রোজায় মিথ্যাচার ডাবল স্ট্যান্ডার্টবাজি

রোজায় মিথ্যাচার ডাবল স্ট্যান্ডার্টবাজি

হানজালা ফিদা : আমি তাদের বলছি যারা রমজান মাসেও নিজের জবানকে অপবাদের বিষ পান থেকে পবিত্র রাখতে পারেন না। যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারলো না, তার রোজা রেখে শুধু পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [সহীহ বুখারী:৬০৫৭]

আমি তাদের বলছি, যারা ফিলিস্তিনের মজলুমের জন্য শোকাহত স্ট্যাটাস দিন এবং একজন নিরপরাধ আলেমকে মিথ্যে অপবাদে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করান। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকী। আর তাকে হত্যা করা কুফরী। (বুখারী, হাদীস নং-৬০৪৪)

আমি তাদের বলছি, যারা একজন শায়খুলহাদীসের ব্যাপারে একটা নেগেটিভ চিন্তা নিয়ে বেড়ে উঠছেন। ‘তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাক। কারণ অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সুরা আল হুজরাত : আয়াত-১২)

আমি তাদের বলছি, যারা ওয়ারিসে নবীকে গালমন্দ করে অশালীন কথা বলে নিজের ইমান কে নষ্ট করছেন। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শোনে [বিনা বিচারে] তা-ই বর্ণনা করে।’ (মুসলিম ৫, আবূ দাউদ ৪৯৯২)
নির্দিষ্ট)

আমি তাদের কে বলছি যারা বারবার ‘আল্লামাকে’ এতো অপবাদ, এতো বকা দেবার পরো সবসময় আপনাদের ক্ষমা করেছেন এবং আপনাদের মঙ্গলের জন্য দোয়া করছেন। ‘যখন কোন মানুষ অন্য মানুষের প্রতি ‘ফাসেক’ অথবা ‘কাফের’ বলে অপবাদ দেয়, তখনই তা তার উপরেই বর্তায়; যদি তার প্রতিপক্ষ তা না হয়।’ (বুখারী:৫৬৯৮)

আমি তাদের বলছি যারা জোশে পড়ে হুঁশ হারিয়ে বারবার ভুল প্রমাণিত হয়েছেন এবং নিজের ভুল দাম্ভিকতা করে আত্মগরিমা প্রকাশ করছে। একবার আপনি ভেবে দেখুন, এই অপবাদ ও গালমন্দের শাস্তি ইসলামের দৃষ্টিতে আপনার কি হওয়া উচিৎ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কোন কামিয়াবি অর্জন করতে পেরেছেন।

আমি নির্দিষ্ট কোন দিনক্ষণ ঘটনার সাথে নির্ধারণ করব না বরং বলব, আপনি নিজের পক্ষ থেকে এতোগুলো বিষয়ে আপনি তাকে খারাপ মন্তব্য করেছেন, এসকল বিষয়ে আপনার শায়েখ, পীর ও আাসাতেজাদের মতামত কি তা জানতে চেয়েছেন? এই বিষয়ের সত্যতা জানার জন্য তার কাছে জানতে চেয়েছেন? কখনো তার কাছে এসেছেন? কিংবা আপনি মিথ্যা সাব্যস্ত হবার পরও কি তাওবা করেছেন, বান্দার হক অনুযায়ী তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন? আপনি একজন আলেম, তালেবুল ইলম, শিক্ষক, সমাজ সেবক, রাজনীতিবিদ, ইমাম নয়তো বা যেই হোন না কেন আপনি কি আবেগের উপরে বিবেক দিয়ে একটু ভাববেন না?

আপনার প্রশ্ন-

১. আপনি হয়তো এখন বলবেন, তিনি জমহুরের ভাবনা কেন ভাবেন না? আমাদের পূর্বসূরীদের মাঝে কি এখতেলাফ ছিলো না, সকলেই কি বলেছেন (আজমায়না আলা হাযা) তবে কেন বলেন- ‘এখতেলাফুল উলামা রহমাহ’

২. আপনি হয়তো এখন বলবেন, তিনি আমাদের মতো আবেগি নয় কেন? বন্ধু তাঁর কতটা আবেগ একবার খোদা তায়লার দরবারের মোনাজাতে দেখে যান। তবে তিনি হুজুগী বাঙালি নন।

৩. তিনি কেন নামধারী ইসলামী দলের বিরোধিতা করেন? ভাই ‘উবাই ইবনে খলফ’ ও নিজেকে মুমিন জাহির করার চেষ্টা করতো। দুধের রং এবং বিষের রং একি তবে সেটা শিশুর চোখে না।

৪. তিনি কেনো ঐ ধরনের মানুষদের মজমায় বসেন যার কারণে তিনি অপবাদের শিকার হন? ভাই আপনার ভাবনা সুন্দর কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আসহাবে কাহাফে ‘কুকুর’ দিয়েও দীনের খেদমত নিয়েছেন।

৫. এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে আমি কেনো তার পক্ষ নিয়ে গালাগালের সুযোগ্য পাত্র হচ্ছি, নাকি আমি তার…? আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব আমাকে চেনেনও না। কিন্তু কিছু লোকের এতো বিরোধিতা আমাকে ‘হজ্বের মৌসুমে মক্কার কাফেরদের প্রচারণা ও সেই দয়ালু পাগলের ঘটনার মতোই ঘটছে।’

পবিত্র কুরআনুম মাজীদে এসেছে, ‘হে ইমানদাররা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সহযোগী হও।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১১৯)

লেখক : বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *