বৈদেশিক বিনিয়োগে আগ্রহীদের সহযোগিতা করুন

বৈদেশিক বিনিয়োগে আগ্রহীদের সহযোগিতা করুন

বৈদেশিক বিনিয়োগে আগ্রহীদের সহযোগিতা করুন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিনিয়োগবান্ধব সরকার থাকলেই বিদেশিরা আগ্রহ প্রকাশ করে। এই আগ্রহকে ধরে রেখেই বিনিয়োগ সাফল্যকে ইতিবাচক মনে করে এগিয়ে যেতে হবে। বিনিয়োগের সুবাতাসকে আমরা স্বাগত জানাতে চাই।। বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে দেশ আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে। এক বছরেই বিনিয়োগ বেড়েছে ৫১ শতাংশ।

দেশের ইতিহাসে একক বছর হিসাবে ২০১৮-১৯ সালে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। যার পরিমাণ ৪৯৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। নিট হিসাবে এর পরিমাণ ৩৮৮ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। একটি জাপানি কোম্পানির বড় আকারের বিনিয়োগের কারণেই গত অর্থবছরে বিনিয়োগ সন্তোষজনকহারে বেড়েছে। গত অর্থবছরে আকিজ গ্রুপের মালিকানায় থাকা ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড (ইউডিটিসি) কিনে নিয়েছে জাপান টোব্যাকো (জেটি) গ্রুপ। এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে জেটি এদেশে প্রায় ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে। যা গত অর্থবছরে আসা মোট এফডিআইয়ের ৭০ শতাংশ। একথা স্পষ্টতই পরিষ্কার যে, দেশ একটা স্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে। যে কারণে বিদেশিদের বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা পালন করে। সরকারের ধারাবাহিকতাও বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখছে। এর বাইরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, সহজে ব্যবসা করার সূচক উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখছে।

এক অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ থেকে মুনাফা বা ঋণ হিসেবে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া অর্থ বাদ দিয়ে যা থাকে সেটি হচ্ছে নিট বিনিয়োগ। গত অর্থবছরে ঋণ ও মুনাফা হিসেবে বিদেশি কোম্পানিগুলো ১০৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার নিয়ে গেছে। এতে নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩৮৮ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এক বছরের ব্যবধানে ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি সুবাতাসের লক্ষণ হলেও প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা তা সংশয়ের ঊর্ধ্বে নয়। কারণ বিনিয়োগের ৭০ শতাংশ এসেছে একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধের কারণে অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে তাদের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নিতে আগ্রহী।

এমনকি চীনও নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে সস্তা শ্রমের জন্য বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। সে ব্যাপারে উৎসাহিত করা সম্ভব হলে বৈদেশিক বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। আমরা মনে করি, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করা যেতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *