ভারতে রোজায় ভোট চায় না মুসলমানরা

ভারতে রোজায় ভোট চায় না মুসলমানরা

ভারতে রোজায় ভোট চায় না মুসলমানরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রমজান মাসে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সূচি তৈরি করা হয়েছে। ফলে মুসলিম ভোটার ও ভোট কর্মীদের ইবাদতে অবশ্যই অসুবিধা হবে। দুর্গাপুজা কিংবা নবরাত্রীর সময়ও ভোট অনুষ্ঠান করা উচিত নয়। নাগরিকদের ধর্মীয় চেতনাকে অবশ্যই মর্যাদা দিতে হবে। ‘রমজান মাসে ভোট কেন’ এ নিয়ে ভারতের বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হলো—

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন— ‘রমজান মাসে ভোট না হলেই ভালো হত। বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারতো নির্বাচন কমিশন।’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (কংগ্রেস) আব্দুল মান্নান বলেছেন— ‘রমজানে নির্বাচন হলেও কোন অসুবিধা নেই। এর আগেও রমজান মাসে নির্বাচন হয়েছে।’

সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ সেলিম বলেছেন—  দেশের প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের ইমোশনের গুরুত্ব দেন না। দেশের প্রধানমন্ত্রী মুসলিম সম্প্রদায়কে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্যেই রমজানের মধ্যে নির্বাচন করাচ্ছেন। আগে চক্ষুলজ্জা ছিল, এখন তাও চলে গেছে। রমজান মাসে নির্বাচন হওয়ায় ভোট প্রচারে সমস্যা হবে। রমজান মাসে নির্বাচন না করলেও পারতো।

ভারতের নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী বলেছেন— রমজান মাস ত্যাগ এ তিতিক্ষার মাস। এই মাসে নির্বাচন দেওয়া উচিত হয়নি। কারণ, নির্বাচনে অনেক জায়গায় সমস্যা হতে পারে। তাই রোজাদারদের অসুবিধা হবে।

বিধায়ক ডা. নুরুজ্জামান বলেছেন— ‘রমজানের আগে নির্বাচন না হলেই ভালো হত। রমজান মাসে ভোট হলে স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম সমাজের কিছু সমস্যা দেখা দিবে। সাতদফা না করে রমজানের আগেই ভোট শেষ করা উচিত ছিল।

প্রাবন্ধিক ও লেখক এম এ শামসুদ্দিন বলেছেন— ‘রমজান হলো সিয়াম সাধনার মাস। রমজান মাসে নির্বাচন হলে অসংখ্য মুসলিম ভোটার ও সরকারি কর্মীরা সমস্যার পড়বেন। রমজানে ভোট না হলেই ভালো হত।’

সারাবাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন— রমজানের মত গুরুত্বপূর্ণ মাসকে অবজ্ঞা করে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা খুই দুর্ভাগ্যজনক। সারাবাংলা সংখ্যালঘু কাউন্সিলের পক্ষ থেকে রমজানে নির্বাচন না করার জন্য স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। বিবেচনা না করার ফলে মুসলিম ভোটদাতা ও মুসলিম সরকারি কর্মীরা সমস্যায় পড়বেন। এতে আমরা ব্যথিত।

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদরাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম ফারহাদ বলেছেন— রমজান মাসে কেন নির্বাচন রাখা হলো। এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভাবা উচিত ছিল। এতে রোজাদারদের অসুবিধায় পড়তে হবে।

গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ

সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

সূত্র : কলম, পশ্চিম বাংলার একটি পত্রিকা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *