- বায়তুল মোকাররমের খতীব নিযুক্ত হওয়ায় মুফতি রুহুল আমীনকে আল্লামা মাসঊদের অভিনন্দন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতীব নিযুক্ত হওয়ায় গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমীনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, মুফতি রুহুল আমীন একজন দেশ বরেণ্য ও হক্কানী আলেম। তিনি দেশের প্রখ্যাত আলেম প্রয়াত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) এর ছেলে এবং কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশের সদস্য। এমন একজন যোগ্য আলেমকে জাতীয় মসজিদের খতীব নিযুক্ত করায় আমি সম্মানীত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
শুক্রবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় দ্বীনী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এ অভিনন্দন জানান।
এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করেছেন নবনিযুক্ত খতীব মুফতি রুহুল আমীন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী এই মাওলানার ইমামতিতে ধীরে সুস্থে, শান্তিতে, খুশিতে, মনের আনন্দে, তৃপ্তির সাথে নামাজ আদায় করেছেন আগত মুসল্লিরা।
বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী বিরোধী আলেম হিসেবে সুপরিচিত এই নতুন খতীবকে স্বাগত জানাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও রাজধানীর দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লির উপস্থিতিতে দেখতে দেখতে বিরাট আয়তনের এই মসজিদটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মসজিদ প্রাঙ্গণে জায়গা না হওয়ায় শত শত মুসল্লি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন এবং নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেই মসজিদ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেছেন।
উল্লেখ্য, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন সূত্রে জানা যায়, মুফতি রুহুল আমীনকে খতিব নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন।
মুফতি রুহুল আমীন ১৯৬২ সালের ১২ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) এর প্রতিষ্ঠিত গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় তিনি প্রাথমিক শিক্ষা থেকে হেফজ, দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স), ইফতা সমাপ্ত করেন। ২০০৩ সালে তিনি মাদরাসাটির মুহতামিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক সমাজ গঠনমূলক সংগঠন খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশের সাবেক মহাসচিব, জামিয়াতুস সুন্নাহ শিবচর মাদারীপুর, ঢালকা নগর মাদরাসা গেন্ডারিয়া ঢাকার সাবেক মুহতামিম, গেন্ডারিয়া জামে মসজিদ ঢাকা ও তাঁরা মসজিদ, আরমানিটোলা ঢাকার খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।
কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলে মুফতি রুহুল আমিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।


