স্বাধীনতায় জমিয়তের অবদান ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন : মতিনুল হক উসামা

স্বাধীনতায় জমিয়তের অবদান ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন : মতিনুল হক উসামা

স্বাধীনতার ক্ষেত্রে জমিয়তের অবদান ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন : মতিনুল হক উসামা

শতবার্ষিকী সম্মেলন উপলক্ষে হিন্দ জমিয়তের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্বাধীনতাযুদ্ধে জমিয়তে উলামা হিন্দের অবদান ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারত উত্তরপ্রদেশের জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা মতিনুল হক উসামা কাসেমী। তিনিকানপুর মাদরাসাতুল হারামুর রাহমানে এক পরামর্শসভায় বলেন, প্রতিটি শাখায় এ ধরনের সেমিনার করার দ্বারা জমিয়তের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছানোর কাজে সহযোগী হবে এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে জমিয়তের অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক অনন্য নজীর তৈরী হবে।

মাওলানা কাসেমী আরো বলেন, জমিয়তের যে সকল নেতৃবৃন্দ প্রদেশ, জেলা ও মারকাজি পর্যায়ে দেশ ও জাতির খেদমতে নিয়োজিত আছে, তাদের মাধ্যমে সেমিনারের তারিখ অতি শিগগরিই নির্ধারণ করতে হবে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের শতবার্ষিকী মহাসম্মেলনের প্রস্তুতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ১৮ এপ্রিল বাদ আসর কানপুর মাদরাসাতুল হারামুর রাহমান, হারদুঈ রোড,লখনৌতে জমিয়তের মারকাজি আমীর মাওলানা মতিনুল হক উসামা কাসেমীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

মজলিসে প্রাদেশিক ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নভেম্বরে দেওবন্দে অনুষ্ঠিত শতবার্ষিকী সম্মেলনের প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয়ে গুরুত্বাপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। প্রতিটি জেলা শাখায় প্রসিদ্ধ ব্যক্তি এবং সক্রিয় কর্মীদের তত্ত্বাবধানে সেমিনার করার সিদ্ধান্ত হয়।এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে আগত অন্যান্যদের মধ্যে মাওলানা হাকীমুদ্দীন কাসেমী শুকরাটি জমিয়তের ইতিহাসের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, প্রচুর ত্যাগ তিতিক্ষার পর জমিয়তের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। জমিয়তের কর্মীরা ইতোমধ্যে এদেশের যুবকদের ঐক্যবদ্ধকরণ, শিক্ষার প্রসার ও এদেশে বসবাসরত সাধারণ মুসলমানদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাহস দিয়ে যাচ্ছে।

মাওলানা খালেদ রশীদ বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার পরে দেশকে গড়ে তোলা ও দেশের সর্বস্তরের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রায় জমিয়তের অবদান অনস্বীকার্য।

জমিয়তের ১০০ বছর পূর্ণ হওয়ায় আমি মাওলানা আস’আদ মাদানী ও রাজনৈতিক সচিব মাওলানা মতিনুল হক উসামা কাসেমীসহ সকল নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। দেশ ও জাতির কল্যাণে আমাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করতে সচেষ্ট থাকবো। ইনশাআল্লাহ।

ঘোষণা অনুযায়ী প্রথমে মাওলানা কালীমুল্লাহ জমিয়তের পূর্ববর্তীদের কারগুজারী পড়ে শুনান।শ্রোতারা মনোযোগ সহকারে তা শুনেন।
প্রাদেশিক সম্মেলনের জন্য ২১ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করা হয়।এবং জেলা পর্যায়ের সেমিনারের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সেমিনারে জমিয়তের উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার উপর গুরুত্বারুপ করা হয়।

অতঃপর সম্মেলন পরিচালনার জন্য তিনটি জোনের দায়িত্বশীল নির্ধারণ করা হয়। এবং দায়িত্বশীলদের প্রতিটি গ্রামেগঞ্জে জমিয়তের দাওয়াত এবং স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সেমিনার করার জন্য মাওলানা জামিলুর রহমান কাসেমী প্রতাপগড়ী, মাওলানা নজীবুল হুসাইন সিদ্দিকী লখনৌ, মাওলানা ইসলামুল হক আসজাদ মিয়া লাখীমপুর, মাওলানা আহমাদ হাতেব লখনৌ, মাওলানা মুফতি ইজহার মোকাররম কাসেমী কানপুর।

এই ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান মাওলানা জামিলুর রহমান কাসেমী প্রতাপগড়ীকে মনোনীত করা হয়।

একইভাবে শতবার্ষিকী সম্মেলনের অর্থ সংগ্রহের জন্য জমিয়তে উলামা ইউপির মাওলানা মতিনুল হক্ব উসামা কাসেমী, ইউপির জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়িদ মাহমুদ মাদানী দেওবন্দ ও সচিব মাওলানা সাইয়িদ নোমান কাসেমী, মাওলানা আক্বেল কাসেমী শামেলী, হাফেজ উবায়দুল্লাহ বেনারসি, মাওলানা শিব্বির মাযাহেরী প্রতাপগড়ীসহ মোট ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।মাওলানা সাইয়িদ মাহমুদ মাদানী উক্ত কমিটির প্রধান হন।
মাওলানা ডক্টর আলী হুসাইনী, আব্দুল হালীম সিদ্দিকী মালিহাবাদী, মাওলানা বাশির আহমাদ ভাটি, মাওলানা আব্দুল ওফা শাহজাহানপুরী প্রমুখ।
বৈঠকেউপযুক্ত রাজনৈতিক কার্যালয় গড়ে তোলার উপর দায়িত্ববান সকলেই গুরুত্বারুপ করেন।

মাদরাসাতুর রহমানের মোহতামিম মাওলানা জামিলুর রহমান কাসেমী আগত মেহমানদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটা ঐ স্থান যেখানে মাওলানা ফজলুর রহমান মুরাদাবাদী (রহ:) বার বার আসতেন।সাইয়িদ আহমাদ শহীদ (রহ:) এর কাফেলা এ স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন।তাঁর নামানুসারে এই জায়গার নাম রহমান খায়রা রাখা হয়েছে। আজ এখানে জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এই মাদরাসায় উপস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বলেন, আমি এই মাদরাসার খাদেম হয়ে আজ আপনাদের খেদমত করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

অতঃপর তিনি আরেকবার সবাইকে ধন্যবাদ জানান।বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আকেল কাসেমী শামেলী, মাওলানা সাইয়িদ মুহাম্মদ বায়জিদ লখনৌ, মাওলানা শিব্বির মাযাহেরী প্রতাপগড়ী, হাফেজ উবায়দুল্লাহ বেনারসি, মাওলানা ডক্টর মুয়ীদ ছিতাপুরী, মাওলানা সাইয়িদ মুহাম্মদ জুহায়িন দেওবন্দ, মাওলানা ক্বারী জাকির হোসাইন মোজাফফরনগরী, মাওলানা জাফর আহমাদ কাসেমী ফরখাবাদ।মাওলানা আহমদ আব্দুল্লাহ রসুলপুরী, মাওলানা আকরাম জামী কানপুর, মাওলানা নুরুদ্দীন আহমদ কাসেমী কানপুর, মাওলানা শাফী মোজাহেরী, মাওলানা জামালুদ্দীন কাসেমী দিল্লী, মাওলানা শিব্বির বাহরাচী, মাওলানা আহমদ হাতেব লখনৌ, মাওলানা সাইয়িদ হোসাইন হাশেমী লখনৌ, মাওলানা গিয়াসুদ্দীন লখনৌ,মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস হাশেমী লখনৌ, মাওলানা যাকি লখনৌ, আব্দুর রব ফরুখাবাদ, মাওলানা ইসলামুল হক্ব আসজাদ লাখীমপুর,ক্বারী আব্দুল মায়িদ চৌধুরী কানপুর, মাওলানা এজাজ নদভী ছিতাইপুর, মাওলানা ইফতেখার হুসাইন কাসেমী হাইপুর এবং মুফতি ইজহার মোকাররম কাসেমীসহ জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ উত্তরপ্রদেশ শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী
সূত্র : আসরে হাজির, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *