কাদা ছোড়াছুড়ি না করে নিজের চরকায় তেল দিন
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : অতি উৎসাহী কিছু ফেসবুকার নিয়ে যত সমস্যা। ওরা ভেজাল সৃষ্টি করে সব সময়। একটা সুস্থ পরিবেশকে অশান্ত করে রাখে। ওদের ফেসবুক পোস্টগুলো থেকে জাতির কোন কল্যাণ আশা করা যায় না। বরং এ সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে দেয়। ওরা এমন কিছু আদব- কায়দা ছাড়া মানুষ, যাদের কাছে দেশের শীর্ষ আলেমদের কোন ইজ্জত নেই। বরং আলেমদের শানে এমন আচরণ দেখানো হচ্ছে, যা ভাবতে কষ্ট হয়।
ওসব অতি উৎসাহী ব্যক্তিরা ফেসবুকে পোস্ট দেয়, কোথায় রুহুল আমিন সাহেব? তোর কওমী জননী?
আরেকজন পোস্ট দিয়েছে, ‘ ইন্নালিল্লাহ” ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ইন্তেকাল করেছে…
আবার আব্বাসী মন্জিলের আব্বাসী সাহেব ও তাহেরী সাহেবসহ আরো কিছু ঐ পন্থী ভাইদের ছবিকে একত্র করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর তাতে ব্যঙ্গ বরে লেখা হচ্ছে, ” কোথায় ওসব শিন্নি খোরের দল? আজ কোথায় তারা?
দেখুন! মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কটূক্তি করা, এটা কোন মুসলমান বরদাশত করে না। যার কোন আমল নেই, শুধু “কালিমা গো” মুসলমান, সে কিন্তু নবী অপমান মেনে নেবেনা কোন দিন।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী মুসলমান, মন্ত্রী পরিষদ মুসলমান, অধিকাংশ এমপি মুসলমান। এ সকল কোন ব্যক্তিগণ কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সস্পর্কে কেউ কটূক্তি করলে সেটা কখনো সহ্য করবেন না।
খোদ প্রধানমন্ত্রী এর কথায় বোঝা গেছে, কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপমান করলে, তাকে ছাড় দিবেন না।
আমাদের দেশের সব মুসলমান, সে যে মতেরই হোক, চাই সে দেওবন্দী, চরমোনাই, ফুরফুরা, জৈনপুর, আটরশি, ভান্ডারী, বেদআতী, সবাই কিন্তু একমত। মহানবীর ইজ্জত আবরু হেফাজতের পক্ষে সকলেই আছেন। কেউ নবীর অপমান সহ্য করবেন না কখনো।
মোটকথা, কালিমায় বিশ্বাসী সকল মুসলমানই নবীর ইজ্জত হেফাজত চায়। কোন মুসলমানই নবীর শানে অপমানমূলক কোন কথা, নবীর ইজ্জতের হানি হয়, এরকম কোন লিখনী চায় না।
এখন কথা হল, প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেন। সে তাঁর অবস্থা অনুযায়ী প্রতিবাদের ঝড় উঠান। কেউ কিন্তু এই ন্যাক্কারজনক কাজকে সাপোর্ট করে না। আপনাদের বিশ্বাস না হয়, উপরোল্লেখিত প্রত্যেক ব্যক্তিদের সাথে একটু নিবিড়ভাবে সাক্ষাত করে দেখবেন, কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর বেইজ্জতি মেনে নেবে না।
হ্যাঁ, সবাই কিন্তু আমার আপনার মত হুজুগী নন। আপনার মত পাগল- জ্ঞান শূন্য নন তারা। না বুঝে ওনারা দৌড় মারেন না।
ওনাদের মধ্যে অনেক বিজ্ঞজন রয়েছেন, যারা কৌশলে অনেক কিছু করে ফেলেন। আপনারা যেটা সারা বছর চিল্লায়া করতে পারবেন না। তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, তারা অতি অল্প সময়ে অনেক কিছু করতে পারেন।
এখানে মুফতি রুহুল আমিন সাহেব, যিনি মুজাহিদে আজম শামসুল হক ফরীদপুরী রহ.- এর সন্তান। শত শত মাদ্রাসার ছার পুরুস্ত তিনি। আবার হাজার হাজার আলেমের রাহবার তিনি। সেই রুহুল আমীন সাহেবকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়। এর দ্বারা কোন ফায়দা হবে? নাকি বিভেদ সৃষ্টি হবে?
আল্লামা ফরীদ মাসঊদ সাহেবকে নিয়ে এমন ব্যঙ্গ করা হল, আমি তো ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল। এগুলো কত বড় ধোঁকাবাজ, প্রতারক। একজন দেওবন্দী আলেমকে নিয়ে কি ধরনের তেলেসমাতী দেখাল! কেউ কি কারো সম্পর্কে মৃত্যুর কামনা করতে পারে?
মনে রাখবেন, আপনাদের যেখানে শেষ , ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের শুরু হয় সেখান থেকে। তিনি আজ পর্যন্ত যতগুলো কাজে হাত দিয়েছেন, সবগুলো কাজে আল্লাহর রহমতে সফল হয়েছেন। বিরোধিরাই সেসব আঞ্জাম দিচ্ছে। তিনি কিন্তু অনেক হিসাব করে সামনে পা বাড়ান। আমার -আপনার মত না বুঝে সামনে গিয়ে তারপর লজ্জায় মুখ ঢাকেন না।
একটা কথা কি? আমরা সবাই কিন্তু ঐক্য চাই। বিশেষ করে স্পর্শ কাতর বিষয়গুলোতে দলমত নির্বিশেষে এক ফ্লাট ফরমে আসতে ব্যাকুল আমরা। কিন্তু এখন যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করি, তাহলে কি ঐক্য সম্ভব?
আব্বাসী, তাহেরী, আরো যারা আছেন, তাদের সাথে আমাদের মতের অমিল আছে এটা ঠিক, তবে তারা তো কালিমা গো মুসলমান। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর দুশমনদের শাস্তির ব্যাপারে তাদের তো দ্বিমত নেই। এই ইস্যুতে তাদেরকে কাছে টেনে নেওয়া উচিত।
কিন্তু এখন যদি তাদেরকে শিন্নি খোরের দল কোথায়!!! এই বলে খাটো করা হয়, তাহলে তাদেরকে কি আমরা কাছে পাব? মানুষকে কাছে পেতে হলে উত্তম ব্যবহার জরুরি। তাদেরকে ভালবাসা দিয়ে কাছে আনতে হবে। আমরা যদি সত্যি নবীর দুশমনদের শাস্তি চাই, তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। কিন্তু আগেই যদি একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করি, তাহলে কোন দিন এক ফ্লাট ফরমে আসা সম্ভব নয়। আর অনৈক্যের কারণে দুশমনরা পার পেয়ে যাবে।
এজন্য আসুন! কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


