নারী চিকিৎসককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নারী চিকিৎসককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের এমডির (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) বিরুদ্ধে ওই হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসককে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকালে নগরীর সেন্টার ফর স্পেশালাইজড কেয়ার অ্যান্ড রিচার্স (সিএসসিআর) হাসপাতালের এমডি ডা. জামাল আহম্মদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ।
যৌন নিপীড়নের বিষয়টি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বিএমএ নেতাদের অবহিত করেন নিপীড়নের শিকার চিকিৎসক ও তার পরিবারের সদস্যরা। এটি জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রামে চিকিৎসক সমাজে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিএসসিআর’র বোর্ড সভা হয়। সভায় নিপীড়নের শিকার চিকিৎসকের স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়াউল হক সাইমুন, ভাই সাব্বির আহমদ ছাড়াও বিএমএম চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ‘অভিযুক্ত’ ডা. জামাল আহম্মদকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএমএ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, এটা বড় কোনো ঘটনা না। ভুল বোঝাবুঝি। এছাড়া এমনও অনেকে আছেন যারা হয়তো মালিকপক্ষ কিছু বললেই, ডিউটির বিষয়ে চাপচাপি করলেই বিগড়ে যান। এটিও তেমন কিছু কিনা সেটি তারা খতিয়ে দেখছেন। তাছাড়া যে চিকিৎসককে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সেই চিকিৎসকের এমন কিছু এসএমএস রয়েছে যেগুলো দেখলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ জাগবে। যদি এমন কিছু না হয় তাহলে এমডির পদ থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসককে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন হল- প্রশ্নের জবাবে ডা. ফয়সাল বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে অনেক কিছুই করতে হয়।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই নারী চিকিৎসক ডিউটি রোস্টার নিয়ে কথা বলার জন্য মঙ্গলবার বিকালে হাসপাতালের এমডি ডা. জামাল আহম্মদের তিন তলার ৩১৩ নম্বর কক্ষে যান। এ সময় সহানুভূতির ছলে ওই নারী চিকিৎসককে জড়িয়ে ধরেন তিনি। স্পর্শকাতার জায়গায় হাত দেন। এতে হতভম্ব হয়ে যান ওই নারী চিকিৎসক। রুম থেকে বের হয়েই তিনি বিষয়টি প্রথমে তার স্বামী পরে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও সহকর্মীদের জানান। এ ঘটনায় হাসপাতালের ক্ষুব্ধ সাধারণ চিকিৎসক ও স্বজনরা এমডি জামাল আহম্মদকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ গিয়ে এমডিকে উদ্ধার করে।

জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, খবর পেয়ে তিনি মঙ্গলবার ফোর্স পাঠিয়েছিলেন। তবে এটি হাসপাতালের কোনো বিষয় ছিল না। অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়েও কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি থানায়।

এদিকে চিকিৎসকের স্বামী জিয়াউল হক সাইমুন ঘটনা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, তার স্ত্রী ওই হাসপাতালে সাড়ে তিন বছর ধরে চাকরি করছেন। বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাই নাইট ডিউটিতে সমস্যা হচ্ছিল। ডিউটি রোস্টার নিয়ে কথা বলার জন্য এমডি ডা. জামাল আহম্মদের কক্ষে যান তার স্ত্রী। এ সময় ডা. জামাল তার স্ত্রীকে সহানুভূতি দেখানোর ভঙ্গিতে জড়িয়ে ধরেন এবং কিস করেন। এটি আরেকটি মেয়ে দেখে ফেলে। পরে তার স্ত্রী ডা. জামাল আহম্মদকে একটি এসএমএস দেন এই মর্মে যে, ‘আপনি আমার বাপের সমান। আপনি আমার সঙ্গে এ ধরনের করতে পারলেন? এটি আমি মেনে নিতে পারছি না।’ সাইমুন আরও বলেন, এ সময় ডা. জামাল তার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান। বলেন, ‘আমি তো মানুষ। মানুষের তো ভুল হতে পারে।’ ডা. জামাল তার স্ত্রীকে আরও ভালো চাকরি দেয়ার অফার করেন এবং প্রয়োজনে ডাকলে তার কাছে যেতে বলেন। এসব কথার ‘ভয়েস রেকর্ড সাইমুমের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে জানান।

সাইমুন বলেন, তিনি বিষয়টি বিএমএ নেতাদের জানান। বিএমএ নেতারা ওই এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় তারা আর থানা-পুলিশ বা অন্য কিছু করেননি। বৃহস্পতিবার সিএসসিআর কার্যালয়ে হাসপাতালের বোর্ড মিটিংয়ে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অভিযুক্ত এমডিকে সরিয়ে দেয়া ও তার কাছ থেকে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ সংক্রান্ত মুচলেকা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে সিএসসিআর হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মুলকুতুর রহমান বৃহস্পতিবার রাত আটটায় বলেন, ‘নারী চিকিৎসককে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের বোর্ড মিটিং হয়েছে। এটা নিয়ে আমরাও খুব প্রেসারে ছিলাম। অভিযুক্ত এমডিকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। এ মর্মে একটি মিউচ্যুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *