২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

আত্মশুদ্ধির নীরব বিপ্লবের কান্ডারি আল্লামা মাসঊদ

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

দারুল দেওবন্দের সূর্যসন্তান, শাইখুল ইসলাম মাদানীর প্রতিচ্ছবি, ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী এর খলিফা, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুম। তিনি যেন হুবহু সেইসব মহান মনীষীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন, যারা  ছিলেন জগৎ সেরা।

বড্ড স্মরণ হয় তাঁর ইসলাহী মজলিসের কথা। আত্মশুদ্ধির সেই মঞ্জিলগুলো যেন নুরানী আভায়  জ্বলজ্বল করে। তাঁর মজলিসে অধিকাংশ ওলামা-ত্বলাবা।

আলেমগণ এমনিতেই দ্যুতি ছড়ান সব জায়গাতে। এরপর একজন রুহানী ফয়েজপ্রাপ্ত এবং আওলাদে রাসূলের বিশেষ দুআপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যেন আলেম-উলামাগণ জ্যোতির্ময় হয়ে ওঠে। তাঁদের পরিশুদ্ধ অন্তর আরো সতেজ হয়ে যায়। যার দ্বারা সুঘ্রাণ ছড়ায় দেশ থেকে দেশান্তরে।

দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্তা মসজিদ, মাদানী খানকা, ফকীহুল উম্মাহ মাহমুদ হাসান গঙ্গুহী এর খানকা, থানাভবন, গাঙ্গুহ, সব খানকাতে কমবেশী যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তবে খানকায়ে মাদানীয়া এবং ছাত্তা মসজিদের সাথে সম্পর্ক ছিল অনেক গভীর। বেশী যাওয়া পড়েছে খানকায়ে মাদানীয়া এবং ছাত্তা মসজিদে। তবে আমার কাছে মনে হয়, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের খানকাতে গেলে ঐ সব খানকার ছবিগুলো চোখে ভাসতে থাকে। এ যেন সেই খানকায়ে মাদানীয়া এবং ছাত্তা মসজিদকে স্মরণ করে দেয়। স্মতিতে উঁকি দেয় সেই ছাত্তা মসজিদের কথা। সেখানে যেমন উলামা-ত্বলাবার সংখ্যাধিক্য তেমনি আল্লামা মাসঊদের ইসলাহী মজলিস এবং খানকা সেই সব খানকাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

উলামা-তলাবাদের পদভরে মুখরিত হয়ে যায় ইসলাহী মজলিসের প্রেমাঙ্গন। স্বপ্ন-সাধ আরো বাড়তে থাকে।  খোদাপ্রেমিক ও আশেকে নবীদের প্রেমোপাখ্যান ডানা মেলতে থাকে।

কী এক আজব পরিবেশ! দেওবন্দের আকাবির-আছলাফের যেন পরিপূর্ণ অনুসারী।  মজলিসে কোন হম্বি-তম্বি নয়। কোন হা-হুতাশ নেই। কোন গীবত শেকায়েত নেই।  কাউকে খোঁচা মারার প্রবণতাও নেই কারো। শুধুমাত্র আল্লাহর রেজামন্দী লাভের আশায় অত্যন্ত আদব- আখলাকের সাথে বসে থাকেন। মজলিসের আদব কীভাবে রক্ষা করতে হয়, সেটা তো আলেমদের জানা। সেই উত্তম আখলাকের মানুষগুলো যেন সর্বোচ্চ শিখরে চলে যান।  মজলিসকে আরো আলোকিত করেন।

আত্মশুদ্ধির মারকাজ তাঁর খানকা। যেখানে সত্যি মানুষের আত্মার সংশোধন হয়। বিশেষ করে আলেমগণ বেশী উপকৃত হয়ে থাকেন। আর এটাতো দেওবন্দের আকাবিরদের আরেক বৈশিষ্ট। আলেমদেরকে আরো যোগ্য করে গড়ে তোলা। তাঁদের দিয়ে যেন জাতি উপকৃত হয়। এমন চেতনা নিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। তদ্রুপ ফেদায়ে মিল্লাতের এই খলিফা সেই মিশন নিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছেন।

বর্তমান বাংলাদেশের আলেম সমাজের মধ্যমণি। লাখো আলেমের উস্তাদ। প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল বুখারী শরীফের দরস দিচ্ছেন। নিরবচ্ছিন্নভাবে এই ময়দানে সরব।  লিল্লাহিয়্যাতের সাথে ইলমী ময়দানে আঞ্জাম দিয়েছেন। এখন তিনি সুলুকের লাইনে সম্রাটের ভুমিকায়। দিনরাত এখন এপথে ব্যয় করে যাচ্ছেন।

অনেকে হয়ত না বুঝে তাঁর সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে পারেন। কিন্তু  আসলে আত্মশুদ্ধির ময়দানে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছেন তিনি। তাঁর ইসলাহী প্রোগ্রামগুলোতে গেলে বোঝা যায় কীভাবে তিনি অগ্রসর হচ্ছেন। মানুষ এখন যেন তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য স্হানে  যেখানে তাঁর প্রোগ্রাম হচ্ছে সেখানে মানুষ ভীড় জমাচ্ছে।

তিনিতো মহান রবের সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। যেকারণে স্পিড অনেক বেশী। যেন বিদ্যুৎবেগে ছুটে চলেছেন। ক্লান্তহীন ভাবে দেশের এপ্রান্ত থেকে অপ্রান্ত। আর মানুষগুলো তাঁর কাছে আসছেন। আবেগ-উচ্ছাসে তাঁরা দ্বীনের মশাল প্রজ্জলন করছেন।

আল্লাহতায়ালা এই মহান সাধকের নেক হায়াত দান করুন। আমিন।

লেখকঃ  শিক্ষক ও কলামিষ্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com