২৯ বছর আরবি পড়ালেন হিন্দু শিক্ষিকা

২৯ বছর আরবি পড়ালেন হিন্দু শিক্ষিকা

২৯ বছর আরবি পড়ালেন হিন্দু শিক্ষিকা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২৯ বছর আরবি পড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেছে ভারতের এক স্কুল শিক্ষিকার কাছে। ১৯৮৭ সালে আরবি ভাষায় শিক্ষকতা শুরু করেন গোপালিকা অন্তর্জনম। ব্রাহ্মণ হয়ে আরবির শিক্ষিকা? শুরুটা সহজ ছিল না মোটেও। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে ২৯ বছর ধরে আরবিতেই শিক্ষকতা করছেন এই ব্যতিক্রমী শিক্ষিকা। এ ঘটনা বাংলাদেশেও বিরল নয়। ঘাটাঘাটি করি না তবে সত্য খুঁজলে সহজেই বের হবে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত দফতরের পড়ুয়ারা মুসলিম অধ্যাপকের কাছে সংস্কৃত পড়তে নারাজ। গত ৬ নভেম্বর থেকে এই নিয়োগের বিরোধিতা করছেন তাঁরা।

তাঁদের দাবি, অহিন্দু কেউ এই বিভাগে পড়তে অথবা পড়াতে পারেন না। দেশের একপ্রান্তে যখন এই ঘটনা, তখন দেশের অন্যপ্রান্তে দেখা যাচ্ছে উলটপুরাণ।

১৭ বছর বয়সে আরবি শিখবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন গোপালিকা। বিভিন্ন ভাষা শেখার প্রতি তাঁর আহগ্র ছিল চিরকাল।

বিদ্যালয়ে সংস্কৃত শিখেছিলেন। ত্রিচুরের কোন্নাকুলম গ্রামের বাসিন্দা গোপালিকার পরিবার বংশগত ভাবে কোত্তিয়ুর মন্দিরের পুরোহিত। তাঁদের গ্রামে কোনও সাম্প্রদায়িক বৈষম্য ছিল না, জানালেন তিনি। যে প্রতিষ্ঠানে তিনি আরবি শিখতেন, সেখানে অন্যান্য ব্রাহ্মণ সন্তানেরাও শিখতে আসত। তবে অন্য কেউ আরবি শিক্ষক হয়েছে কিনা, জানা নেই তাঁর।১৯৮৭ সালেই বিয়ে হয় গোপালিকার।

স্বামী নারায়ণনের সঙ্গে মালাপ্পুরম জেলায় বসবাস করতে শুরু করেন তিনি। সেখানেই একটি বিদ্যালয়ে আরবি শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি নেন। কিন্তু ব্রাহ্মণ হয়ে আরবি শিক্ষিকা? তীব্র বিরোধিতা করা তাঁর নিয়োগের। কেরল হাইকোর্টে আবেদন করে ১৯৮৯ সালে সেই মামলা জেতেন গোপালিকা। কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ফের আরবির শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি নেন মালাপ্পুরমের একটি সরকারি বিদ্যালয়ে।

তারপর থেকে অবশ্য পেশাগত জীবনে আর কখনও পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি গোপালিকাকে। তবে শুরু সেই কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছিলেন নিজের স্বামী এং তাঁর পরিবারকে। ‘ওঁরাই আমাকে শক্তি দিয়েছিলেন লড়াই করার,’ জানালেন গোপালিকা, আমার স্বামীর জন্যই আমি শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে পারি।’ আগামী ৩১ মার্চ চেম্মানিইয়োডু সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করবেন গোপালিকা। ২০১৮ সালে একটি মুসলিম সংগঠনের তরফ থেকে বিশ্ব আরবি দিবসে তাঁকে সম্মানও জানানো হয়। ‘এখন আমি আনন্দিত, তৃপ্ত এবং আপ্লুত’, শেষের বেলায় জানালেন শিক্ষিকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *