতে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ঘোরাঘুরি করা, শোরগোল করা শরীয়ত ও আইন বিরোধী।
এদিকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শবে বরাতকে কেন্দ্র করে ইবাদত ও মানব জীবনের হেফাজতের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা। নিচে তা উল্লেখ করা হলো—
১। শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছুতেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, বরং ঘরে থেকেই নিজকে ইবাদত ও জিকির-আজকারে মশগুল রাখা।
২। গাড়িতে চড়ে সড়কে ঘুরাঘুরি করবে না আতশবাজির মত শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।
৩। কবরস্থানে না গিয়ে নিজের মৃত আত্মীয়স্বজনের জন্য ঘরে বসেই ঈসালে ছওয়াবের প্রতি মনোনিবেশে গুরুত্বারোপ করবে।
৪। ফরজ নামাজের জন্য মসজিদে যাবে না, বরং ঘরে বসেই ফরজসহ সকল নফল নামাজ আদায় করবে।
৫। প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে তওবা ইস্তিগফারের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখবে। এই সময়টাকে অহেতুক অশ্লীল কাজে ব্যয় না করে সৎকাজে আত্মনিয়োগ করবে।
৬। দান-সদকার ব্যাপারে খুব খেয়াল দিবে। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা অভাবী, দিন আনে দিন খায়, তাদের সাহায্যের এগিয়ে আসবে।
৭। তাহাজ্জুদের প্রতি যত্নবান হবে। আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে মাফ চাইবে। দেশ ও জাতীর কল্যাণে এই প্রাণঘাতি ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দুআ করবে।
৮। মসজিদের মুয়াজ্জিন-ইমাম সাহেবগণ, এলাকার জিম্মাদার ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার স্থানীয় দায়িত্বশীলদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দা, বিশেষ করে যুবকদের ঘরে থাকার ব্যাপারে উদ্ভুদ্ধ করবেন। তারা যেন রাস্তায় ঘোরাঘুরি না করে ঘরে থাকে।
৯। প্রতিদিন দুইবার সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত ও দুইবার সালাতু তাসবিহ আদায় করার চেষ্টা করবে।


