সংসদে সুলতান মনসুর বললেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হইনি

সংসদে সুলতান মনসুর বললেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হইনি

সংসদে সুলতান মনসুর বললেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হইনি

পাথেয় রিপোর্ট : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার নলেজের আলোকেই মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ নিয়েছেন বলে জানিয়েছন। তিনি বলেন, ‘সকল কথার উত্তর আমি দেব না এ কারণে যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সেসব সিদ্ধান্তের সময় আমিও ছিলাম। আমিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি হিসেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে একটা কথা বলতে পারি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার নলেজেই আমি এটা করেছি।’

ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ী হলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হইনি বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।
সকালে শপথ নিলেও বিকালে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গণফোরাম থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়। এমনকি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এরপরপরই সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় জাতীয় সংসদের বৈঠক। তখনই তাকে দেখা যায় অধিবেশন কক্ষে।

স্পিকারের আসনের বাম পাশে বিরোধী দলের আসনের দ্বিতীয় সারিতে সুলতান মনসুরকে আসন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শপথের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ‘তারা তাদের সিদ্ধান্ত নেবে, আমি আমার ভূমিকা পালন করব। দল হিসেবে তারা সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকুন। আর আমার ভূমিকার অপেক্ষায় থাকুন।’

এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাকি ৭ জনকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আহ্বান জানাব শপথ নিয়ে ন্যায্য দাবি ও সমস্যা নিয়ে তারাও সংসদের কথা বলুক। তাদের বক্তব্য সংসদের ভিতরে বাইরে আলোচনা হতে পারে। আওয়াজ উঠতে পারে।’

এদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় গণফোরাম থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মুন্টু।

বিকালে গণফোরামের আরামবাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্টু এ সময় দাবি করেন, তাদের দলের আরেক নির্বাচিত সদস্য মোকাব্বির খান এমপি হিসেবে শপথ নেবেন না।

শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন- সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের এমন দাবির জবাব দিতে গিয়ে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে বহিষ্কার করার’।

এর আগে গত ২ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেন গণফোরামের দুই নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান। ৭ মার্চ শপথ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। সে অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় বৃহস্পতিবার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ শপথ নিলেও শেষ মুহুর্তে পিছু হটেন সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের আরেক সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ভোট করে জয়ী হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা নির্বাচনের আগে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন তিনি। নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র ৮টি আসন পায়। এর মধ্যে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের আসনটিও রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *