বাবরি মসজিদ বিষয়ে আগের রায় বহাল, ক্ষোভ মুসলমানদের

বাবরি মসজিদ বিষয়ে আগের রায় বহাল, ক্ষোভ মুসলমানদের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (নয়াদিল্লি) : নামাজের পড়ার জন্যে মসজিদ অবশ্যক নয় বলে ১৯৯৪ সালে রায় দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিমকার্ট। ওই মামলার আপিল নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আদালত আগের রায়টিকে বহাল রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে আবেদনটি খারিজ হয়৷

এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০১০ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ-রামের জন্মভূমি নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি যেভাবে ভাগ করে দিয়েছিল, সেখানে আদালতের ওই রায়ের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ মুসলমানদের৷ সেই জায়গা থেকে নামাজ ও মসজিদ নিয়ে রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা হয়েছিল৷

সর্বোচ্চ আদালত আদেশে বলেছে, রামের জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের জমি দ্বন্দ্বের রায় অযোধ্যার মূল মামলার বিচারে কোনো প্রভাব ফেলবে না৷ তাতে আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারিত দিনেই অযোধ্যার মূল মামলার শুনানি শুরু হতে আর কোনো বাধা থাকছে না৷

মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ ওলী গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেন, পৃথিবীতে যত স্থান রয়েছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি দামি ও প্রিয় স্থান হলো মসজিদ। আর মসজিদ বলা হয় নির্দিষ্ট একটি স্থানকে। যদিও নামাজ পড়ার জন্যে মসজিদে নামাজ পড়া আবশ্যক নয়। তবে মসজিদে ভেঙে ফেলে, মসজিদের জায়গায় অন্যকিছুর নির্মাণ করা কোনভাবেই জায়েয নয়। সুতরাং আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে পুণরায় বিবেচনা করার কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে করসেবক নামে পরিচিত উগ্রপন্থি হিন্দুরা ষোড়শ শতকের বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়৷ মসজিদের জায়গায় রামের জন্মভূমি ছিল বলে দাবি করে সেখানে মন্দির করতে চায় তারা৷

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ওই জমি তিন পদ্ধতিতে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়৷ তবে মূল অংশ পায় হিন্দুরা৷ হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় উভয় পক্ষ৷ এ সমস্যার এখনও কোনো কার্যত সমধান হয়নি।

ভারতের শীর্ষ আলেম উলামা ও নেতৃস্থানীয় অনেকেই এ রায়ের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেছেন।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ, উর্দু ডেইলি পত্রিকা
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *