জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ও মাদানী খান্দানের সাথে কোন তুলনা নেই
আমিনুল ইসলাম কাসেমী : দেওবন্দের মাদানী খান্দান এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাথে কোন তুলনা হয় না। কেননা, পুরো ভারতবর্ষের মাটির সাথে মিশে আছে তাঁদের অবদান। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ আর মাদানী পরিবারের সোনালী ইতিহাস কে না জানে! তাঁদের সাথে কারো উপমাই আসে না এই দেশে। তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, অবদান পুরো বিশ্বের মানুষের কাছে গ্রহণীয়।
এখনো জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাথে ভারতবর্ষের কোন ইসলামী সংগঠনের তুলনা করা যায় না। শত শত বছর ধরে যেমন তাঁরা দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রেখেছেন, বর্তমানেও তারা সক্রিয় ভাবে দেশ ও জাতির সেবা করে যাচ্ছেন। তাঁদের মেহনত, মোজাহাদা, কোরবানীর ফসল আমরা ভোগ করে যাচ্ছি। যেমন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁদের সীমাহীন কোরবানী, ত্যাগ, ঠিক এই সোনার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মাদানী পরিবারের অবদান। যেটা ইতিহাসের পাতায় চিরদিন জ্বল জ্বল করতে থাকবে। কোনদিন মুছে যাবে না।
মানুষ পৃথিবী বিখ্যাত এমনি এমনি হয় না, তাঁদের কর্মতৎপরতাই তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এবং মাদানী পরিবার যে কাজের আঞ্জাম তারা দিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত সেই ঐতিহ্যের ধারক হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। যার কারণে তাঁদের খ্যাতি এবং জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।
ভারতের পশ্চিম বাংলা ও আসামের বিধান সভা নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতাদের সফলতা এটা তাদের প্রাপ্য। কেননা, তাদের যে অবদান তারা নিঃসন্দেহে বিজয়ী হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এ মাটি তো আলেম-উলামার ত্যাগ ও কোরবানীর মাধ্যমে অর্জিত।
ফুরফুরার ভাইজান খ্যাত আব্বাস সিদ্দিকী সাহেবদের ছোট করা ঠিক নয়। তাদের পুর্বসুরীরাও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাথে এক সময় ছিলেন। বর্তমান হয়ত স্থানীয় রাজনৈতিক কোন বিষয়ের সাথে তারা একমত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে তেমন সফলতা না পেলেও তবে তাদের জনসমর্থন কিন্তু কম নয়। তারাও মানব সেবায় নিজেদের সঁপে দিচ্ছেন। হয়ত অদুর ভবিষ্যতে আলেমগণ এক হয়ে কোন ভাল সিদ্ধান্ত তারা নিবেন।
আব্বাস সিদ্দিকী সাহেবের পরাজয়ের উপমা দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের চরমোনাই এর পীর সাহেবদের সাথে। চরমোনাই এর সাথে কোন তুলনা হোক চাই না হোক, এক শ্রেণীর মানুষ জোর করে আব্বাস সিদ্দিকী সাহেবের পরাজয় এবং তাদের পীরগিরীর সাথে মিশাতে চাচ্ছেন।
দেখুন! ওপারের প্রেক্ষাপট এবং এপারের প্রেক্ষাপট সম্পুর্ণ ভিন্ন। সেখানে তাঁরা রাজনীতি করছেন, এটা তাদের ব্যাপার। তবে সেটাকে বাংলাদেশের চরমোনাই এর সাথে মিলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। চরমোনাইকে এত্ত খাটো করা ঠিক নয়। কেননা, চরমোনাইকে নিয়ে এখন সবাই ভাবছে। যারা এই ব্যঙ্গগুলো করছেন, তাদের অবস্থান কোথায়? তারা কিন্তু আরেকজনের কাঁধে ভর করে তারপরে এমপি-মন্ত্রী হয়েছিলেন। নিজেদের কোমরে কতটুকু জোর আছে, সেটা কিন্তু এ জাতি জানে।
চরমোনাই ওয়ালারা হয়ত নির্বাচনে সেসময়ে কোন আসন পায়নি। তবে একথা সত্য, চরমোনাইওয়ালারা তিনশত আসনে নমিনেশন দিয়ে যেভাবে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে, সেটা কিন্তু বড় চিন্তার বিষয়। যারা সমালোচনা করছেন, ওরাও কোন আসন পায়নি বিগত নির্বাচনে। তাহলে চরমোনাই এবং তারা আসন পাওয়ার দিক থেকে তো সমান। যদিও ফলাফল জিরো।
আরও পড়ুন: রাজনীতিকে ইসলামী করণের অন্ধকার!
কিন্তু চরমোনাইওয়ালারা তো তিনশত আসনে নমিনেশন দিয়েছে। আপনারা তো দিতেন পারেননি। সে হিসাবে কিন্তু চরমোনাই এর সংগঠন এগিয়ে। শুধু বিগত নির্বাচন নয়, কোন নির্বাচনে আপনারা তিনশত আসনে প্রার্থী দিতে পারেন নি। সুতরাং চরমোনাইকে খাটো করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
ওপারের আলেম-উলামা এবং বাংলাদেশের আলেম- উলামা এবং চরমোনাই এর পীর সাহেবান তারা দ্বীনি কাজ করে যাচ্ছেন। বরং তারা দ্বীনের মশাল জ্বালাচ্ছেন। যার দ্বারা উপকৃত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। পথহারা মানুষগুলো পথের দিশা পাচ্ছেন।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে হাফেজ্জী হুজুর রহ., শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ., চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করীম রহ., মাওলানা শামসুদ্দীন কাসেমী রহ., মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ., মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ., প্রমুখ আলেমগণ ইসলামী রাজনীতির চারা রোপন করেছেন। আজ হোক কাল হোক এর ফল আসবেই। তবে ওলামায়ে হক্কানী সব সময় ফেরাকে বাতেলার বিরুদ্ধে। যারা নবী-সাহাবীদের সমালোচনাকারী তাদের কোনদিন সমর্থন করেন না তারা যতই দম্ভ দেখাক, বাতিল কোনদিন কামিয়াব হবে না। পরাজয় হবেই। সত্যের জয় হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করেন। আমিন।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট


