রোজা ঢাল স্বরূপ
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : হাদীসে কুদসীতে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ” আছ ছাওমু জুন্নাতুন, মা লাম ইয়াখরিকহা” “রোজা ঢাল স্বরূপ, যতক্ষণ না তার ঢাল ফাঁড়িয়া ফেলে।( বুখারী)
ঢাল হলো মানুষের আত্ম রক্ষার কাজে ব্যবহার হয়। শত্রুর হামলা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে ঢাল।
রাসুল ( সাঃ) এর যুগে ঢাল তরবারীর যুদ্ধ ছিল। সে সময়ে ঢাল বানানো হত লোহা বা এ জাতীয় কোন পদার্থ দিয়ে। যা খুবই মজবুত। তরবারীর আঘাতে ঐ ঢালকে ভাঙ্গা সম্ভব ছিলনা।
আগে আমাদের গ্রাম দেশে ঢাল সঁড়কির খুব প্রচলন ছিল। গ্রামের মানুষদের লড়াই হত ঢাল সঁড়কির মাধ্যমে।
আমাদের দেশের ঢাল হল, বেতের তৈরী মজবুত এক ধরনের অস্ত্র।যার সাহায্যে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
আবার ঢাল কোথাও লোহা দিয়ে বানানো হত।
আর সঁড়কি হলো, বর্শার মত। বা বর্শার থেকে অনেক বড় লম্বা। এর মাথা ছোঁচালো, খুব ধাঁর থাকে তাতে।
ঢাল দিয়ে নিজেকে আত্ম রক্ষা হয়, আর সঁড়কি হল, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য।
রাসুলুল্লাহ ( সাঃ) এখানে রোজা কে ঢাল এর সাথে তুলনা করেছেন। রোজা ঢাল স্বরুপ।
ঢাল যেমন মানুষকে শত্রুর আক্রমণ থেকে হেফাজতে রাখে।
ঠিক, রোজা মানুষ কে গোনাহ থেকে হেফাজতে রাখে।শয়তানের আক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখে। নফসানিয়্যাত কুপ্রবৃত্তি থেকে মানুষকে হেফাজতে রাখে।
তবে এখানে শর্ত হল, ঢাল যদি ফাঁড়িয়া না যায়।
ভাঙ্গা ঢাল দিয়ে যেমন শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখা যায় না। তেমনী ভাবে, রোজা যদি ঠিকমত রাখা না হয়, রোজা যদি ফেঁড়ে যায়। তাহলে সেই রোজা দিয়ে আত্ম রক্ষা সম্ভব হয় না।
সেই রোজা দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো সস্ভব নয়।
এখন কথা হল, ঢাল কিভাবে ফেঁড়ে যায়? কিভাবে ঢাল নষ্ট হয়ে যায়?
মিথ্যা এবং গীবত শেকায়েত করার দ্বারা রোজা নষ্ট হয়ে যায়।
রোজা রেখে মিথ্যা কথা বললে, রোজা রেখে মানুষের গীবত করে বেড়ালে, রোজা নষ্ট হয়ে যায়।
এজন্য রোজা রাখতে হবে ঠিক মত। রোজা অবস্হায় মিথ্যা কথা বলা, মানুষের গীবত শেকায়েত করা থেকে দুরে থাকতে হবে।
কেউ যদি এরকম করে, তাঁর রোজার কোন ছওয়াব হবেনা।
আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছে, যারা রোজা রাখে, কিন্তু রোজার হক আদায় করে না। রোজা রেখে জবানের হেফাজত করে না। মিথ্যা কথা বলে, গীবত করে। এরকম লোকদের রোজায় কোন লাভ নেই।
হাদীসে আছে ” রুব্বা ছায়েম লাইছা লাহু মিন সিয়ামিহি ইল্লাজ জিমা” বহু রোজাদার আছে, যারা সারাদিন রোজা রেখে উপোস থাকা ছাড়া আর কিছু পায় না।
মানে ওদের রোজায় কোন ফায়দা হয় না। ওদের শুধু উপোস থাকাই হয়ে থাকে।
এজন্য বন্ধু, আমাদেরকে রোজা গুলো সেভাবে রাখা দরকার। যে ভাবে রাখলে রোজা আমাদের জন্য ঢাল হবে, যে রোজা আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। সে রকম রোজা রাখা চাই।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক


