ভারতের মাদ্রাসায় সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন নেই : মাহমুদ মাদানী

ভারতের মাদ্রাসায় সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন নেই : মাহমুদ মাদানী

পুরনো সংবাদ

ভারতের মাদ্রাসায় সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন নেই : মাহমুদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে মাদ্রাসা আধুনিকীকরণের সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানী। তিনি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের দুই বছর পূর্তিতে মুসলিমদের জন্য নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তাদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

গণমাধ্যমে প্রকাশ, মাওলানা মাদানী মুসলিমদের পিছিয়ে পড়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারে দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ কংগ্রেসের সঙ্গে ছিল। মাদানী বলেন, কংগ্রেসের উপরে তাদের এখনো সহানুভূতি রয়েছে কিন্তু তারা মুসলিমদের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দেয়া ছাড়া কিছুই করেনি।

তিনি বলেন, মোদি সাহেব যদি মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন তাহলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’
মাওলানা মাদানী বলেন, ধরে নিলাম তিনি সহানুভূতিশীল। তাহলে তিনি আমাদের জন্য স্কুল তৈরি করে দিন। আমাদের এলাকার জন্য কলেজ তৈরি করে দিন। আমাদের এখানে দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করা হোক। দয়া করে আমাদের মাদ্রাসা নিয়ে পড়বেন না।

মাওলানা মাদানী আরও বলেন, ‘আমাদের কওম অনাহারে থেকেও মাদ্রাসা তৈরি করেছে এবং চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এভাবেই চালিয়ে যাব। মাদ্রাসার জন্য ওদের কোনো সাপোর্টের প্রয়োজন নেই। এতে হাত লাগাতে দেব না।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে সংসদে প্রথম বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তিনি মাদ্রাসায় আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা আনতে চান। এক টিভি চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠানেও তিনি মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার এবং মাদ্রাসা আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতির কথা পুনরাবৃত্তি করে বলেন, তাদের (মুসলিম শিশু) এক হাতে কুরআন থাকলে অন্য হাতে কম্পিউটার থাকা উচিত।

মাদ্রাসায় কম্পিউটারকরণ তথা আধুনিকীকরণের জন্য ২০১৪-’১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ কোটি টাকার ঘোষণাও দিয়েছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মানব সম্পদ এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রককে দায়িত্বও দেয়া হয়। যদিও মাওলানা মাদানীর মতে ‘আমরা নিজেরাই কম্পিউটার ইত্যাদি স্থাপন করছি। আমরা যা করতে পারি, তাই করে যাচ্ছি। কিন্তু সরকারের সাহায্যের কোনো প্রয়োজন নেই।

বিচারপতি রাজিন্দর সাচার কমিটির রিপোর্টে প্রকাশ, মুসলিম যুবকদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে থাকে। এদের মধ্যে মেয়েরাও রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *