হাদিসচর্চা করে সাহাবাবান্ধন হওয়ার আহ্বান আল্লামা মাসঊদের
পাথেয় রিপোর্ট : রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী প্রসিদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিআ ইকরা বাংলাদেশের পবিত্র বুখারী শরীফের শেষ দরস অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র খতমে বুখারী শরীফের শেষ দারস প্রদান করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম ও বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) এশারের নামাজের পর রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে খতমে বুখারী পরিচালনা করেন তিনি। দারস শেষে সবাইকে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে গভীর মোনাজাতও করেছেন সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
বুখারী শরীফের শেষ দরস প্রদানের করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আজকেই এই অনুষ্ঠান শুধু খতমে বুখারীর অনুষ্ঠান নয়, আজকের অনুষ্ঠান আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া আদায়ের অনুষ্ঠান। আল্লাহ তাআলা আমাদের হাদীসের কিতাবগুলো পরিপূর্ণভাবে পড়ার তাওফিক দিয়েছেন, আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় হতে বলি আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহ সম্পর্কে জানা, আল্লাহর পরিচয় জানা প্রত্যেকে মুসলমানের জন্য আবশ্যক উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে আল্লাহ তাআলার প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস অর্জনের জন্য তার সত্ত্বার সাথে তার গুণাবলি ও পরিচয় জানা এবং ঈমান আনা আবশ্যক। আর কওমী মাদরাসাগুলোতে আল্লাহ তাআলার পরিচয় শিক্ষা দেয়া হয়। তাঁর মারিফতের জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয়।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জানা, আল্লাহকে পাওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য। আর আল্লাহকে পেতে হলে, তাঁর সম্পর্কে জানতে হলে কুরআন শরীফ পড়তে হবে, বুঝতে হবে। কুরআন শরীফ বুঝতে হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মানতে হবে, তাঁর সম্পর্কে জানতে হবে, তাঁর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জানতে হলে হাদীসের কিতাবগুলো পড়তে হবে। সাহাবায়ে কেরামের জীবন পড়তে হবে, তাদের ফলো করতে হবে।
হাদীস শরীফের শিক্ষার্থীদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আজকের এই মজলিস হাদীস শরীফের দরসের মজলিস। আজকে বুখারী শরীফের শেষ দরস প্রদান করা হয়েছে। মসজিদে উপস্থিত সবাই হাদীস শরীফের শিক্ষার্থী। কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাদের জন্য সুপারিশ করবেন। এটাই আপনাদের সৌভাগ্য, এটাই এই মজলিসের ফজিলত।
জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রাঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফের সভাপতিত্বে খতমে বুখারী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, খুলনা মাদানী নগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, ঢাকা ইউনিভার্সিটির সহযোগী আধ্যাপক মাওলানা হুসাইনুল বান্না, ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মুফতি মাওলানা হামিদুল ইসলাম, মুফতি রিয়াজুল ইসলাম, মাওলানা আবুল কালাম, মুফতি আব্দুল সালাম, মুফতি মাহতাব উদ্দীন নোমান প্রমুখ।


