পাথেয় রিপোর্ট : আমাদের পেয়ারে নবীজী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজ, তায়েফের কষ্টের শান্তনা পুরস্কার মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, তায়েফবাসীরা আমাদের নবীজীকে কী পরিমাণ কষ্ট দিয়েছিল, সেটা আমাদের প্রায় সকলেরই জানা। তায়েফের লোকেরা নবীজীর সাথে এমনই অবর্ণনীয় আচরণ করেছিল, যার স্পর্ধা মক্কাবাসীদেরও কখনো হয়নি। তায়েফের সেই দিনটি নবীজীর জীবনের একটি কঠিনতম দিন ছিল। বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, একবার উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রা. জানতে চাইলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার জীবনে উহুদ থেকেও কঠিনতম কোন দিন কি অতিবাহিত হয়েছে? তখন নবীজী বললেছ্ন, ‘হ্যাঁ আয়েশা! তায়েফের দিন বড় কঠিন দিন ছিল।’
আল্লামা মাসঊদ বলেন, তায়েফের ওই দিনের কষ্টের শান্তনা হিসেবেই আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মেরাজ পুরস্কার দিয়েছিলেন। তাঁর প্রিয় বান্দাকে তাঁর কাছে নিয়েছিলন। তার সাথে দেখা করিয়েছিলেন।
২৮ মার্চ শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
সশরীরে একবারই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেজর হয়েছিল উল্লেখ করে শোলিকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, ঘুমে স্বপ্নযোগে অনেক বার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজ হয়েছিল, কিন্তু সশরীরে একবারই মেরাজ হয়েছিল। তিনি বলেন, হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, কাবা শরীফের পাশে ‘হাতিম’ এ নবীজী ঘুমিয়েছিলেন। কোন কেন রেওয়াতে আছে, তিনি উম্মে হানি বিনতে আবু তালিবের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন।
মিরাজের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, নবীজীর মিরাজের সূচনা হয় মসজিদে হারাম থেকে। হজরত জিবরাইল আ. এসে জাগ্রত করে তাঁর বক্ষ মুবারক বিদীর্ণ করে দূষিত রক্ত বের করে আবার জোড়া লাগিয়ে দেন। অতপর বোরাকে করে সশরীরে বায়তুল মাকদাসে নিয়ে যান। বায়তুল মাদকাস থেকে সিদরাতুল মুনতাহার দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এভাবে মেরাজের পরিপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন তিনি।
নামাজ মুমিনের মেরাজ উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, মেরাজ শেষে ফেরার পথে আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার উম্মতের জন্য নামাজ উপহার দিলেন। নবীজী যেভাবে মেরাজ আল্লাহ তাআলাকে দেখেছিলান, সেভাবেই মুমিন নামাজে দাঁড়ালে আল্লাহকে দেখবে। তাই হাদীসে বলা হয়েছে, নামাজ মুমিনের মেরাজ।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, মেরাজে শিক্ষা হলো, একাগ্রচিত্তে এমন ধ্যান মগ্নতার সাথে নামাজ আদায় করা, যেন নামাজে দাঁড়ালে আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাই।
পা.টো.ড/আদিল


