সেঞ্চুরিতেই জবাব দিলেন সৌম্য

সেঞ্চুরিতেই জবাব দিলেন সৌম্য

সেঞ্চুরিতেই জবাব দিলেন সৌম্য

পাথেয় রিপোর্ট : ভালো খেললে প্রশংসা আর খারাপ খেললে সমালোচনা। এ দুই মিলেই ক্রিকেট জীবন। ক্রিকেট বলি ফুটবল বলি সবখানেই অবস্থা একই। সবচেয়ে বেশি ভারত ক্রিকেটারদের সমালোচনা শুনতে হয়। যেমন মিডিয়া সহযোগিতা আছে তেমনি অসহযোগিতাও প্রবলতর। বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় সৌম্যও সে তালিকায় আছেন। বিশ্বকাপ দলে চান্স পেয়েছেন সত্য কিন্তু সমালোচনা তাকে গিলে খাচ্ছে। কারণ দলে তিনি ভালো অবদান রাখতে পারছিলেন না বেশ কিছু দিন যাবৎ। এখন তিনি ব্যাটের খরা ঘুচিয়ে কিছু জবাবদ তুলে দিচ্ছেন ভক্তদের।

এই মৌসুমে আবাহনীর হয়ে খেলা সৌম্যর প্রিমিয়ার লিগে একটা ফিফটি পর্যন্ত নেই, কেন অফফর্মের এমন একজন বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেলেন ইত্যাদি সমালোচনা চলছিল ক্রিকেটাঙ্গনে। মুখে কিছু না বললেও সমালোচনাগুলো নিঃসন্দেহে বিদ্ধ করছিল বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। অবশেষে ব্যাট হাতেই সব সমালোচনার জবাব দিলেন তিনি। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আজ আবাহনীর হয়ে ওপেনিংয়ে নেমে ঝোড়ো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান।

এবারের প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা দুই দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবং আবাহনী লিমিটেড রোববার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সুপার লিগের এই ম্যাচটিকে বলা হচ্ছে লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। রোববার জিতলে শিরোপার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে রূপগঞ্জ। অন্যদিকে আজকের ম্যাচ জিতলে দুই পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে এবার সমতায় চলে আসবে আবাহনী। এমন মহারণের ম্যাচে সাভারের বিকেএসপি মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন।

আবাহনীর হয়ে ওপেন করতে নেমে রূপগঞ্জের বোলারদের উপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন সৌম্য সরকার। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে রূপগঞ্জের বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদকে চার মেরে শুরু। এরপর মাত্র ৩৯ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন সৌম্য। তবে অর্ধশতক করেই থেমে যাননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ইনিংসের পরের অংশে আরো মারমুখী ভঙ্গিতে চালাতে থাকেন ব্যাট। ফর্মে ফেরার উপলক্ষটা সেঞ্চুরি দিয়েই রাঙিয়ে তোলেন তিনি।

আবাহনীর ইনিংসের ২৩তম ওভারে নাবিল সামাদের বলে সিঙ্গেল নিয়ে মাত্র ৭১ বলে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ৩৯ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া সৌম্যর পরের ফিফটি আসে আরো দ্রুত, মাত্র ৩২ বলে। তবে সেঞ্চুরির পর খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি আবাহনী ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ১৫টি চার ও দুটি ছক্কায় ১০৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে নাবিল সামাদের বলে আউট হন তিনি।

অনেকদিন পর ফর্মে ফেরার এই ইনিংসটা সৌম্যকে পরিতৃপ্তি দিবে নিঃসন্দেহে। তবে তাঁর দল আবাহনীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এই ইনিংস। ওপেনিংয়ে নেমে জহুরুল ইসলাম অমির সঙ্গে ২৪.২ ওভারে ১৬৯ রানের জুটি গড়েন জাতীয় দলের এই তারকা। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে জহুরুল আউট হন ৭৫ রান করে। সৌম্যর বিস্ফোরক ইনিংসের ওপর ভর করে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বড় স্কোর গড়ার পথে রয়েছে আবাহনী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৯ ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *