মুস্তাফা জামান আব্বাসীর কার্ডকাহিনী
ফেলে দেয়া কার্ড।
আমি পুরনো দিনের বিয়ের কার্ড দেখতে খুব পছন্দ করি। দিনে দিনে কার্ডের কি বিবর্তন ঘটছে তা ভেবে অবাক হই। সেদিন একটি কার্ড পেলাম ওজন হবে প্রায় ২ কেজি। এর পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা পরিমাপ করতে বসলাম। অন্তত দু’শ’ টাকা খরচ হবে। তাতে নেই এমন কিছু যা ভু-ভারতে পাওয়া যাবে না। কার্ডটি জায়গা সংকুলান হবে না বিধায়, তাকে প্রথমেই ওয়েষ্ট পেপার বাস্কেটে জায়গা দিলাম। ছোট্ট একটি কার্ড খুঁজে পেলাম।
দু’টি লাইন আমার বিয়ে। আসবি তো? তরিকুল আলমের বিয়ের কার্ড। শুধু ঠিকানা। আর আমার বিয়ের কার্ড? পুরো আমার হাতের লেখা। মুক্তোর মত কিনা তা বলতে পারব না। লিখেছি আমার মার নামে। দুপুর বেলা বিয়ে। সামান্য খাওয়া। আমার ছেলেকে যারা ভালবাসে তারা আসবেন।
আগেরকার দিনের বিয়েতে প্রজাপতির ছবি থাকত। ওরা কোথায় উধাও নিলেন, আর থাকত বড় বড় অক্ষরে আল্লাহ্র নাম। বহুদিন কার্ডটি যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আরেকটি কথা আমি যত চিঠি লিখেছি [একজনকে] তা আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আর সে যা লিখেছে আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আইডিয়াটা কেমন? এগুলোই তো আইডিয়া। জীবনের সবকিছুই ফেলে দেয়া নয়।
মু. জা. আ.
৭ই বৈশাখ, ১৪২৬


