সাইকেলে হজে যেতে চান কেনিয়ার চার মুসলিম
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আধুনিক যুগে একমাত্র বিমানে হজে যাওয়ার গল্পই এখন সবাই জানে। তবে একসময়ের জাহাজে হজে যাওয়ার পদ্ধতি এখনো চালু আছে। একসময় হেঁটে হেঁটেও হজে যাওয়ার পদ্ধতি চালু ছিল। কেউ ঘোড়ায়, কেউ গাধা বা খচ্চরে, কেউ আরও অনেক পশুর উপর সোয়ার হয়ে হজে যেতেন। তবে ব্যতিক্রম বলতে হবে কেনিয়ার এই চার যুবক যুবতির হজের যাওয়ার মিশন। তারা বাই সাইকেলে চরে হজে যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। অভিজাত এই চার জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী।
সাইকেল চালিয়ে হজে যেতে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন কেনিয়ার ৪ অভিজাত নাগরিক। তারা কেবল হজেই যাবেন না, পথে পথে তারা দরিদ্রদের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি সেবা সংগঠনের কল্যাণ তাহবিলও সংগ্রহ করবেন।
১০ জুন কেনিয়া থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের ৪৫ দিনের দীর্ঘ সাইকেল ভ্রমণের জন্য নিজেদের তৈরি করতে পাহাড়ি এলাকায় সাইকেল চালিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
আফ্রিকা থেকে এটি হবে প্রথম হজ কাফেলা, যারা সাইকেলে পবিত্র হজ পালনে যাত্রা করবেন।
কেনিয়া কোস্ট ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কেসিটিএ) অফিসার মোসাম্বা জানিয়েছেন, কেনিয়ার এ চার সাইক্লিস্ট বলেছে যে, তারা ৪৫ দিনে কেনিয়া থেকে পবিত্র হজ পালনে মক্কায় পৌঁছতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
কেনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে ইথিওপিয়া, উত্তর সুদান হয়ে ফেরিতে লাল সাগর পাড়ি দিয়ে জেদ্দা বন্দর হয়ে পবিত্র হজ পালনে মক্কায় পৌঁছবেন তারা।
সাইকেলে হজে যাওয়া দলের চার সদস্য হলেন, মোহাম্মদ জহির (দলনায়ক), আনোয়ার মানসুর, মোহাম্মদ সেলিম মোহাম্মদ এবং নারী প্রতিনিধি ওসমান ইদরিসা।
কেসিটিএর প্রতিনিধি ফারুক ওয়ার বলেন, কেনিয়ার নাইরোবি থেকে মক্কা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মাইল পথ অতিক্রম করতে হজে গমনকারী সাইক্লিস্টদের জন্য গন্তব্যস্থলের লোকেশনসমৃদ্ধ মানচিত্র অন্যান্য বিষয়াদি সরবরাহ করেন। তাদের এ ভ্রমণকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাদের মঙ্গল কামনা করেন।
সাইকেলে হজে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চার সদস্যের এ হজ টিম আড়াই লাখ মার্কিন ডলারের তাহবিল সংগ্রহ করবে। এ অর্থ দিয়ে তারা কেনিয়ার নামাঙ্গা এলাকায় আল-ফোরকান ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের জন্য আল-ফোরকান টাওয়ার নির্মাণ করবে।
আল-ফোরকান ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এক স্বেচ্ছাসেবী দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করার সংগঠন। এ সংগঠন আইটিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়। সাইকেলে হজ পালনকারীদের টার্গেট পাঁচ লাখ ইউএস ডলার সংগ্রহ করা।
সাইকেলে সফরকারী দলের উদ্দেশ্য শুধুই হজ পালন নয় বরং হজের পাশাপাশি দারিদ্র্যের সেবায় অর্থ তাহবিলও সংগ্রহ করা। মানবসেবার এক উজ্জ্বল দিকও রয়েছে তাদের এই সফরে।
এ দলটি সাইকেলে চরে প্রথম দল নয়। ২০১৭ সালে পবিত্র হজ্ব পালন করতে সাইকেলে চরে লন্ডন থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ৩ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ ৮ ব্রিটিশ মুসলিম। তাদেরও লক্ষ্য ছিল এই যাত্রা থেকে সংগৃহীত অর্থ সিরিয়ার যুদ্ধবিধস্ত মানুষের জন্য দান করা। তারা ফ্রান্সে যাত্রা শুরু করার আগে লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল রোডের ইস্ট লন্ডন মসজিদের সম্মুখে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সাইকেল আরোহীরা। হজ্ব যাত্রায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা ছিলেন দবির ইবনে মুবারক, সাইফুল্লাহ নাসের, আব্দুল মুকিত। এছাড়া মুহাম্মদ এহসান হোসেন, শাহেব ইউসুফ মুহাম্মদ, আবু দুজানাহ ইমরান ও তাহির হাসান আক্তার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এবং আব্দুল ওয়াহিদ ব্রিটিশ নাগরিক।



