পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশে আসার ভিসা পেলেন না পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি তার স্ত্রী, কন্যা ও দেড় বছরের নাতনি নিয়ে ২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ-ছ’দিনের দিনের সফরে বাংলাদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন করেন। বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট ও তিনি কেটেছিলেন। অনলাইনে যথাযথভাবে ফর্ম পূরণ করার পর মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরীর একান্ত সচিব প্রদীপ আগরওয়াল ডেপুটি হাই কমিশন অফিসে যোগাযোগ করে এক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরীকে জনশিক্ষা দফতরের অফিসকর্মী প্রবীর ঘোষ ভিসার জন্য পাসপোর্টসহ অনলাইনে জমা দেওয়া ফর্ম নিয়ে মোট তিনবার ভিসা অফিসে যান। কিন্তু প্রতিবারই কোনোরূপ সদুত্তর না দিয়ে ডেপুটি হাই কমিশন অফিস তা প্রত্যাখ্যান করেছে। অফিস থেকে হ্যাঁ ও বলে না, না ও বলে না, শুধু বলে আমরা দেখছি।
মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী যেহেতু রাজ্যের মন্ত্রী। স্বভাবতই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি ও দিল্লির কেন্দ্র সরকারের ছাড়পত্র নিতে হয়। নবান্ন ও কেন্দ্র সরকারের ছাড়পত্র ও যথারীতি পাওয়া গিয়েছিল। ভিসার আবেদনের সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ছাড়পত্রের প্রতিলিপি সংযুক্ত করা হয়েছিল। এরপর ও তাঁরা ভিয়ায়া দেননি যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক নজিরবিহীন। ভিসা কেন তাঁরা দেননি তার ব্যাখ্যা বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনার তথা বাংলাদেশ সরকার দেবেন।
বাংলাদেশে সিলেট সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার শতবার্ষিকী সভায় মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব আমন্ত্রিত ছিলেন। এর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর ছোটমামা সিলেটের উপকণ্ঠে বসবাস করতেন যিনি কিছুদিন আগে পরলোকগমন করেছেন। সেখানেও শোক জ্ঞাপন করতে তাঁর সস্ত্রীক যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ঢাকায় তার খালাতো (মাসতুতো) ভাই ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। সেখানে ও তাঁর যাওয়ার কথা ছিল। ওখানে পার্শ্ববর্তী হযরত শাহ জালাল (রহ.)- এর মাজারে ও ফাতেহা পড়ার সুযোগ তাঁর ছিল। তাই এই সফরসূচী ভিসার আবেদনে ও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবুও বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনার তাঁকে ভিসা দেন নি। বাংলাদেশ ডেপিটি হাই কমিশনার কোন কারণে এ কাজ করলেন তা আমাদের জানা নেই। এর নেপথ্যে কে আছেন তাও আমাদের অজানা। ভারতবর্ষের সুমহান গণতান্ত্রিক দেশের একজন নাগরিক তথা জনপ্রিয় মন্ত্রীকে বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়া, যুগপৎ দুঃখের ও বেদনার। জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে এটি অবগত করা হলো।
মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরীর অনুরোধ, কেউ যেন বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও দূতাবাসের অন্য -কর্মী অধিকারিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করেন। তাঁরা আমাদের দেশের অতিথি। দূতের সঙে অসদাচরণ আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। ভালো ব্যবহার করাটা আমাদের রুচি।



