গণমাধ্যমে নিহত ৩২ জনের ছবি
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চরম বর্বরতার শিকার যে পঞ্চাশজন নিহত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলায় তাদের মধ্যে ৩২ জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালানো হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের নিহতের খবর মিলেছে। ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৩২ জনের ছবি প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। একইসাথে কিছু তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুসহ শিক্ষার্থী পাইলট, প্রকৌশলী এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়েছে।
এদিকে, বুধবারের মধ্যে সব মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার। নিহত ৫০ জনের মরদেহ শনাক্তে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। মুসলিম নিয়মানুযায়ী তাদের দাফন সম্পন্ন করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট জাসিন্ডা আরডার্ন জানান, শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলোকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে বর্বরোচিত হামলার ঘটনাস্থল দুই মসজিদের দরজায় ফুলের তোড়া ও কার্ড নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন ক্রাইস্টচার্চসহ আশপাশের বাসিন্দারা। এসব কার্ডে নিহতের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা জানিয়েছেন তাদের অন্তরের কথাগুলো। কার্ডগুলোর কোনটিতে লেখা- ‘খুবই দুঃখিত। আমরা সবাই এমন নই।’
কোনোটিতে স্থানীয় রিয়ো ভাষায় লেখা- ‘কিয়া কাহা’ যার অর্থ ‘রুখে দাঁড়াও’।
শুধু কার্ড নয়, অনেকে রাস্তায় চক দিয়ে লিখেছেন- ‘ওরা কোনো দিন জিততে পারবে না। ভালোবাসাকেই বেছে নাও।’
অনেকে ফুলের তোড়ার সঙ্গে চিরকুট লিখে সেখানে নিজের ফোন নাম্বার দিয়েছেন। চিরকুটে লেখা রয়েছে- ‘পাশে আছি। আমাদের সঙ্গে কষ্ট ভাগ করে নিতে পার।’
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জোড়া মসজিদে শুক্রবারের ওই বর্ণবিদ্বেষী হামলায় আক্রান্তদের পরিবারের সমবেদনা জানাতে এভাবেই বার্তা দিলেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকাল থেকেই শহরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে জড়ো হয়েছিলেন ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দারা। সঙ্গে এসেছিল ছোট্ট শিশুরাও।
তাদের সবার হাতে নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ফুল আর মুখে একই বাণী- এ হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, তারা আমরাই। আমরা সন্ত্রাসবিরোধী।
এদিকে শুক্রবারের হামলাকে ‘নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অন্ধকারতম দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরদার্ন।
হামলাকারী আমাদের কেউ নন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত ও আহতের সবাই অন্য কেউ নন, তারাই আমরা। যারা এ দেশকে নিরাপদ বাসভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড তাদেরই।
সূত্র : ডেইল মেইল


