মহাজোটের আসন বণ্টন নিশ্চিত হবে শনিবার বা রবিবার

মহাজোটের আসন বণ্টন নিশ্চিত হবে শনিবার বা রবিবার

পাথেয় রিপোর্ট : নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিএনপি জোটের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। সব প্রস্ততির সাথে ইতোমধ্যেই দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ।এখন অপেক্ষা শুধু ঘোষণার।

এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলটির ভাবনা এখন মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে। ১৪ দলের বাইরে এবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সঙ্গী জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা ও নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি। এ তিনটি দলের সঙ্গে রয়েছে পৃথক তিনটি জোট। জাতীয় পার্টির সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৫৮টি রাজনৈতিক দল। আর নাজমুল হুদার সঙ্গে রয়েছে বিএনএ (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স) নামে ২০টির মতো দল।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টে রয়েছে ১২টি দল । এর মধ্যে ৫টি নিবন্ধিত। নিবন্ধিত দলগুলো হচ্ছে- বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।

এর বাইরেও জাকের পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক ফ্রন্ট, সম্মিলিত ইসলামী জোট, ইসলামী ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আরও কয়েকটি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করতে চাইছে। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগের এবার নির্বাচনী সঙ্গী ৯০টিরও বেশী রাজনৈতিক দল। যদিও এসব দলের বেশীরভাগেরই নিবন্ধন নেই। তারা আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করতে চাইছে।

পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। তারা মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড, ফরাস উদ্দিন, জনপ্রিয় অভিনেত্রী শমী কায়সার এবং পুলিশের সাবেক একজন আইজি।

সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনী সঙ্গীদের নিয়ে আওয়ামী লীগকে এবার ভাবতে হচ্ছে অনেক বেশী। ভেতর বাইরে চলছে নানা হিসেব নিকাস। কাকে কিভাবে সন্তুষ্ট রাখা যায় তা নিয়ে এবার ক্ষমতাীন এ দলটির ভাবনাটা একটু বেশীই।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, নির্বাচনী সঙ্গী অনেক দল হলেও তারা সবাই আসন পাবে না। আওয়ামী লীগ উইনেবল ক্যান্ডিডেটকে মনোনয়ন দেবে।সে যে দলেরই হোক না কেন।এমনকি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও সমস্যা নেই।

দলটির মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েেছে, মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ৭০ আসন ভাগ করে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২৪ নভেম্বর শনিবার কিংবা আগামীকাল রোববার এ তালিকা প্রকাশের জোর সম্ভাবনা আছে। এই ৭০ টি আসনের মধ্যে বড় অংশই পাবে জাতীয় পার্টি। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫০ টির মতো আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বধানী ৫৮ টি দলের মধ্যে মাত্র তিনটি দল নিবন্ধিত। এ মুহূর্তে মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দরকষাকষি করছে জাতীয় পার্টি। তারা ১০০ আসন চেয়েছে। জাতীয় যুক্তফ্রন্ট আওয়ামী লীগের কাছে ২৩ টি আসন চেয়েছে। আওয়ামী সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫টি আসনে তাদের ছাড় দিতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটে দলের সংখ্যা ১২টি। চারটির নিবন্ধন নেই। এ চারটি দল হল- কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (রেজাউর রশীদ খান) ও গণআজাদী লীগ। নৌকার প্রতীক চেয়ে আবেদন করা এসব দলের কোনো নেতাকে এবার মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

১৪ দলের জোট শরিক নিবন্ধিত ৮ দলের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১৫টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। বাকি চারটির মধ্যে একটি আওয়ামী লীগ। অপর তিনটি দল সংসদে কোনো আসন পায়নি। এবারও সম্ভবত তাদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না।

মহাজোটের শরিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঢাকা-১৭ আসনের বর্তমান এমপি। মহাজোটের কারণে সম্ভবত এ আসনটি বিএনএফকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, জোট শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনী আসন নিয়েই সমঝোতা হবে। যেখানে যে দলের উইনেবল প্রার্থী থাকবে, তাকেই জোটের প্রার্থী করা হবে। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে। সবার চাওয়া-পাওয়া শোনা হচ্ছে। আমরাও সবার সুবিধা ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের দিকেই যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, হাতে সময় খুবই কম। আমরা সব গুছিয়ে এনেছি। এখন ঘোষণার পালা। জোটের আসন সমঝোতাও শেষের পথে। শনিবার অথবা রোববার নাগাদ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগসূত্রে জানা যায়, ১৪-দলীয় জোটে মাত্র চারটি দল আছে সারা দেশে যাদের ১০ থেকে ১২ জন প্রার্থী জনপ্রিয়। জোটের ব্যানারে এদের জিতিয়ে আনা সম্ভব। বাকিদের অবস্থা নাজুক। অথচ এ ১৪ দল থেকে আওয়ামী লীগের কাছে কমপক্ষে ১০০ আসনে মনোনয়ন চাওয়া হয়েছে।

ওই আসনগুলোতে বর্তমানে যারা এমপি আছেন তাদের সঙ্গে জনপ্রিয়তার বিচারে ১৪ দলের প্রস্তাবিত নামগুলো অনেক পিছিয়ে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ঝুঁকি না নেয়ার কথা ভাবছে।

সূত্রটি আরও জানায়, নির্বাচনের পর যদি বিজয় নিশ্চিত হয়, তখন এসব জোট শরিকের জন্য টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী, সংরক্ষিত মহিলা কোটায় এমপিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব থাকছে চূড়ান্ত বৈঠকে। জোটের অনেক শরিক ইতিমধ্যে সরকারি দলের প্রস্তাব মেনে নেয়ার আভাসও দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *