পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাপ-পঙ্কিলতা থেকে তওবা করে পুণ্য কাজে শবে বরাত কাটানোর কথা বলেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফারসি থেকে এসেছে। শব মানে রাত, বরাত মানে মুক্তি; শবে বরাত অর্থ মুক্তির যামিনী। হাদিস শরিফে যাকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী বলা হয়েছে। আর কুরআন শরীফে ‘লাইলাতুল মুবারাকা’ বলা হয়েছে। মুফাসসিরিনগণ বলেন, এখানে ‘লাইলাতুল মুবারাকা’ বা বরকতময় রজনী বলে শাবান মাসে পূর্ণিমা রাতকেই বোঝানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ মার্চ) ইকরা বাংলাদেশ কমপ্লেক্স জামে মসজিদে জুমার বয়ানে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
শবে বরাতের ফজিলতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলা ঠিক নয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কিত অনেক হাদিস আছে। সুতরাং শবে বরাতের ফজিলত ও রাতের ইবাদতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তথা বিদয়াত বলা কোনোক্রমেই সংগত নয়। বরং বাস্ততার আলোকে স্বীকার করতেই হবে, এ রাত পূণ্যময় মুক্তির রাত। এ রাতে জেগে থেকে নফল ইবাদত-বন্দেগি করা পুণ্যময় কাজ।
তিনি বলেন, শবে বরাতের আলাদা কোন নামাজ তথা নির্দিষ্ট সুরা দিয়ে নির্দিষ্ট রাকাত পড়ার রেওয়াজ ইসলামে নেই। শবে বরাতের নামে রাস্তা-ঘাটে আতশবাজি, ফটকাবাজি, ঘর আলোকসজ্জা, রাতে মসজিদে অতিরিক্ত আলোকসজ্জ্বা করা ইত্যাদি কাজ গর্হিত ও শরিয়ত পরিপন্থী। এগুলো অবশ্যই বর্জনীয়।
নাম রাখার ব্যাপারে ইসলাম একটু বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছে উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) শিশুর উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইসলামে নাম রাখার কয়েকটি স্তর আছে। ‘আবদুল্লাহ’ ও ‘আবদুর রহমান’ এ দুটি নাম রাখা সর্বোত্তম। নবীজী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।’
আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইসলাম ব্যক্তি বা বস্তুর সুন্দর নাম চায়। ইসলাম মানুষকে আশাবাদী করতে চায়। সেই আশা সূচনা হয় ব্যক্তির জন্ম থেকেই।


