নিজস্ব প্রতিবেদক : একের পর এক দুর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। হাত, পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, অসংখ্য মানুষ। দেশে সড়ক পথের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা আর নৈরাজ্যের সাক্ষী রাজধানীর তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীবের হাত। খোদ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীব দুই সপ্তাহ বেঁচে থাকার লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার মানেন। রাজীবের মৃত্যুর দিনই গোপালগঞ্জে ট্রাকের ঘষায় এক হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বাসযাত্রী খালিদ হাসান হৃদয়ের। তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তিনি। প্রতিনিয়ত এমন অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটলেও বেপরোয়াভাবে পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো যেন থামছেই না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট রিসার্স ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে ২ হাজার ৯১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৬৭২ জন মারা যান। আহত হন আরও ৭ হাজার ৪০০ জন। আর ২০১৮ সালে প্রথম তিন মাসে ৭৯৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ১ হাজার ০৪৯ জনের। আহত হন আরও ২০১৫ জন।
অথচ দুর্ঘটনার দায় নিতে রাজি নন চালকরা। তারা জানান, একটু আগে যেতে পারলেই যাত্রী বেশি ওঠানো যায়। তাই এমন পাল্লাপাল্লি।
এ ব্যাপারে গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে গণ্য না করার কারণেই সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। আইনের প্রতি প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন পরিবহন মালিকরা। দেশের মানুষ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরিবহন খাতের নৈরাজ্যের জন্য সচেতন মহল থেকে বারবার বিআরটিএর গাফলতিকে দায়ী করলেও কর্মকর্তাদের কণ্ঠে একই সুর, আইন ভঙ্গকারী চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর রোড সেফটি পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহাবুব-ই-রাব্বী বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। পরিবহনের মালিক, শ্রমিক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্বলিত চেষ্টায় এ সমস্যা থেকে বের হওয়া সম্ভব। পরিবহন মালিক ও চালকদের সদিচ্ছা ছাড়া কেবল আইনের প্রয়োগ দিয়ে, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয় বলেও জানালেন, বিআরটিএর এই কর্মকর্তা।


