হিলারিকে চেয়েছিলেন পুতিন!

হিলারিকে চেয়েছিলেন পুতিন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করে তার খুব ভালো লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন ট্রাম্প। খবর বিবিসির।

ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প ক্রিশ্চিয়ান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত ভালো লেগেছে তার।

তিনি আরো বলেন, ‘হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের আসনে হিলারি ক্লিনটন বসুক এমনটাই হয়তো চেয়েছিলেন পুতিন। রাশিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছে এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগ এখন তদন্তাধীন রয়েছে। ট্রাম্প এবং রাশিয়া বরাবরই এ হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘লোকজনকে বলতে শুনি যে, তাদের সাক্ষাৎ করা উচিত নয়। ঠিক আছে, কিন্তু কারাএসব কথা বলে? আমারতো মনে হয় আমাদের বৈঠক দারুণ ছিল এবং সাক্ষাতের পর দু’জনেরই খুব ভালো লেগেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পরমাণু শক্তিতে বেশ শক্তিশালী এবং রাশিয়ার ক্ষেত্রেও তাই। আর তাদের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক রাখতে না চাওয়ারতো কোনো মানে হয় না।’

রাশিয়ার সহযোগিতার উদাহরণ টানতে সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে দু’পক্ষের একমত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে এমন অভিযোগের বিপরীতমুখী মন্তব্য করেন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ওই সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘রাশিয়া চেয়েছিল তার প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হোক। কেন তারা হিলারিকে চেয়েছিল? কারণ, হিলারি নির্বাচিত হলে আমাদের সেনাবাহিনী ধ্বংস হয়ে যেত।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযান চলার সময় একজন রুশ আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র যে বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে সমর্থন করেছেন।

তিনি বলেছেন, তার ছেলে নিরপরাধ, স্বচ্ছ এবং নির্দোষ। রুশ আইনজীবী নাতালিয়া ভেসেলনিতস্কায়ার সঙ্গে ওই বৈঠকের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রকে বলা হয়েছিল, তাকে রুশ সরকারের পক্ষ থেকে এমন তথ্য দেয়া হবে যা ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

এই বৈঠকের খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। ট্রাম্প জুনিয়র নিজে ফক্স নিউজকে বলেছেন, ওই বৈঠকটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। তবে সেই সঙ্গে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন বিষয়টা তার অন্যভাবে সামলানো উচিত ছিল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *