বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকুক বেফাক

বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকুক বেফাক

বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকুক বেফাক

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আল হাইয়াতুল উলইয়া এবং বেফাক যেন বিতর্কিত না হয়। সেই কামনা আমরা সবাই করি। আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমীয়া এটা একটা সর্বোচ্চ কওমী শিক্ষা বোর্ড। এটার সাথে দেশের সকল কওমী বোর্ড গুলো যুক্ত রয়েছে। এর কাজ হলো শিক্ষা নীতি প্রনয়ন। দেশের কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা নেওয়া। সে মোতাবেক ফল প্রকাশ করা। উত্তীর্ণ ছাত্রদের সনদ বিতরণ করা।

এটাই হলো হাইয়াতুল উলয়ার কাজ। এ ছাড়া অন্য কোন কাজ নেই।

এমনি ভাবে বেফাক ও একটা শিক্ষা বোর্ড। এর কাজ ও শিক্ষা নীতি প্রণয়ন। ছাত্রদের পরীক্ষা নেওয়া। ইত্যাদী কাজ তারা করে থাকে। কিন্তু হাইয়াতুল উলইয়া আর বেফাকের কাজ কিন্তু ফতোয়া দেওয়া নয়। কে গোমরাহ? কে কাফের? কে ফাসেক? এগুলো ফতোয়া দেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু শিক্ষা বোর্ডের নয়।

ফতোয়া দিবেন আলেমগণ, মুফতী গণ। তার জন্য আলেমদের বা মুফতী সাহেবদের ফতোয়া বোর্ড গঠন করা যেতে পারে। তাঁর মাধ্যমে ফতোয়ার কাজ করা হবে।
এখন যদি শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার কার্যাবলী ছাড়া ফতোয়া দেন, তাহলে আমাদের এই বোর্ডটা বিতর্কিত হয়ে যাবে।

আমরা কিন্তু অনেক কষ্ট স্বীকার করে এই বোর্ড গঠন করেছি। এক উছিলায় আলেমগণ এক প্লাটফরমে এসেছি।এখন ফতোয়া দিতে যেয়ে যদি আমাদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয়, সেটা হবে বড় দুঃখজনক।

এখানে মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত রয়েছে। মুফতি ইজহার সাহেবের একটা নিজস্ব মত থাকতে পারে। সেটা যদি আলেমদের মনপুত না হয়, তাহলে ব্যক্তি মুফতি ইজহার সাহেবকে বয়কট করা যেতে পারে। কিন্তু নিরপরাধ ছাত্রদের সাথে দুশমুনি কেন? ছাত্ররা তো কোন অন্যায় করিনি?

মুফতি ইজহার সাহেবের ত্রুটির কারণে তার মাদ্রাসার ছাত্রদের পরীক্ষা বঞ্চিত করা উদোর পিণ্ডিবুধোর ঘাড়ে চাপানোর নামান্তর।

সেই মফস্বলের মাদ্রাসার হুজুরদের কিছু কর্মকান্ডের কথা মনে পড়ল, ছাত্ররা যদি কোন অন্যায় করে, সঙ্গে সঙ্গে হুজুররা বলেন, এ্যাই বেটা তোর খানা বন্ধ!!! এভাবে খানা বন্ধ করে ছাত্রদের টাইট দিয়ে থাকেন।

আমাদের হাইয়াতুল উলয়া এখন সেই মফস্বলের হুজুরদের ভুমিকায়, কোন অন্যায় হয়ে গেলে, সে আর পরীক্ষা দিতে পারবেনা।

এই বিষয়টা কতটুকু যুক্তিযুক্ত একটু ভেবে দেখার দরকার। কথায় কথায় খানা বন্ধ করার মত যদি পরীক্ষাও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিষয়টা হাস্যকর হয়ে দাঁড়াবে। এবং সেই সাথে আমাদের শিক্ষা বোর্ড বিতর্কিত হয়ে যাবে সেটা সন্দেহ নেই।

লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *