পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্বীকৃতি পাওয়ায় বাঙালি আলেমগণ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, জাতীয় শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, বাতাস বিষাক্ত হয়ে গেছে আল্লাহর নাফরমানিতে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি গন্ধ। এখন বাতাসকে আলেমদেরই ঠিক করতে হবে।
কওমী মাদরাসার সরকারি স্বীকৃতি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অভিনন্দন জানান।
মারামারি ইসলামের রূপ নয় দাবি করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, সবসময় মানুষের দীল পয়দা করার জন্যে তাবলীগ জামাত কাজ করছিল। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আমাদের দেশে এখন তাবলীগ বিভক্ত হয়ে গেছে। অথচ ইসলাম বিভক্তি পছন্দ করে না, আমাদের সকলের পরিচয় এক। আমরা উম্মত।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমাদের দেশে যেমন সুন্দর, এদেশের মানুষের অন্তর তেমন কোমল ও নরম। এদেশের মানুষ সর্বদাই ধর্মপ্রাণ। ইসলাম, ধর্ম ও দ্বীনের প্রতি এতো টান অন্যান্য দেশের মানুষের মাঝে কমই দেখা যায়। তাই তো বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের দেশ উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে রোল মডেলে পরিণিত হয়েছে, কিন্তু পরিকল্পিত ভাবে কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের দেশের উন্নতি সহ্য করতে না পেরে আমাদের যুব সমাজকে মদ-নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকাসক্ত করে তাদের জীবনকে নষ্ট করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যুব সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যেই মূলত আমাদের এই দেশব্যাপি পথযাত্রা।
৬ অক্টোবর শনিবার বিকেল ৫ টার দিকে খুলনার শহীদ হাদীস পার্কে আলেম-জনতা ঐক্য গড়ার আহ্বানে, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে দেশব্যাপি ঐতিহাসিক পথযাত্রার জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইসলাম প্রেম ও ভালোবাসার ধর্ম। ইসলাম মানুষকে ভালোবাসতে শিখায়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ‘আল্লাহর জন্যে মানুষকে ভালোবাসা’। আজকে আমাদের সমাজ থেকে ভালাবাসা দূর হয়েছে যাচ্ছে। মানুষ এখন আর মানুষকে ভালোবাসে না, বরং মানুষ এখন মানুষকে আরো ভয় পায়। পরিস্থিতি এখন এমন হয়েছে, পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে ভালোবাসে না। সে জন্যে আমাদের শিশুরা এখন প্রেমহীন এ হতাশ মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে। তাই তার মদ ও নেশায় আশ্রয় খুঁজে এখন। অথচ মদ সমস্ত গুনাহের মূল।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, কেবল অভিযান চালিয়ে মাদকের বন্যা বন্ধ করা যাবে না, মানুষের হৃদয় থেকে মাদকের চাহিদা মিটিয়ে দিতে হবে। আর না হলে মাদকের সয়লাব ঠেকানো যাবে না। সমাজ থেকে মাদক দূর করতে হলে, মানুষের দিল পায়দা করার জন্যে কাজ করতে হবে।
শহীদ হাদীস পার্কের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা আব্দুর রহীম কাসিমী, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা আবু সুফিয়ান যাকী, মুফতি তাজুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা সদরুদ্দিন মাকনুন, মাওলানা আইয়ুব আনসারী, মাওলানা আব্দুল আলীম ফরীদী, মাওলানা সাঈদ নিজামী, মাওলানা শুয়াইব আহমদ, মাওলানা মাসঊদুল কাদির, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ মাসঊদ, মাওলানা জিয়া বিন কাসেম, মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ, মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা কুতুব উদ্দীন, জামিয়তুল ইসলাহ কিশোরগঞ্জের শায়খুল হাদীস মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন, পঞ্চগড় জমিয়তের আহবায়ক মাওলানা ওয়াহীদুজ্জামান, গাজীপুর জমিয়তের আহবায়ক মাওলানা আব্দুর রহীম তালুকদার। কুমিল্লা জমিয়তুল উলামার আহবায়ক মাওলানা সারওয়ার আলম ভূইয়া প্রমুখ।


