মসজিদে মহিলাদের নামাজ পড়ার অধিকার নিয়ে মামলা
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মসজিদ আল্লাহর ঘর। এ ঘর নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়। মসজিদে নারীরা আসতে চায়। নামাজ আদায় করতে চায়। কিছু কিছু মসজিদে মেয়েদের একটু বসার, নামাজ পড়তে আসা কাউকেই আসলে মসজিদে আসতে নিষেধ করা কি উচিত? কখনোই নয়। মসজিদে মহিলাদের প্রবেশ ও নমাজ পড়ার অধিকারের দাবিতে করা জনস্বার্থ মামলার বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নোটিশ পাঠানো হয়েছে ওয়াকফ বোর্ডকেও। পুনের দম্পতির করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ও বোর্ডকে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি এসএ বোবদের বেঞ্চ। টাইমস অব ইন্ডিয়া
এই আপিল গ্রহণ করে এ দিন শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘শবরীমালা মন্দির নিয়ে আমাদের রায়ের কারণে এই মামলারও আমরা শুনানী করবো।’ আদালতে আবেদনটি করেছেন ইয়াসমিজ জুবের আহমেদ পিরজাদে এবং জুবের আহমেদ পিরজাদে। মহারাষ্ট্রের ওই দুই বাসিন্দার আবেদনের মূল নির্যাস একটাই, মসজিদে ‘লিঙ্গবৈষম্য’ নির্মূল করা।
আবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদে মহিলাদের ঢুকতে না দেওয়া বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। কারণ এর জেরে মহিলাদের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। নিজেদের দাবির সাপেক্ষে পিরজাদে দম্পতি কোরান এবং হাদিস দু’জায়গা থেকেই উদাহরণ দিয়েছেন।
বর্তমানে ভারতের জামায়াত-ই-ইসলামি এবং মুজাহিদ সম্প্রদায়ের মসজিদে মহিলাদের প্রার্থনা করতে দেওয়া হয়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি ধর্মবিশ্বাসী বাকিদের মসজিদে ঢোকার অনুমতি নেই তাঁদের। যে সব মসজিদে মহিলারা প্রবেশাধিকার পান, সেখানে তাঁদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ থাকে।
অনেক মসজিদে রয়েছে আলাদা প্রার্থনা করার জায়গা। আবেদনকারীদের আইনজীবী আশুতোষ দুবে বলেন, এ ধরনের প্রথায় ব্যক্তি হিসেবে এক জন নারীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়।
মসজিদে নারীর নামাজ
সব মিলিয়ে মহিলারা খুব মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে খুব বেশি একটা আগ্রহী হয় না। প্রকৃত বিষয়টি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ব্যাখ্যা করেছন। নিচে এ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণীত রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে(নারীদের) মাসজিদে যেতে নিষেধ করো না। আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) অন্য সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে মাসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করো না। [সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক,আবু দাউদ, মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩২৭,খণ্ড-২]
আব্দুল্লাহ ইবন উমার(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণীত রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা তোমাদের নারীদেরকে রাত্রিবেলা মাসজিদে যাওয়া থেকে বাধা প্রদান করবে না। [মুসনাদ ইমাম আহমাদ;হাদীস-১৩৩২,খণ্ড-২]
তবে অন্যত্র নবীজী নিজেই বলেছেন, হজরত আবদুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ক্ষুদ্র কক্ষে নারীদের নামাজ বড় কামরার নামাজের তুলনায় উত্তম। ঘরের নির্জন কোণে নামাজ ক্ষুদ্র কক্ষের নামাজের তুলনায় উত্তম।’ [আবু দাউদ, হাদিস : ৫৭০ (হাদিসটি সহিহ)]
অন্য বর্ণনায় হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নারীদের ঘরে নামাজ পড়া ঘরের বাইরে নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম।’ (আল মু’জামুল আওসাত, হাদিস : ৯১০১)
উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নারীদের নামাজের উত্তম জায়গা হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৬৫৪২ (হাদিসটি হাসান)]
উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায়—এক. পুরুষদের দায়িত্ব পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়া, আর মহিলাদের দায়িত্ব হলো ঘরে নামাজ পড়া। দুই. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মহিলাদের জন্য জামাতে শরিক হওয়া ওয়াজিব, সুন্নাত বা অত্যাবশ্যকীয় ছিল না; বরং শুধু অনুমতি ছিল। তবে সেটিও এমন, অপছন্দের সঙ্গে ও শর্তসাপেক্ষ ছিল।
তিন. হজরত উম্মে হুমাইদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথার ওপর আমল করার জন্যই মসজিদ ছেড়ে সারা জীবন বাড়ির নির্জন কক্ষে নামাজ আদায় করেছেন। সে যুগের নারীরা সাধারণত এটাই করতেন। চার. সে যুগের পরিবেশ ভালো ছিল, এ জন্যই কেবল মহিলাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নচেৎ রাসুল (সা.)-ই কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করতেন।


