শবে বরাত : বাড়াবাড়িও নয় ছাড়াছাড়ি নয়
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : শবে বরাতের সময় হলে অনলাইনে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। এক গ্রুপ শবে বরাত নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি করেন। আরেক গ্রুপ শবে বরাতকে একদম অস্বীকার করেন।
আসলে দুই গ্রুপের এই আচরণ কাম্য নয়। ইসলামে কোন বিষয় নিয়ে যেমন বাড়াবাড়ি নেই, আবার কোন বিষয়কে একদম ছেড়ে দেওয়াও ঠিক নয়।
শরীয়াতে যতটুকু আছে, ঠিক ততটুকুর উপর আমল করতে হবে। সে ক্ষেত্রে কোন অতিরঞ্জিত করা যাবে না। আবার বাদ দেওয়াও যাবে না।
শবে বরাতের বিষয় নিয়ে আমাদের উলামায়ে হকের ভূমিকাই সবচেয়ে প্রশংসনীয়। উলামায়ে কেরামের কেঊ শবে বরাত নিয়ে বাড়াবাড়িতে নেই। আবার কোন আলেম শবে বরাত অস্বীকার করেন না।
শবে বরাত নিয়ে যারা বাড়াবাড়িতে লিপ্ত, তারা ইসলামের মধ্যে নতুনত্ব সৃষ্টি করছেন। ইসলামে যেটা নেই সেটা সংযোজন করে দিচ্ছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তাছাড়া শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির মানুষ হৈ হুল্লোড় করে থাকেন। সেই সাথে আতোশ বাজি, পটকা ফুটানো, মাজারে গিয়ে ভীড় জমানো ইত্যাদী গর্হিত কাজে মানুষকে দেখা যায়।
আসলে এই বাড়াবাড়ি গুলো ইসলাম সমর্থন করেনা।
ঠিক কিছু ভাই শবে বরাতকে সরাসরি অস্বীকার করেন। এটা আরেক ধরনের মুর্খতা। হাদীস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে তারা এই ধৃষ্টতা দেখান।
শবে বরাতকে যদি একদম অস্বীকার করে, তাহলে তো তারা হাদীসকেই অস্বীকার করল।
কেননা শবে বরাত সম্পর্কে স্পষ্ট সহী হাদীস রয়েছে। এখন যদি কেউ বলে হাদীসে শবে বরাত এর কথা নেই, তাহলে নিঃসন্দেহে সে হাদীস অস্বীকার কারী। আর হাদীস অস্বীকার করা মস্তবড় অপরাধ।
হাদীস শরীফে “লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান” মধ্য শাবানের ইবাদতের কথা রয়েছে। যেটা ইবনে মাজাহ শরীফে সহী সনদে বর্ণিত।
এমনি ভাবে তিরমিজি শরীফে হাদীস রয়েছে, মুসনাদে আহমদে হাদীস রয়েছে। সকল হাদীস গুলো সহী সনদে বর্ণিত।
এখন কথা হল, তাহলে কিছু লোক সরাসরি কেন শবে বরাত কে অস্বীকার করে?
আসলে ঐ সমস্ত ভায়ের হাদীসের কোন জ্ঞান নেই। উনারা যদি হাদীস গুলো ঠিকমত পড়তেন, তাহলে এধরনে কোন মন্তব্য করতে পারতেন না।
এখানে একটা কথা, শবে বরাত কিন্তু ফার্সি শব্দ। হুবহু এধরনের কোন শব্দ হাদীসে পাওয়া যাবে না।
যেমন নামাজ কিন্তু ফার্সি শব্দ। সরাসরি নামাজ শব্দটা কোরআন হাদীসে কোথাও নেই। কোরআন হাদীসে আছে “সালাত”। কিন্তু আমাদের পরিভাষায় নামাজ মানেই “সালাত”। এভাবে আমাদের ব্যবহার চলে আসছে।
এমনি ভাবে “রোজা ” এটা ফার্সি শব্দ। কোরআন হাদীসের কোথাও রোজা শব্দের ব্যবহার নেই। কোরআন হাদীসে “সিয়াম” এর কথা আছে। সিয়াম বলতে আমাদের পরিভাষায় রোজা বুঝি।
ঠিক শবে বরাত শব্দ সরাসরি হাদীসে নেই। হাদীসে আছে ” লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান” আর এটার পরিভাষা হল আমাদের নিকটে “শবে বরাত”।
সুতরাং শবে বরাতকে অস্বীকার করার কোন কায়দা নেই। যেমন “সালাত” ও ” সিয়াম” এর পরিভাষা নামাজ রোজা অস্বীকার করা যায় না।
পরিশেষে এটাই কামনা। শবে বরাত নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি নয়। আবার শবে বরাত অস্বীকার করা যাবে না। হাদীসে মধ্য শাবানের রাত্রির ফজীলতের কথা বর্ননা রয়েছে। সুতরাং আসুন! আমরা মধ্য শাবানের রাতে ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর চেষ্টা করি।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


