৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

‘আল্লাহভক্ত টেকেনোলজি বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন’

আল্লাহভক্ত টেকেনোলজি বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন : মতিনুল হক উসামা কাসেমি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যে লোকেরা নিজের প্রতিপালকের নামে পড়ালেখা করেছে তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দ উত্তর প্রদেশের সভাপতি মাওলানা মতিনুল হক উসামা। তিনি বলেন, পৃথিবী জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে নতুন টেকনলজি এর মাধ্যমে অনেক উন্নতি করেছে। এই জন্য আমাদের উচিৎ আল্লাহর নামে শিক্ষা গ্রহণ করা। যদি আমরা আল্লাহর নামে জ্ঞান অর্জন করি তাহলে পৃথিবীতে পাবো শান্তি আর তা হবে আখেরাতে নাজাতের কারণ।

মাওলানা আরও বলেন, সন্তান ভূমিষ্ট হয়ার পর আযান ও তাকবির এই জন্য বলা হয় যাতে সে তার প্রতিপালককে চিনে ফেলে।
সম্প্রতি ভারতের গড়িয়া নামক স্থানে হাফেজ ছাত্রদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে দুআ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মাদ্রাসার ছাত্রদের নিজের প্রতিপালককে চিনার ইলম শিক্ষা দেওয়া হয়। আমাদেরকেও মাদ্রাসায় আসতে হবে আমাদের প্রতিপালককে চিনার জন্য। মাদ্রাসায় সবচাইতে বড় কাজ দ্বীন সংরক্ষণের। যখন আমাদের অন্তরে কুরআন, ইসলাম এর সম্মান এবং নবী কারিম সঃ এবং তার সাহাবায়ে কেরাম রহ. এবং বুজুর্গানে দ্বীন ও আল্লাহ ওয়ালাদের ভালবাসা থাকবে তাহলে আমাদের দুনিয়া ও পরকাল সুন্দর হবে।

হাফেজদের গৌরবের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘কুরআনকে নিজের বক্ষের ভিতর হেফাজত করনেওয়ালা হাফেজগণ এবং তার সহিহ বর্ণনাকারি আলেমগণদের থেকে দামি আর কেউ নেই।

যাচাই করে দেখতে হবে যে আমাদের হৃদয়ে নবী কারীম সা. ও ইসলামের প্রতি সম্মান ও আযমাত বদ্ধমূল রয়েছে কিনা?
যেদিন এটা প্রমাণিত হবে সেদিন আমাদের জন্য আমাদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া সহজ হয়ে যাবে।

গড়িয়ার মিফতাহুল কুরআন নামক এই মাদ্রায়ায় কোরআন হিফজ সম্পন্নকারী ছাত্রদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে অনুষ্ঠিত উক্ত মাহফাইলে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হাবিব আহমদ সাহেব বলেন, ‘ একজন ব্যাক্তি তার ব্যাক্তিগত ব্যাক্তিত্বের মধ্যে কারো অংশগ্রহণ যদি সহ্য করতে না পারে তাহলে এটা কিভাবে মেনেচনেয়া যায় যে, আল্লাহ তার নিজ সত্ত্বার মধ্যে কারো অংশিদারিত্ব সহ্য করবেন। তাই আসুন, এই কারণে আমরা পাপ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি।

মাওলানা আরো বলেন, যে এ চিন্তা করে যে তার সন্তান যদি মাদ্রাসায় পড়া, লেখা করে তাহলে কি উপার্জন করবে কি খাবে? তাদের জানা উচিৎ যে আমাদের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা নিয়েছেন, যিনি আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, যদি কোন ব্যাক্তি কোরআন পড়ার বা পড়ানোর সুযোগ পেয়েও এই নেয়ামতের না শুকরি করে তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণটুকুও পাবেনা, জান্নাতে যাওয়া দূরের কথা।

মাওলানা মতিনুল হক্ব উসামা কাসেমি বলেন, আল্লাহ তাআলা এ বিশ্বে মানুষকে সবচাইতে উত্তম ও সুউচ্চ বানিয়েছেন আর কুরআন নাযিল হয়েছে মানুষকে হেদায়াতের পথ ও সরল পথ দেখানোর।

যেমনি ভাবে রাষ্ট্রের সংবিধান থাকে যা মান্য করা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আবশ্যক। যে ব্যাক্তি তা মান্য করে না তাকে বলা হয় রাষ্ট্রদ্রোহী যার শাস্তি ফাঁসি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড।

কুরআন আল্লাহর কালাম ইহা সমস্ত মানুষের জন্য সংবিধান, যখন দুনিয়ার নিয়মে শাস্তি এতো ভয়ানক তাহলে ভাবুন পুরো বিশ্ব, আকাশ এবং সকল সৃষ্টিজীব এর প্রতিপালক এর বানানো সংবিধানের শাস্তি কি হতে পারে?

মাওলানা উসামা আরো বলেন, ভুল ভ্রান্তি বা গুনাহর কাজ মানুষের দ্বারা হওয়াটাই স্বাভাবিক। যদি কোন গুনাহ হয়ে যায় এবং সাথে সাথে সে তাওবা করে তাহলে ভালো কথা কিন্তু পাপের মধ্যে অনেক পাপ রয়েছে যা খোদাদ্রহিতায় পৌঁছে যায়।

যেমন ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য হবে, প্রয়োজনে শুধু আল্লাহর কাছে চাইবে, এখন যদি আমরা তার মধ্যে অন্য কাউকে শরিক করি তাহলে তা খোদাদ্রহিতা।

মাওলানা আরও বলেন, যখন সাহাবায়ে কেরাম ইরান জয় করে এলেন, তখন নবী করিম সঃ এর কাছে এসে বললেন, ‘সেখানের মানুষ নিজের থেকে সম্মানিত ব্যাক্তিদের সিজদা করে কিন্তু এ জমিনে আপনার চাইতে অধিক সম্মানিত আর কে আছে? আমরাও আপনাকে সিজদা করতে চাই।

কিন্তু নবী কারিম সঃ তাদেরকে এ কাজ করা থেকে বাধা দিলেন কারণ সেজদা শুধু আল্লাহর জন্য অন্য কারো জন্য নয়।

মাওলানা সাহেব ‘বান্দে মা’তারামের প্রসঙ্গ টেনে বলেন ভালবাসা এক জিনিস আর ইবাদত এক জিনিস।
যখন মুসলমান তার সবচাইতে প্রিয়তম দুজনের ইবাদত করতে পারবে না তাহলে কি সে তাকে ভালবাসে না?

এই কথা বুঝার জন্য আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, ‘পড় তোমারা তোমার রবের নামে’ যদি এখান থেকে আল্লাহকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমাদের সমস্ত পরিশ্রম বৃথা যাবে,

তিনি কিছু উদাহারণ পেশ করে বলেন, ‘যদি আমরা ইতিহাস দেখি তাহলে এটা বুঝা যাবে যে পৃথিবীর অনেক অনিষ্ঠতা ও ধংসাত্মক কাজ পড়ালেখা করা শিক্ষিত ব্যক্তিদের কারণে হয়ে থাকে কারণ তারা পড়ালেখা করেছে কিন্তু তা আল্লাহর নামে নয় শয়তানের নামে।

মাওলানা আরও বলেন, দুনিয়ার মর্যাদা ও গৌরব ছাড়াও যে সম্মান আর শান্তি শরিয়তের উপর চলার মধ্যে আছে তা আর কিছুর মধ্যে নেই।

মাওলানা উসামা সাহেব মাদ্রসার জন্য খরচ করণেওয়ালাদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, তারাও যেন আল্লাহর শুকরিয়া করে কারণ আল্লাহ তার পুঁজিগ্রহণ করছেন। তাদের মাধ্যমে সম্পদ খরচ করা আল্লাহর তাওফিক ও ইচ্ছায় তার উপর আল্লাহর অনুগ্রহের ফলেই হচ্ছে।
যদি তোমরা আল্লাহর নবী ও সাহাবা এবং বুযুর্গানে দ্বীনকে মেনে চলে তাহলে শুধু আখেরাতে সম্মান পাবে তা নয় বরং সর্বত্র অটুট থাকবে।

মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা হাফিজুর রহমান আশরাফি বলেন, কুরআনুল করিম বিশ্বে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সংরক্ষিত দুর্গ যে ব্যক্তি তার সাথে যুক্ত হবে সে দুনিয়ার অনিষ্ঠতা থেকে বেঁচে থাকবে। বর্তমানে যত ফিতনা আছে আর যা সামনে আসছে তা সবি কোরআন থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরিণাম।

মাওলানা আরো বলেন, ইসলাম কোন সময়ে বিপদে ছিল না কিন্তু মুসলমান ইসলামি শিক্ষা ছাড়ার কারণে বিপদে পডছে। কোরআন বিশ্বের রুহ যেমনিভাবে রুহ মানুষের শরীর থেকে চলে গেলে মানুষ কিছুই করতে পারে না তেমনি আল্লাহ যখন কোরআন দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিবে তখন সমগ্র বিশ্ব রুহহীন হয়ে পড়বে।

আসমান, যমিন সূর্য পাথর তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে। এই কারণে যে ব্যক্তি কোরআন বা কোরআনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করছে সে তার নিজের ধংসের আয়োজন করছে।

মাওলানা মুহাম্মদ আকরাম জামির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় মুজিবুল্লাহ আরকানের তেলাওয়াতের মাধ্যমে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com