চাঁদাবাজি বন্ধের সুপ্রভাব বাজারে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম

চাঁদাবাজি বন্ধের সুপ্রভাব বাজারে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর বাজারগুলোতে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছিল সব ধরনের সবজি। নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন স্বল্প আয়ের মানুষ। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজিই মিলেনি। বেশ কিছুদিন সময় সেঞ্চুরি পার করেছিল কিছু কিছু সবজি। অবশেষে সবজির বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। বিক্রেতারা বলছেন, রাস্তায় চাদাবাজি বন্ধ হওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমেছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়স ৫০ টাকায়, প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকায়, কচুমুখী প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, টমেটো প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, গাজর প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকায়, লাউ প্রতি পিস সাইজভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।

তবে কোনোভাবেই কমছে না দেশী পেঁয়াজ ও আলুর দাম। খুচরা বাজারে দেশী পেঁয়াজ কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, আলুর কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী রসুন ও আমদানিকৃত রসুন প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকায়, ছোট দানার মসুর ডাল কেজি ১৪০ টাকায় এবং বড় দানার মসুর ডাল কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আগের মতোই প্রতি কেজি গরুর গোশত ৭৮০-৮০০ টাকায় আর প্রতি কেজি খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায়।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোট কাচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে, পুঁটি মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বাইন মাছ আকার ভেদে ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের আইড় মাছের দাম ৯০০ টাকা আর দুই কেজি ওজনের মাছ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গ্রাসকার্প মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, ছোট রুই ২২০ টাকা আর বড় রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। এ ছাড়া পাঙ্গাসের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কৈ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজিতে।

দুই কেজির বেশি ওজনের কাতল ৩৬০ টাকা কেজি, রুই মাছ ৩৭০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শিং মাছ ৪৫০ টাকা কেজি ও গুল্লা মাছ ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কোরাল মাছ ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে আজ সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কম। মনে হচ্ছে সবজির দাম কমে আসতে শুরু করেছে। তবে কিছু কিছু সবজির দাম বাড়তি রয়ে গেছে। মাঝখানে কিছুদিন সবজির দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল, বলতে গেলে ৮০ টাকার নিচে বাজারে কোনো সবজিই ছিল না। সেই তুলনায় আজকে বাজারে দেখা যাচ্ছে কিছুটা কমে আসতে শুরু করেছে সবজির দাম।

সবজির পাইকারি বিক্রেতা ও আড়তদারেরা জানান, সবজির বিভিন্ন উৎপাদনস্থল থেকে পণ্য নিয়ে ঢাকার বাজারে আসার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকবার চাঁদা দিতে হয়। এসব চাঁদা নিতেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। যেমন রাজধানীর কাওরান বাজারের এক আড়তদার নাম প্রকাশ না করে বলেন, এই বাজারে পণ্যবাহী ট্রাকপ্রতি অন্তত ৫০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তবে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব চাঁদাবাজি বন্ধ রয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের পর বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতা-কর্মী ও পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। তবে এই সুযোগে গত তিন দিনে নতুন করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করেছে কিছু ব্যক্তি। এসব ব্যক্তি নিজেদের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী বলে ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচয় দিচ্ছেন। কেউ কেউ চাঁদার টাকা পাঠানোর জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিকাশ নম্বরও দিয়ে গেছেন। এ দিকে রাজধানীর কাওরান বাজারে গতকাল একদল শিক্ষার্থী চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেছেন। পাশাপাশি তারা হ্যান্ডমাইক দিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান।

Related Articles